শুক্রবার আ’লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন, সেক্রেটারি পদ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:০৩ অপরাহ্ণ | 135 বার

শুক্রবার আ’লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন, সেক্রেটারি পদ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দু’দিনব্যাপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করবেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা।

এরই মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে শোভা পাচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। পাশাপাশি লাগানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্রসংবলিত ফেস্টুন।


মঞ্চ এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যেন দেখে মনে হবে পদ্মা নদীর মাঝে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পাশে ভাসমান পাল তোলা নৌকায় বসে সম্মেলন হচ্ছে। নিচের জলরাশিতে ভাসমান বিশাল পাল তোলা নৌকা। সেই নৌকায় লেখা ২১তম জাতীয় সম্মেলন-২০১৯। এর ঠিক পেছনেই আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশাল ছবি। আরও আছে জাতীয় চার নেতা ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ছবি। আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের মূল মঞ্চ এভাবেই তৈরি করা হয়েছে। মূল মঞ্চের পেছনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ছবি ছাড়াও ঠাঁই পেয়েছে জাতীয় চার নেতা- তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম এ মনসুর আলী এবং এএইচ এম কামারুজ্জামানের ছবি। এছাড়া আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম চার নেতা- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবি আছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এবারের সম্মেলন জাঁকজমকপূর্ণ নয়, বরং সাদামাটাভাবে আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে কোনো ধরনের সাজসজ্জা হবে না। সম্মেলনে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার কাউন্সিলর, ডেলিগেটস ও নেতাকর্মী অংশ নেবেন।’

নেতাকর্মীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা এবং সরকারে তার অপরিহার্যতার কারণে রেকর্ড নবমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে একেবারেই দ্বিমত না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন, সেটিই এখন দলের সব স্তরে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন।  যদিও কে আসছেন এই পদে-তা নিয়ে কোনো ধরনের ইঙ্গিত মিলছে না।

গত কয়েকদিন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এবং দলের কার্যালয় ঘুরে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি সম্মেলনের আগে সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, সেটি নিয়ে কিছুটা ধারনা পাওয়া গেলেও এবার সেই সুযোগ নেই। সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম আলোচনায় আছে, তারাও তো বটেই, নীতি নির্ধারনী পর্যায়েরও কারো কাছে কোনো তথ্য নেই। কেউ কেউ বিভিন্ন নেতার পক্ষে নিজের মতো করে যুক্তি দাঁড় করিয়ে পদটির জন্য যোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদটি এবার সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে রাখছেন শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিয়ে সম্মেলনে নেতাকর্মীদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে শতগুন।

সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এবার আলোচনায় আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আজমত উল্লাহ খান।

প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে আওয়ামী লীগের। এসব সম্মেলনে খন পর্যন্ত সভাপতি হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ আটবার, আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুইবার এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও আবদুল মালেক উকিল একবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন একবার নির্বাচিত হয়েছেন দলের আহ্বায়ক।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১০ জন। সবচেয়ে বেশি চারবার করে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিল্লুর রহমান। এছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ তিনবার, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দুইবার করে, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, আবদুল জলিল এবং ওবায়দুল কাদের একবার করে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com