শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চুরির হিড়িক, দিশেহারা মানুষ

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ৩:১১ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চুরির হিড়িক, দিশেহারা মানুষ
কান পাতলেই চুরির অভিযোগ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চোরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন মানুষ। গ্রাম থেকে শহর, স্বস্তি নেই কোথাও। দিন-দুপুরে বিদুৎতের তার, এসির কপার পাইপ, বাসা-বাড়ির জানালা, সিড়ি কোঠা; এমনকি টয়লেটের জানালার গ্লাসও চুরি হয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙারির দোকানে বিক্রি হচ্ছে এসব মালামাল। কিন্তু এসব দোকানে বা চোর ধরতে পুলিশের কোন পদক্ষেপ না থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সরাইলের শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের খাদেম বাড়ির ৯টি ঘরের বিদুতের তার চুরি হয় একদিনে। কোরবানির ঈদের ২দিন আগে এই চুরির ঘটনা ঘটে। এক সপ্তাহের মধ্যে দু’বার তার চুরি হয় খাদেম বাড়ি থেকে। গ্রামের খাঁ বাড়ির ৩ ঘর, পাঠানবাড়ির ৫ ঘর এবং দক্ষিন খাঁ বাড়ির দুটি ঘর থেকে গত শুক্রবার রাতে তার চুরি হয়। দেওড়া বাজার থেকে এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ৫ দোকানের তার চুরি হয়।
দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা ইয়ার খান জানান, নেশার উপদ্রপ বেশি। নেশাগ্রস্তরাভ চুরির সাথে জড়িত। প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে।
নবীনগরের বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামেও বিদুতের তার চুরির হিড়িক পড়েছে। প্রায় ২ মাসে ৩০/৩৫ বাড়ির তার চুরি হয়। স্থানীয় সুত্র জানায়, গ্রামে দিনদুপুরে বাসাবাড়ির তার চুরি হচ্ছে।
জালশুকা মোল্লাবাড়ির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুমায়ুন, মিজানুর রহমান, মহিন, তামিম, রিজেন, বেলাল মোল্লা, ফরদি বাড়ির মো. আলম, খন্দকার বাড়ির নূরুজ্জামান, সিদ্দিক, ইলিয়াছ, বাচ্চু, খাঁ বাড়ির আবু, বাবু, আওলাদ আলী, রহমত আলী, শামসু মাস্টার বাড়ির টোটন, মধ্যপাড়ার বাতেন, কাদির, জাহাঙ্গীর, হেলাল, নূরে আলম ও আউয়ালের বাড়ির বিদুতের তার চুরু হয় এই কয়েক মাসে। এসব চুরির সাথে গ্রামের চিহ্নিত মাদকসেবী অরুন কর্মকারের ছেলে প্রান্ত কর্মকার, মৃত কাশেমের ছেলে সাগর ও রবিউল্লাহর ছেলে হিরন জড়িত বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।
রড়াইল ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য মজিবুর রহমান জানান, গত ৬ মাস ধরে তার চুরির ঘটনা বেড়েছে। এতে নেশাগ্রস্তদের হাত রয়েছে বলে তার অভিযোগ। জালশুকা গ্রামে ৮/১০জন মাদকসেবী রয়েছে।
জেলা শহরের দাতিয়ারা এলাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের আগে পরে দু’বার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ মে ট্রেজারারের রুমের একটি এসির আউটডোর ইউনিটের সবকিছু খুলে নিয়ে যায় চোর। অডিটরিয়ামের দুটি জানালার থাইগ্ল্যাসও চুরি হয় সেসময়। এছাড়া ঈদের পর কনফারেন্স রুমের দুটি এসি চুরির জন্য খুলে ফেললেও নৈশপ্রহরী সজাগ হয়ে যাওয়ায় তা নিতে ব্যর্থ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, চুরির ঘটনা বারবার ঘটতে থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ এসেছিল বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তকর্মীকে তারা কারণদর্শানো নোটিশও দিয়েছেন।
চুরি হয়েছে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের একটি এসির কপার পাইপ। পার্শ্ববর্তী পরিবার পরিকল্পনা অফিসে কয়েক মাস আগে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের জেনারেটরের তার এবং পানির মোটরের তার চুরি হয়। তখন থানায় জিডি করা হয়। চুরি যাওয়া তারের সংস্থান না হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা নেই অফিসে।
জেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে বলে জানান এক কর্মকর্তা। ফ্যান, দরজা-জানালা খুলে নেয়া হচ্ছে। একেক জায়গায় একেক রকম মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। থানায় জিডি, ইউএনওকে জানালেও কোন প্রতিকার মিলছেনা। জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার অফিসের পানির মোটর চুরি হয়েছে। শহরের ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাঠাগার চত্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ের এসির গ্যাস পাইপ চুরি হয়। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির এসির গ্যাস পাইপও চুরি হয়।
জেলা শহরের একজন এসি মিস্ত্রি ইয়াকুব জানান, গত ১৫ দিনে তিনি চুরি হয়ে যাওয়া ১০টি এসির কপার পাইপ স্থাপন করেছেন।
পুনিয়াউট নয়নপুরে শরীফ মিয়ার অটো গ্যারেজ, ওয়াসিম মিয়ার মোরগের খামারের বিদ্যুতের তার চুরি হয় ঈদের পর। সদর উপজেলার সুহিলপুরে শাহজাহান মাস্টারের বাড়ি থেকে পানির মোটর চুরি হয়। কল ও কলের মাথা, বিদ্যুতের তার চুরি হচ্ছে এই গ্রামে প্রতিদিন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে থাকা জেলা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ আমিনা ফারহিনের শহরের মৌলভীপাড়াস্থ ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে গত ৩০ মে। চোর ফ্ল্যাটের ভেতর ঢুকে দুটি আলমিরার সব মালামাল নিয়ে যায়। এছাড়া  শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়ি থেকে থাই গ্লাসের অ্যালুমিনিয়ামও চুরি হচ্ছে। শহরের টানবাজারের ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণহীন চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
এ দিকে সুহিলপুর, নন্দনপুর ও বিশ্বরোডসহ জেলার বিভিন্নস্থানে ভাঙারি ব্যবসা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানকার ভাঙারি দোকানে নির্বিঘ্নে বিক্রি হচ্ছে চোরাই তামার তার, এসির গ্যাস পাইপ, থাই গ্ল্যাস, অ্যালুমিনিয়ামসহ চোরাই বিভিন্ন মালামাল।
জেলার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ ছিচকে চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্বীকার করেন। এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তাদের অভিযানে মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং নেশাসক্তরা অর্থের জন্য চুরিতে লিপ্ত। প্রতিদিনই এদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভাঙারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কারা এসব মালামাল ক্রয়ের সাথে জড়িত তাদের তালিকা করে অভিযান চালানো হবে।
Facebook Comments Box

Posted ৩:১০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

dainiksarod |