আপডেট

x

হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করতে এমপি মোকতাদিরের আলটিমেটাম

শনিবার, ২২ মে ২০২১ | ৯:২৭ অপরাহ্ণ | 133 বার

হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করতে এমপি মোকতাদিরের আলটিমেটাম

তান্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থানীয় কমিটির সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর মামলার আবেদন নথিভুক্ত করতে তিনি সময় বেধে দিয়েছেন। শনিবার রাতে র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে থেকে একটি পোষ্টে তিনি এই সময় বেধে দেন।


তিনি তার ফেসবুক আইডিতে ইংরেজিতে স্ট্যাটাসটি দেন। এতে তিনি লিখেন, ‘ আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় দায়ের করা মামলার আবেদনটি নথিভুক্ত করতে চাই। এটি নিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে এটি নথিভুক্ত না করলে আমি আদালতে মামলাটি দায়ের করব। এটি আমার আল্টিমেটাম’।

webnewsdesign.com

এই বিষয়ে র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে আল্টিমেটামের বিষয়টি স্বীকার করে জাগোনিউজকে বলেন,’ আমি আল্টিমেটাম দিয়েছি। যদি আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে আমার মামলা নথিভুক্ত না করা হয়, তাহলে আদালতে মামলা দায়ের করবো’।

উল্লেখ্য, গত ১মে হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং সাধারন সম্পাদক মাওলানা মোবারক উল্লাহ সহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১ থেকে দেড়শ জনকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি বাদি হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন।

মামলার উল্লেখিত প্রধান দুই আসামী ছাড়াও আরও ১২ জনের নাম উল্লেক করা হয়েছে। এরা হলেন, মাওলানা আশরাফুল হোসেন তপু, বোরহান উদ্দিন কাসেমী, মাওলানা আলী আজম, মাওলানা এরশাদ উল্লাহ, মাওলানা জুনায়েদ কাসেমী, মাওলানা নোমান আল হাবিব, মমিনুল হাসান তাজ, সুলেমান মোল্লা, মাওলানা এনামুল হক মাওলানা আব্দুল হাকিম, মাওলানা মনজুরুল হক ও খালেদ মোশাররফ। এছাড়া আরো অজ্ঞাত এক থেকে দেড়শ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরনীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি  র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারকিয় তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা। তারা তান্ডব চালিয়ে বৈধ সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গান পাওডার সহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করেন। এর আগে হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং সাধারন সম্পাদক মাওলানা মোবারক উল্লাহ সহ অন্যান্য আসামীদের নির্দেশে বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ, আইডি ও নিউজনপোর্টালে সাইবার সন্ত্রাস সংগঠিত করে রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক, বিদ্বেষ ও ঘৃনা মূলক স্ট্যাটাস প্রদান করে জনসাধারনের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।এর মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইন শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি ঘটে।


শুধু তাই নয়,”মামলার এজাহারনামীয় আসামী সহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা  উপস্থিত থেকে ইলেকট্রনিক্স বিন্যাসের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা তথ্য সংগ্রহ করে তাদের বক্তব্য জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ার নিজস্ব ফেইসবুক পেইজে প্রচার করে। এরই এক পর্যায়ে তারা গত ৩১মার্চ  আসামীগণ তাদের ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া এর মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য প্রদান করে বাদী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে ঘটনাকে ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি ঘটনার দায়ভার তার উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।

আসামিদের এরূপ বক্তব্য তাহাদের ডিজিটাল বিন্যাসের মাধ্যমে জাতীয় ও স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া প্রকাশ ও প্রচার করেন তারা। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে শত্রুতা ঘৃণা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। এতে  আইনশৃংখলার চরম অবনতি হয়। পাশাপাশি সমগ্র দেশে ও বহির্বিশ্বের আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে আমি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা চালায়। যাহা ২০১৮ইং সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর ধারা অপরাধ সংগঠিত করে। বিষয়টি আমাকে সাক্ষিরা অবগত করলে ঘটনার দ্বিতীয় তারিখ (২৭ মার্চ) ও সময়ে ঘটনাস্থলে আমি উক্ত বক্তব্য দেখে স্ক্রিনশট নিয়ে হার্ড কপি সংগ্রহ করি। এসব স্কিন শর্ট মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।

এই বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. রইছ উদ্দিন জাগোনিউজকে বলেন, ‘এমপি মহোদয়ের মামলাটি নথি ও জব্দ করা আলামত আমরা সাইবার বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়েছি। খুব শীঘ্রই তারা আমাদের কাছে তাদের মতামত পাঠাবেন। তাদের মতামত হাতে পেলেই আমরা আইনত পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবো।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com