হেফাজতের তান্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পরিষদের ক্ষতি ৫ কোটি: চেয়ারম্যান

সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১ | ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ | 104 বার

হেফাজতের তান্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পরিষদের ক্ষতি ৫ কোটি: চেয়ারম্যান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাপরিষদে হেফাজতে ইসলামের তান্ডবে ক্ষতি প্রায় ৫ কোটি টাকা। হামলায় স্থাপনা সংস্কার করতে প্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিকুল আলম। তিনি রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদে আয়োজিদ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন, জেলাপরিষদ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এ জেলাপরিষদ থেকে জেলাজুড়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ তথা রাস্তা-ঘাট,পুল,কালভার্ট, স্কুল কলেজ মসজিদ,মাদ্রাসা, মন্দিরের নির্মাণ সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজসহ বিবিধ জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পাদন করে থাকে। কিন্তু গত ২৬মার্চ হেফাজত ইসলাম কর্তৃক বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে ঐদিন বিকেল সোয়া ৪টায় বিভিন্ন স্থান থেকে ৪০০থেকে ৫০০ মাদ্রাসার ছাত্র এবং দুষ্কৃতিকারী জেলাপরিষদের কাউতলী ডাকবাংলোর প্রধান ফটক ভেঙ্গে নীচতলার প্রধান গেইট ও দুইদিকের বাউন্ডারী ওয়ালের গ্লীল ভেঙ্গে প্রবেশ করেই প্রথমত ৮টি সিসি ক্যামেরা, বড় আকারের ডিজিটাল এলএডি বোর্ড ভেঙ্গে ফেলে, ডাকবাংলোর আঙ্গিনায় নির্মিত জাতীয় প্রতীক শাপলা এর চতুরদিকের এসএস পাইপ ভেঙ্গে ফেলে এবং শাপলার বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এ অবস্থা দেখে ডাকবাংলোয় অবস্থানরত ৩জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দারোয়ান কাম-কেয়ারটেকার কোন রকমে আত্মরক্ষা করে এবং ৩য় তলার উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ১জন শ্রমিক ৩য় তলা থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যায় এবং গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এরপর বিক্ষোভকারীরা ডাকবাংলোর কলাপসিপল গেইট ও বারান্দার গ্লীল ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ডাকবাংলোটি ব্যাপক ভাংচুর করে এবং অগ্নি সংযোগ করে। অগ্নি নির্বাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার টেলিফোন করা হলেও বিক্ষোভকারীদের কারণে অগ্নি নির্বাপক গাড়ী বের করতে না পারায় একপর্যায়ে অপারগতা প্রকাশ করেন।

webnewsdesign.com

তিনি বলেন, এরপর গত ২৮ মার্চ হেফাজত ইসলামের কর্মীরা অতর্কিতভাবে জেলাপরিষদের মূল ফটকটি জোরপূর্বক ভাবে ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করেন। প্রবেশ করার সাথেই জেলাপরিষদ আঙ্গিনায় নির্মিত জাতির জনকের ম্যুরালের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদ্রাসার ছাত্র ও দুষ্কৃতিকারীরা ব্যাপক ভাংচুর শুরু করে এবং জেলাপরিষদ ভবনের নীচতলায় অগ্নিসংযোগ করে। নীচতলার গ্যারেজ ভেঙ্গে গ্যারেজে রাখা গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গাড়ীটি পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়।

এসময় জেলা পরিষদের নির্বাহী আমিনুল ইসলাম ও সচিব মেহের নিগার সহ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com