মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ কারাগারে

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০ | ৮:১২ অপরাহ্ণ | 114 বার

মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ কারাগারে
ওসি প্রদীপ কুমার দাশ- ফাইল ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ সাত আসামির জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।


কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাত আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন এই আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো সাতজন হলেন- পরিদর্শক লিয়াকত আলি, পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এএসআই লিটন মিয়া।

মামলার বাকি দুই আসামি এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা এখনও পলাতক বলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম জানান।

এর আগে দুপুরে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন।

বেলা ৫টার দিকে প্রদীপ কুমার আত্মসমর্পণের জন্য কক্সবাজার আদালতে আসেন। তার আগেই বিকাল পৌনে ৪ টার দিকে পরিদর্শক লিয়াকতসহ বাকি ছয়জনকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।


আসামি পুলিশ সদস্যদের আদালতে হাজির করার আগে পুরো এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা। সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ওই নিরাপত্তার মধ্যেও আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।

হত্যা মামলা থাকার পরও কেন প্রদীপ কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বলেন, প্রদীপ নিজ থেকেই আদালতের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য পুলিশ পাহারা রয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার ওসি প্রদীপ অসুস্থ দাবি করে ছুটি নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে যান। পরে চট্টগ্রামে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন।

ওসি প্রদীপের বাড়ি চট্টগ্রামে। কক্সবাজারের আগে তিনি চট্টগ্রামের কর্মরত ছিলেন। ওই সময় জায়গা দখলসহ নানা অভিযোগ ওঠায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর পুলিশ তল্লাশিচৌকিতে গত ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে গতকাল বুধবার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন নিহত ব্যক্তির বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ মামলাটি গ্রহণ করেন। তিনি এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে সাত দিনের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলাটি তদন্ত করে আদালতকে জানানোর জন্য র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ওই মামলা করার পর বিকালে টেকনাফ থানা থেকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রত্যাহার করা হয়। পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ ২০ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয় দুদিন আগেই।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ মডেল থানায় ওসি হিসেবে যোগ দেন ২০১৮ সালে। তিনি উপপরিদর্শক পদে ১৯৯৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। প্রদীপ কুমার দাশ ২০১৯ সালে পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) পান। এর আগে একাধিকবার রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন তিনি।

সূত্র- পরিবর্তন

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com