নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 6:06 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বসেছে দুইদিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী শুটকি মেলা। প্রতিবছর বাংলা নববর্ষের দ্বিতীয় দিন থেকে দুইদিন ব্যাপী এই মেলা বসে কুলিকুন্ডা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। এবার মেলায় প্রায় ১ কোটি টাকার শুটকি বেচাকেনার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জনশ্রুতি আছে, প্রায় দুইশত বছর ধরে কুলিকুন্ডা গ্রামে বসছে শুটকি মেলা। কুলিকুন্ডা গ্রামবাসী এ মেলার আয়োজন করে। তবে একসময় বিভিন্ন পণ্যের বিনিময়ে শুটকি কেনাবেচা হলেও ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে এই বিনিময় প্রথা। মূলত শুটকির চড়া দামের কারণে বিনিময় প্রথায় শুটকি বেচাকেনায় আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। তবে প্রথা ধরে রাখতে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঘণ্টাখানেক সীমিত পরিসরে পণ্যের বিনিময়ে শুটকি কেনাবেচা হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত। সকাল থেকেই তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগমনে জমজমাট হয়ে উঠে শুটকি মেলা। তবে এ মেলায় শুধু শুটকিই নয়, লোকজ নানা পণ্যের পসরাও সাজিয়েছেন দোকানিরা। শিশুদের জন্য রয়েছে মাটির তৈরি বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী। রয়েছে হরেক স্বাদের বাহারী খাবার ও নাগরদোলা।
সরেজমিন মেলা ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলের মাঠে সারিবদ্ধভাবে দোকান নিয়ে বসেছেন শুটকি ব্যবসায়ীরা। আর স্কুলের মাঠের বাইরের অংশে বসেছে লোকজ পণ্যের মেলা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শুটকি নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। মেলা ঘিরে কুলিকুন্ডা গ্রামের উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের।
শুটকি মেলায় দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের শুটকিসহ সামুদ্রিক মাছের শুটকিও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি বলছেন ক্রেতারা। আকার ও মানভেদে প্রতিকেজি শুটকি সর্বনিম্ন ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে শোল শুটটি ১৪০০-১৭০০ টাকা, বাইম ১৮০০ টাকা, আইড় ১৬০০-১৮০০ টাকা, টুনা ১৫০০ টাকা এবং ইলিশ শুটকি বেচাকেনা হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি দরে।
মেলায় আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি ছোটবেলায় তার বাবার সাথে প্রথম এই মেলায় এসেছিলেন। প্রতিবছরই মেলা থেকে শুটকি কেনেন। গতবছরের তুলনায় এবার শুটকির দাম কিছুটা বেশি। তবে এখানে বাজারে নেই, বিভিন্ন জাতের মাছের শুটকি পাওয়া যাচ্ছে। দাম যেমনই হোক, মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
হাসিবুর রহমান নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, ফেসবুকে মেলার খবর জেনে তিনি কসবা থেকে এসেছেন। বোয়াল ও শোল মাছের শুটকি কিনেছেন মেলা থেকে। এছাড়া লোকজন বিভিন্ন পণ্যও কিনেছেন বলে জানান তিনি।
মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য হোসাইন আহমেদ বলেন, শুটকি মেলা শুধু কুলিকুন্ডা গ্রামেরই নয়, এটি পুরো জেলার ঐতিহ্য। মেলায় যেন কোনো দোকানি এবং ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কোনো অসুবিধা না হয়- সেজন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশে। এখানে কোনো চাঁদাবাজি নেই। আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে মেলা আয়োজন করা হবে।
Posted ৬:০৬ পিএম | বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya