লুটে নেওয়া মাছ বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লো ডাকাতের দল

রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১০:৩৭ পিএম | 251 বার

লুটে নেওয়া মাছ বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লো ডাকাতের দল

গত ২২শে সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার তন্তরে পিকআপ ভর্তি মাছ ডাকাতির ঘটনায় ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।

আটকরা হলেন, সদর উপজেলার বিরাসার গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে মোঃ কাউয়ুম, পুনিয়াউটের বাহার চিশতির ছেলে জুনাইদ বাহার প্রকাশ আকাশ, ফুলবাড়িয়া এলাকার ফারুকের ছেলে সালাহ উদ্দিন (২৪) ও ঢাকার সাভার থানার মৃত সোলেমানের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, ময়মনসিংহের মাছ ব্যবসায়ী মোঃ নজরুল ইসলাম ঘটনার রাতে ঈশ্বরগঞ্জ হতে পিকআপ দিয়ে পাবদা মাছ নিয়ে কুমিল্লা কোম্পানীগঞ্জ যাচ্ছিলেন। দিবাগত রাত পথিমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন পুনিয়াউট রেলক্রসিং এর কাছাকাছি পৌছলে পিছন দিক হতে একটি পিকআপ মাছ ভর্তি উক্ত পিকআপকে অনুসরণ করে। মাছ ভর্তি পিকআপটি আখাউড়া থানাধীন ধরখার এলাকার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের তন্তর বাজারের কাছাকাছি সাত পুকুরপাড় নামক স্থানে পৌছামাত্র পিছনে আসা পিকআপটি তাদের পিকআপের সামনে ব্যারিকেড দেয়। মাছ ভর্তি পিকআপটি বাধাপ্রাপ্ত হলে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পড়ে। গতিরোধকারী পিকআপ হতে ৭/৮ জন দুস্কৃতিকারী লোহার রড, চাপাতি, চাক্কু, লোহার পাইপ দিয়ে মাছ ব্যবসায়ী, পিকআপের ড্রাইভার ও হেলপারকে মারপিট করে এবং চাকু দিয়ে চালকের হাটুতে জখম করে। দুস্কৃতিকারীরা এক পর্যায়ে তাদের সাথে থাকা মোবাইল সেট ও পকেটে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রশি দিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে পিকআপে থাকা অনুমান ২৬৬ কেজি পাবদা মাছ দুস্কৃতিকারীদের পিকআপে উঠিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে চলে যায়। আসামীরা চলে যাওয়ার পর তাদের শোর-চিৎকারে রাস্তায় চলাচলরত অন্য পিকআপ গাড়ির ড্রাইভার হেলপার গাড়ি থেকে নেমে তাদের হাতের বাঁধন খুলে দেয়।

এই ঘটনায় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম আখাউড়া থানায় মামলা দায়ের করে। এরপর আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানা পুলিশ ব্যাপকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও পাশ্ববর্তী জেলা সমূহে মাছ বিক্রির হাটে উক্ত মাছ বিক্রির জন্য নেওয়া হয়েছে কিনা মোবাইলে খোঁজ খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ ও মোঃ নজরুল ইসলাম জানতে পারে যে, সরাইল থানাধীন শাহাবাজপুর মাছ বাজারে মোঃ কাউয়ুম উক্ত মাছ বিক্রি করার জন্য অবস্থান করছে। তাৎক্ষনিক মাছ বাজারের লোকজনকে খবর দিলে তারা কাউয়ুমকে আটক করে দ্রুত পুলিশ সেখানে পৌছে কাইয়ুমকে আটক করে। সে জানায় এই ঘটনায় ৭জন জড়িত ছিল। ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সদর মডেল থানা ও আখাউড়া থানার সমন্বয়ে মোট ০৪টি টিম গঠন করে।

গ্রেফতারকৃত কাইয়ুমের দেয়া তথ্য মতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে একযোগে ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে পুনিয়াউটের বাহার চিশতির ছেলে জুনাইদ বাহার প্রকাশ আকাশ, সদর থানার ফুলবাড়িয়ার ফারুকের ছেলে সালাহ উদ্দিন (২৪) ও ঢাকার সাভার থানার মৃত সোলেমানের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫) কে গ্রেফতার করেন। ঘটনায় ব্যবহৃত সালাহ উদ্দিনের পিকআপ ঢাকা মেট্টো-ন-১৮-৭৯৬৯ আটক করেন। উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত মাছের বিক্রয়লদ্ধ ৪৮হাজার টাকা।

অভিযুক্ত জুনায়েদ বাহার ওরফে আকাশ ও কামাল হোসেন বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ পূর্বক জবানবন্দি প্রদান করেন। ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবির, বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার আলাউদ্দিন চৌধুরী, ডিআইও-১ ইমতিয়াজ আহমেদ, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসুল আহমেদ নিজামী, সদর মডেল থানার পরিদর্শক(তদন্ত) আতিকুর রহমা, আখাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল আমিন, সদর মডেল থানার ২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সোহাগ রানা ও ধরখার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদ চৌধুরী।

-রাফি/

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com