জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

দিন

ঘন্টা

মিনিট

সেকেন্ড

মৃধার বিরুদ্ধে সই জালের অভিযোগ

বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৯:৪৫ পিএম | 2319 বার

মৃধার বিরুদ্ধে সই জালের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউল হক মৃধার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী ড. সেলিম মাহমুদেরর স্বাক্ষর ও পরিচালনা কমিটির অফিসিয়াল প্যাড জালিয়াতি করে ভুয়া চিঠি বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।

অধ্যাপক সেলিম মাহমুদ মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে কমিটির দাপ্তরিক প্যাডে চিঠি লিখে ওই জালিয়াতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এর অনুলিপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকেও দেয়া হয়।

চিঠিতে সেলিম মাহমুদ জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জিয়াউল হক মৃধার নাম উল্লেখ করে কোনো চিঠি আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে পাঠানো হয়নি। এটি সম্পূর্ণরূপে জাল। ভুয়া চিঠিতে ব্যবহৃত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির লেটার হেডটিও জাল বলে জানান তিনি।
49085483_2167784083273628_7673228342983655424_n
সেলিম মাহমুদ লেখেন, ‘আমার নামের উপর যে স্বাক্ষর দেয়া হয়েছে সেটিও জাল। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্যাড জালিয়াতি ও আমার নাম ব্যবহার করে ভুয়া স্বাক্ষর দেয়ার সাথে যে সকল প্রতারক চক্র জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছি’।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (সিংহ প্রতীক) অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা নিজেকে ‘শেখ হাসিনা’র প্রার্থী পরিচয় দিয়ে এলাকায় হাজার হাজার পোস্টার বিতরণ করেন। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত জিয়াউল হক মৃধাকে শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত পোস্টার বিতরণের দায়ে ৩০ হাজার টাকা প্রতীকী জরিমানা করে।

এই আসনে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন জাতীয় পার্টির রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া। তিনি জিয়াউল হক মৃধার মেয়ের জামাই।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও রাজনৈতিক দলের প্রধান শেখ হাসিনার ছবি পোস্টারে ব্যবহার করায় জিয়াউল হক মৃধার বিরুদ্ধে নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন যুব সংহতির সরাইল সদর ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নির্বাচনী তদন্ত কমিটি-১০১-এর দায়িত্বে থাকা জেলা যুগ্ম ও দায়রা জজের আদালতে অভিযোগ করেন।

জিয়াউল হক মৃধা মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল বা নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছিলেন। আদালত তা খারিজ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু জিয়াউল নিজেকে মহাজোটের প্রার্থী দাবি করে প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের ছবিসংবলিত পোস্টার করে প্রচার করছেন।

জনপ্রতিনিধি আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী দলীয় প্রধান বা জোট, মহাজোটের নেতাকর্মীদের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না।

জিয়াউল হক মৃধা ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও তিনি একই দল থেকে সাংসদ হন। সেবার রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পান। তবে পরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এবার তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পান।

জাতীয় পার্টি ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সই করা মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দেন রেজাউল। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন জিয়াউল হক মৃধা।

৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের শেষ দিন জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র এনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে লাঙ্গল প্রতীকের জন্য আবেদন করেন জিয়াউল। জিয়াউলকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দেন মসিউর। তবে রেজাউলকে দলীয় হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হায়াত-উদ-দৌলা খান। আর জিয়াউল স্বতন্ত্র হিসেবে সিংহ প্রতীক পান।সূত্র: ঢাকাটাইমস

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com