সরাইলে কলেজ ছাত্র ইকরাম হত্যা মামলায় প্রধান আসামীসহ দুই ভাই গ্রেফতার

বুধবার, ১৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯:৩৮ অপরাহ্ণ | 153 বার

সরাইলে কলেজ ছাত্র ইকরাম হত্যা মামলায় প্রধান আসামীসহ দুই ভাই গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কলেজ ছাত্র মোঃ ইকরাম হোসেন(১৭) হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামী মোঃ শিমুল(২৮) ও তার ছোট ভাই সোহাগ মিয়া(২৪)কে আটক করেছে র‍্যাব। বুধবার বিকেলে জেলার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। তারা দুইজন জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বারজীবিপাড়ার মৃত রবিউল্ল্যাহর ছেলে।
বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা সাংবাদিকদের সামনে প্রধান দুই আসামী মোঃ শিমুল ও তার আপন ছোট ভাই সোহাগকে হাজির করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের ও সিনিয়র এডি চন্দন দেবনাথ।

গত রোববার সকালে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বারজীবীপাড়ায় খালাতো বোনের বাসার খাটের নিচে থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় কলেজ ছাত্র ইকরামের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সে ওই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে ও সরাইল সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সরাইল থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় আসামী ইমরানুল হাছান সাদী(১৯), নাজিম উদ্দিন(৫৫) ও নাজমা বেগম(৪০) গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরমধ্য থেকে আসামী ইমরানুল হাছান সাদী(১৯) উল্লেখিত ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপরই বের হয়ে আসে হত্যাকান্ডের রহস্য।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খালাতো বোন লাভলী আক্তারের স্বামী প্রবাসী হওয়ায় মোঃ ইকরাম হোসেন ছোটবেলা হতে খালাতো বোনের বাড়ীতে অবস্থান করে পড়ালেখা করে আসছিল। লাভলী আক্তারের মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমিন ও ভিকটিম মোঃ ইকরাম হোসেন উভয়ে সরাইল ডিগ্রী কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করতো। সুমাইয়াকে প্রতিবেশী শিমুল প্রায় সময় ইভটিজিং করতো। এসব বিষয়ে ইকরাম প্রতিবাদ করতো।

গত প্রায় ১০মাস আগে সুমাইয়া ইয়াসমিনকে ইভটিজিং করাকালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসামী শিমুলকে আট মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন, এসময় ইকরাম উপস্থিত ছিলেন। গত ঈদ-উল-ফিতর-২০১৯ এর পূর্বে সাজাপ্রাপ্ত শিমুল জেল হতে ছাড়া পায়। ভিকটিম ইকরামের ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদী। পূর্বে কোন এক সময় তার ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদীকে মারধর করেছিল বিধায় ইকরামের প্রতি তার ক্ষোভ থেকে যায়। অপর দিকে মোঃ শিমুল ইভটিজিং এর ঘটনায় কারাভোগের কারণে ভিকটিমের উপর ক্ষিপ্ত ছিল। ইমরানুল হাছান সাদী মাঝেমধ্যে ইকরাম হোসেনের সাথে রাতে ঘুমাতো।

গত ২/৩ মাস পূর্বে ইকরামের ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদী ও মোঃ শিমুল স্থানীয় বিলের মধ্যে মিলিত হয়ে ভিকটিম মোঃ ইকরাম হোসেনকে খুনের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনামতে গত ১০ আগস্ট রাতে ইমরানুল হাছান সাদী ইকরামের সাথে ঘুমানোর জন্য বাড়িতে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে ভোররাত ৩টার দিকে ইমরানুল হাছান সাদী ঘরের দরজার সিটকারী খুলে দিলে মোঃ শিমুল ও তার ভাই সোহাগ দা,ছুরি,বস্তাসহ ঘরে প্রবেশ করে। ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদ ভিকটিমের পা চেপে ধরে অপর দিকে মোঃ শিমুল ও সোহাগ দা, ছুরি, ঘরে থাকা বটি দা দিয়ে ভিকটিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের লাশ গুম করার জন্য প্লাস্টিকের বস্তায় বেধে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কালে ভোরের আলোর কারণে লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে চলে যায়।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com