নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 7:35 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতটি বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ছয়টি বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ এবং দুটি বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একটি বিদ্যালয়ে ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র আটজন।
এদিকে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় জেলায় এবার পাসের হার গত বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বছর জেলায় পাসের হার ৬৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪৯৯ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬১২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ কমেছে ১১৩টি। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৭১৪ জন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় মোট ২৫ হাজার ৫৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১৭ হাজার ৭২২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৭ হাজার ৮১২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৪৯৯ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিজয়নগর উপজেলার ছতরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে দুজন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। বিজ্ঞান বিভাগে ২৫ জনের মধ্যে পাস করেছে নয়জন। বিদ্যালয়টির সার্বিক পাসের হার ৩০ শতাংশ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, অবহেলা এবং অভিভাবকদের উদাসীনতার কারণে এমন ফল হয়েছে। ফরম পূরণের পর অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনার চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩৩৪ জন শিক্ষার্থী ও ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষকদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে রসায়ন, কৃষিশিক্ষা ও হিসাববিজ্ঞানের একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। অন্যরা মানবিক বিভাগের শিক্ষক।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশরাফবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয়জনের কেউ পাস করেনি। তবে বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন পাস করেছে এবং তাদের আটজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মানবিক বিভাগে ১৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৩ জন। বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৬৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের আইডিয়াল হাই একাডেমির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল তিনজন। তাদের কেউ পাস করেনি। বিজ্ঞান বিভাগে সাতজনের মধ্যে ছয়জন পাস করেছে, যাদের দুজন পেয়েছে জিপিএ-৫। মানবিক বিভাগে ১৫ জনের মধ্যে পাস করেছে পাঁচজন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৪৪ শতাংশ।
কসবা উপজেলার কায়েমপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল চারজন। তাদের কেউ পাস করেনি। বিজ্ঞান বিভাগে ২৩ জনের মধ্যে ১৪ জন এবং মানবিক বিভাগে ৩৫ জনের মধ্যে ১৯ জন পাস করেছে। বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৫৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।
নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। তবে বিজ্ঞান বিভাগের ১১ জনই পাস করেছে। এ বিভাগ থেকে তিনজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মানবিক বিভাগে ৩৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৪ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৭২ দশমিক ৯২ শতাংশ।
একই উপজেলার ভলাকুট ক্ষেত্রনাথ বিশ্বাস উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজনও পাস করতে পারেনি। বিজ্ঞান বিভাগে ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জন এবং মানবিক বিভাগে ৫১ জনের মধ্যে ৪১ জন পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৮৪ দশমিক ২১ শতাংশ।
শ্রীঘর এসইএসডিপি মডেল স্কুলের ফলও বেশ হতাশাজনক। বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র আটজন। মানবিক বিভাগের ৩১ জনের মধ্যে পাস করেছে সাতজন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের চারজনের মধ্যে একজন। বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম বনলতা বিপিন গার্লস হাইস্কুলের মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ১১ জন। তাদের কেউ পাস করতে পারেনি। বিজ্ঞান বিভাগে চারজনের মধ্যে দুজন এবং অন্য একটি বিভাগে চারজনের মধ্যে দুজন পাস করেছে। মোট ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে চারজন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য , ‘আমরা ফলাফল সংগ্রহ করছি। ফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে বিদ্যালয়গুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। সরেজমিনে বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনও করা হবে।’
শিক্ষাবিদেরা বলছেন, কোনো নির্দিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি শুধু শিক্ষার্থীদের দায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষকসংকট, নিয়মিত উপস্থিতি, অভিভাবকের নজরদারি ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব বিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে ফল খারাপ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে নজরদারি ও একাডেমিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি।
Posted ৭:৩৫ পিএম | বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya