সরাইলে যত্রতত্র কিন্ডারগার্টেন, নিয়ম উপেক্ষা করছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা

সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১১:৩৭ পিএম | 215 বার

সরাইলে যত্রতত্র কিন্ডারগার্টেন, নিয়ম উপেক্ষা করছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা

সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একের পর এক কিন্ডারগার্টেন অনুমোদন দিচ্ছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যে কিন্ডারগার্টেন নির্মাণে বিধিনিষেধ থাকলেও যত্রতত্র গড়ে উঠছে কিন্ডারগার্টেন। উপজেলার অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষেই নির্মাণ হয়েছে কিন্ডারগার্টেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে মূলত অর্থ বাণিজ্যই এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশ্য।

জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সর্বশেষ ‘মেঘাল আদর্শ কিন্ডারগার্টেন’ নামে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রায় চূড়ান্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত ‘পাঠশালা মডেল স্কুল’ নামে আরেকটি কিন্ডারগার্টেন অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দু’টি উপজেলার পাকশিমুল গ্রামে অবস্থিত। পাকশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ‘মেঘাল আদর্শ কিন্ডারগার্টেন’ এর দুরত্ব ৪০০ গজের মধ্যে। আর ‘পাঠশালা মডেল স্কুল’ এর দূরত্ব ১০০ গজের মধ্যে। অভিযোগ আছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘মেঘাল আদর্শ কিন্ডারগার্টেন’ প্রতিষ্ঠানের মালিক পাকশিমুল ইউপি ছাত্রদলের সভাপতি তানভীর আহমেদ এবং প্রতিষ্ঠানটি যেখানে নির্মাণ হচ্ছে সেটি গ্রামের কবরস্থান। তবে তানভীর আহমেদের দাবি, সেই জায়গা কবরস্থানের নয়, এটি ঈদগাহ’র জায়গা। এখানে একটি আলেয়া মাদ্রাসার ভবন ছিল, সেখানেই কিন্ডারগার্ডেন নির্মাণ করা হচ্ছে। আমাদের আবেদনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ রয়েছে। এখানে প্রায় ৪০০ শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত।

এদিকে প্রস্তাবিত ‘পাঠশালা মডেল স্কুল’ কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠছে ৭/৮ বছরের একটি পোল্ট্রি ফার্মের পুরনো টিনশেড ভবনে। তবে এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক পরিচয় দিয়ে পাকশিমুল গ্রামের জুনাঈদ আহমেদ বলেন, আমরা এখনও অনুমোদন পাইনি। প্রতিষ্ঠানের তিনটি নাম দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন করা সহ সকল দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে। আমরা নতুন বছর থেকে শুরু করবো এবং শিক্ষার্থী সংগ্রহ করছি।

পাকশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেভা রাণী দাস বলেন, আমি অনাপত্তি দিয়েছি শুধু মেঘাল আদর্শ কিন্ডারগার্টেনের। আর অন্য কোন কিন্ডারগার্টনের বিষয়ে আমার জানা নেই।

এব্যাপারে উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনা আছে, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর পার্শে যাতে নতুন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখার।” কিন্তু আমরা করবো কি ? এমপি সহ রাজনৈতিক নেতাদের তদবির এসব স্কুল অনুমোদন দিতে হবে। আমরা এখানে চাকুরি করবো, নাকি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনা মানবো’ বুঝতেছি না।

সরাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ বলেন, উপজেলার পাকশিমুল এলাকায় নিয়মনীতি অনুসরণ করেই ২/৩টি কিন্ডারগার্টেন এর অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেই এলাকার সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অনাপত্তি দেখেই অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এখানে অনিয়ম থাকলে সেই প্রধান শিক্ষক জবাবদিহি করবে। আমাদের এতোকিছু খতিয়ে দেখার সময় নেই।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com