আশুগঞ্জে বন্দুকযুদ্ধে নিহত একজন

সড়কে পণ্যবাহী গাড়ি ডাকাতি করতো তারা

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৮:৪২ পিএম | 155 বার

সড়কে পণ্যবাহী গাড়ি ডাকাতি করতো তারা

মূল্যবান ভুক্তা পণ্য ও মালামাল ডাকাতি করাই তাদের পেশা। সড়ক দিয়ে কোন ট্রাক, লরি বা সিএনজি যোগে কেউ মালামাল নিয়ে গেলেই তারা লুট করে নিয়ে যেত। অবশেষে পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত ও অভিযানের পর আটক করা হলো এই সংবদ্ধ ডাকাত দলটিকে। বুধবার ভোরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে তাদের প্রধান দল নেতা সাদ্দাম হোসেন (২৬) নিহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় ওই দলের তিনজনকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হয় আরো একজনকে।

এসব তথ্য জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।

বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি।

এসময় তিনি বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আখাউড়ার খরমপুর থেকে দুস্কৃতিকারিরা যাত্রী বেশে চালক হাফিজ মিয়ার সিএনজিতে উঠে। পরে বিজয়নগরের আলাদাউদপুরে হাফিজ মিয়াকে হত্যা করে সিএনজিটি তার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গত ৬ অক্টোবর রাতে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সুলতানপুরে ১৬ টন চিনি সহ একটি ট্রাক ডাকাতি করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তারা ট্রাকের চালককে ছুড়িকাঘাত করে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে যায়। পরে পুলিশ ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ও নবীনগরের কৃষ্ণনগর থেকে ৩২০ বস্তা চিনির মধ্যে ২৯৬ বস্তা চিনি উদ্ধার করে। এছাড়াও গত ২৭ অক্টোবর রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেরতলা থেকে একটি ডিম ভর্তি পিকআপ ডাকাতি করে নিয়ে যায়। পরে শহরের মেড্ডা থেকে পুলিশ ডিম সহ পিকআপটি উদ্ধার করে।

 

এসব ঘটনায় তদন্তকালে মঙ্গলবার মধ্যরাতে জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা জানতে পারেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডাকাতি করতে একদল ডাকাত আশুগঞ্জের যাত্রাপুরে জড়ো হচ্ছে। এখবরের ভিত্তিতে ডিবি, আশুগঞ্জ ও সদর থানার পুলিশ যাত্রাপুরের চাপরপুর এলাকায় তাদের ধরতে গিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতের দল উপর্যপুরি শুরু করে, পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এসময় পালিয়ে যাওয়ার সময় সদর উপজেলার বিরাসার এলাকার শামছুল হকের ছেলে আকাশ মিয়া (২৭), সরাইল উপজেলার নাথপাড়া এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৫) ও উচালিয়াপাড়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) পুলিশ আটক করে। কিছুদূর সামনে খালি জায়গায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আটকরা জানায়, মরদেহটি সরাইলের বেপারী পাড়ার কাঙ্গাল মিয়ার ছেলে সাদ্দামের।

ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি সিএনজি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে পুলিশ পিস্তলের ৪রাউন্ড ও শটগানের ১১রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এসময় আহত হয় ৪পুলিশ সদস্য।

পরে আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে শহরের পৈরতলার শাহজাহান মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়৷ সে আনন্দ বাজারের ব্যবসায়ী। বাবুল ডাকাতির মালামাল তাদের কাছ থেকে কম দামে কিনে বিক্রি করতো।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ (প্রশাস)  আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) আবু সাঈ,  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মকবুল হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আলাউদ্দিন চৌধুরী, ডিআইও-১ ইমতিয়াজ আহমেদ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন, আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ ও সদর থানার পরিদর্শক ( তদন্ত)  আতিকুর রহমান ছাড়াও বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

 

-রাফি/-

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com