আপডেট

x

হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব ব্রিটেনের

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০ | ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ | 105 বার

হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব ব্রিটেনের

হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাজ্য। চীনের পার্লামেন্ট হংকং-এর বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন পাসের পর এ সিন্ধান্তের কথা জানায় ব্রিটেন।


মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত বিলটি পাসের দিনই এতে স্বাক্ষর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বুধবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, এরপরই ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ওই ভূখণ্ডের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে যুক্তরাজ্যে থাকার ও কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, নতুন নিরাপত্তা আইনে হংকং-এর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। যারা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদের যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ দেওয়া হবে। তারা পাঁচ বছরের জন্য আসতে পারবে। এর পর নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করতে পারবে।

ব্রিটিশ সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন।

তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নতুন আইনটি পাস করে হংকং-এর কর্তৃপক্ষ ১৯৮৫ সালের সিনো-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণা লঙ্ঘন করেছে।


১৫০ বছর ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং-কে চীনের কাছে ফেরত দেয় যুক্তরাজ্য। তখন থেকে অঞ্চলটি ‘এক দেশ, দুই নীতি’ পদ্ধতির আওতায় স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করে আসছে।

বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হংকংকে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন। এই সময়ে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি বাদে অন্য সব বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতে পারবে অঞ্চলটি।

তবে গত বছর অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সেখানে বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় বেইজিং। এখন এর দোহাই দিয়ে আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির ওপর বাড়তি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পাবে চীন। হংকং-এর গণতন্ত্রপন্থীরা এই আইনকে হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কোনও কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অঞ্চলটির চীনা মনোনীত প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম।

এর আগে গত মাসে চীনা কর্তৃপক্ষ হংকংয়ে নতুন নিরাপত্তা আইন জারির ঘোষণা দিয়ে প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থীরা। ওই ঘোষণার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসেন তারা।

নতুন এ নিরাপত্তা আইন হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের জন্য কোনও হুমকি নয় বলে দাবি বেইজিংয়ের। চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদ, বৈধ সরকার পতনে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় এ আইনের অনুমোদন দিয়েছে পার্লামেন্ট।

অন্যদিকে গণতন্ত্রপন্থীদের দাবি, এ আইন অঞ্চলটির বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসা রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিসমাপ্তি ঘটাবে। সূত্র: বিবিসি।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com