আপডেট

x

সরাইলে দীর্ঘদিনেও দোকানের চুক্তির কাগজ না দেওয়ার অভিযোগ, আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা

বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৯:৩০ অপরাহ্ণ |

সরাইলে দীর্ঘদিনেও দোকানের চুক্তির কাগজ না দেওয়ার অভিযোগ, আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
Spread the love

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসের কথা বলে সরকারি জায়গা লিজ এনে বানিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সেই মার্কেটের নিচতলা ৪৯টি দোকান বিনা কাগজে বরাদ্ধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বরাদ্ধপ্রাপ্ত দোকান মালিকদের অভিযোগ,  দীর্ঘদিনেও দোকানের বরাদ্দের চুক্তির কাগজ বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো জামানতের টাকা ও ভাড়া বৃদ্ধি করতে চাপ প্রয়োগ করছেন অভিযুক্তরা। পাশাপাশি এই মার্কেটের দুতলায় আরও ৪৯টি দোকান অবৈধ ভাবে নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাতে পায়তারা করছেন তারা।

এসব ঘটনায় ৪৯টি দোকানের মধ্যে ৩১টি দোকানের ২৫জন ভুক্তভোগী দখলদার মালিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হামিদুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক শেখ সাদিকে। এই মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক মো. শাহেদ আলম গত ২১ সেপ্টেম্বর সেই মার্কেটে স্থাপনা তৈরি ও ভাড়া বৃদ্ধি সহ না করতে এবং উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন।

webnewsdesign.com

তবে অভিযুক্তদের দাবি, নিয়ম মেনে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমান দোকান মালিকদের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নবায়ন করতে বলা হয়েছে।

আদালতে দাখিল করা নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি জায়গা ছাত্রাবাস নির্মাণের শর্তে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করে ভূমি মন্ত্রণালয়। বন্দোবস্ত পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি সেই জায়গায় নিচতলায় মার্কেট ও উপরের তলায় ছাত্রাবাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যবস্থাপনা কমিটি নিচতলায় ৪৯ দোকানের স্থায়ী পজিশন বরাদ্ধ দেয় কোন প্রকার টেন্ডার আহবান না করে। এতে করে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। ৪৯টি দোকানের পজিশনের জন্যে দেড় কোটি টাকা বরাদ্ধপ্রাপ্ত মালিকদের কাছ থেকে নেন অভিযুক্তরা। এই টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা মার্কেটটি নির্মাণে ব্যয় হয়। বাকি এক কোটি টাকা প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেছেন। ২০০৬ সালে দোকানের বরাদ্ধ পাওয়া মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিলেও তাদেরকে ২০১৪ সালে দোকানের পজিশন বুঝিয়ে দেয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক। এসময় স্থায়ী ভাবে দোকান বরাদ্ধের চুক্তির কথা বলে পজিশন মালিকদের কাছ থেকে খালি ষ্ট্যাম্পে সাক্ষর নেন প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সভাপতি। এরপর থেকে দোকান মালিকরা ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু অসংখ্যবার দোকানের পজিশনের মালিকানার কাগজ বুঝিয়ে দিতে বললে তারা টালবাহানা করে আসছেন।

এদিকে, চলতি বছরের গত ২২ আগস্ট মার্কেটের ২য় তলায় ছাত্রাবাস নির্মাণ না করে আরও ৪৯টি দোকান নির্মাণ করে বরাদ্ধের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন প্রধান শিক্ষক।  সেখানে প্রতি দোকানের পজিশনের জন্যে সর্বনিম্ন সাড়ে ৬ লাখ টাকা এবং প্রতিমাসের ভাড়া দুই হাজার টাকা হারে নির্ধারিত করা হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের কমিটি ও প্রধান শিক্ষক দোকান বরাদ্ধের জামানতের টাকা এবং ভাড়া বৃদ্ধি করার কথা জানিয়ে চিঠি প্রদান করেছে দোকান মালিকদের।

এই অবস্থায় ২য় তলায় মার্কেট নির্মাণ, দোকানের জামানত ও ভাড়া বৃদ্ধির চিঠি বেআইনি ঘোষণা করতে এবং দোকান মালিকদের স্থায়ী বরাদ্ধের চুক্তি প্রদান করতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন ৩১টি দোকানের ২৫জন মালিক। এরই প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক মো. শাহেদ আলম গত ২১ সেপ্টেম্বর সেই মার্কেটে স্থাপনা তৈরি ও ভাড়া বৃদ্ধি না করতে এবং উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শেখ সাদি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি লিজ পেয়েছি। বর্তমান দোকান মালিকদের সাথে ৮ বছরের চুক্তি ছিল। তাদের সাথে চুক্তির কাগজ আমাদের কাছে। তাদের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুনরায় তাদেরকে চুক্তির কথা বলা হয়েছে।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী মোখলেছুর রহমান জানান, বিজ্ঞ আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে ৭দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com