কসবা প্রতিনিধি
প্রিন্ট
রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ৮:৪১ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুই তরুণকে মারধোর করে অপহরণের সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকের মুঠোফোন ও চশমা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি ও দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি মো. সোলেমান খানের সাথে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় তার পকেট থেকে সাড়ে পাচঁ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। পাশাপাশি ওই দুই তরুণের একটি মোটর সাইকেল ও ৩টি মুঠোফোনও ছিনিয়ে তারা।পরে স্থানীয় জনগনের বাধার মুখে ওই দুই তরুণকে ফেলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বায়েক ও কান্দারপাড় গ্রামের হেবজু মিয়ার পুত্র ইভান মিয়া ও ওয়াশিম মিয়ার নেতৃত্বে প্রায় ২০/২৫ জনের সন্ত্রাসীর দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে ঢোকে। এ সময় স্থানীয় ক্রিকেটার ও কলেজ ছাত্র মো. অপু মিয়া এবং মো. অন্তর মিয়াকে বেদড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তারা। সন্ত্রাসীরা কমান্ডো স্টাইলে তাদের অপহরনের চেষ্টা করে। ওই মুহুর্তে কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি ও দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি মো. সোলেমান খান ঘটনাটি তার মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করতে থাকলে সন্ত্রাসীরা তার উপর চড়াও হয়। তারা সাংবাদিকের মুঠোফোন ও চশমা ছিনিয়ে নিয়ে ভেংগে ফেলে এবং পকেট থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া হামলার শিকার মো. অপু মিয়ার দুটি মুঠোফোন ও মো. অন্তরের একটি মোটরসাইকেল, একটি মোবাইল সেট ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
হামলার শিকার অপু মিয়া বলেন, ‘আমরা দুই বন্ধু গিয়েছিলাম হাসপাতালে রোগী দেখতে। সেখানে গিয়ে আকস্মিক ভাবে হামলার শিকার হই। আমাদেরকে তারা উঠিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। এসময় সাংবাদিক কাকা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করলে তারা উনার সাথে খারাপ ব্যবহার করে মুঠোফোন ও চশমা ভেংগে ফেলে।’
কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন সাংবাদিকদের জানান, ‘ইভান ও ওয়াসিমের নেতৃত্বে যারা এসেছিল এরা সবাই খারাপ প্রকৃতির। সীমান্ত এলাকায় তারা নানা রকম অপকর্মে জড়িত। তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমি কসবা থানার অফিসার ইনর্চাজকে বলেছি।’
এই বিষয়ে কসবা উপজেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক মুন্সী রুহুল আমিন টিটু বলেন, ‘কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন মাদকসেবী, চোরা কারবারী ও দালালদের নিকট জিম্মি।’
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন ডা. একরামউল্লাহ বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন ঘটনা খুবই নিন্দনীয়।আমি এ বিষয়ে পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছি।’
কসবা থানা পুলিশের অফিসার ইনর্চাজ রাজু আহমেদ বলেন, ‘এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
Posted ৮:৪১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya