মৃত্যুর আগে যে আক্ষেপ ছিল ভাষা সৈনিক মিয়া আবদুল মতিনের

শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩ | ১০:২৬ অপরাহ্ণ |

মৃত্যুর আগে যে আক্ষেপ ছিল ভাষা সৈনিক মিয়া আবদুল মতিনের
Spread the love

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় ভাষা সৈনিক মিয়া আবদুল মতিন ভূইয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বাদ আসর জানাজা শেষে নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়েছে।

আবদুল মতিন ভূইয়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের টনকি গ্রামের মৃত আবদুল হাশেম ভূইয়ার ছেলে। তাঁর মায়ের নাম নূর জাহান বেগম। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি একজন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তবে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। তাই শেষ জীবনেও তার আক্ষেপ ছিল।

webnewsdesign.com

তার ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার সাদিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমার বাবা ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু উনি ভাষা সৈনিকের রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি পাননি। উনার আক্ষেপ ছিল এই স্বীকৃতি না পাওয়ার। শেষ জীবনেও উনি অনেক চেষ্টা করেছেন এই স্বীকৃতি পেতে। তবে গত কয়েক বছর ধরে একুশে ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভাষা সৈনিক হিসেবে বাবাকে সম্মান দেখানো হচ্ছে। অবশেষে তিনি চলে গেলেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে ডেকে ঢাকায় নিয়ে ফুটবলসহ খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম উপহার দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ভাষা সৈনিককে মতিন মিয়া থেকে মিয়া আবদুল মতিন নামে ভূষিত করেন। এরপর থেকেই তিনি মিয়া আবদুল মতিন ভূইয়া নামে এলাকায় পরিচিত।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাষা সৈনিক মিয়া আব্দুল মতিনের ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন

স্থানীয় লোকজন ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবদুল মতিন ১৯৫২‌ সালের ভাষা আন্দোলন ও ছয় দফার দাবি আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ১৬ থেকে ১৭ বছরের যুবক। তখন তিনি উপজেলার মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় উর্দু ভাষা সকল ধর্মের ছাত্রদের বাধ্যতামূলক ছিল। উর্দু ভাষা শিখতে প্রচন্ড চাপ প্রয়োক করা হতো। এরপর থেকে উর্দু ভাষার প্রতি ছাত্রদের ঘৃণা জন্মে। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন।

১৯৫২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কিছু রাজনৈতিক কর্মী মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে সবার কাছে ভাষা আন্দোলনের গুরত্ব তুলে ধরেন এবং আন্দোলনে যোগ দিতে শিক্ষার্থীদেরকে উদ্বুদ্ধ করেন। শিক্ষকরাও তাদের এ বিষয়ে উৎসাহ দিয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে বলেন। এরপর থেকে শিক্ষকদের উৎসাহে সহপাঠীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য বোঝানো শুরু করে মিয়া আবদুল মতিন ভূইয়াসহ তার সহপাঠীরা। তখন ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি সফল করতে আবদুল মতিনসহ স্কুলের আটজন শিক্ষার্থীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চাটাই কেটে তাঁরা শ-দুয়েক প্লাকার্ড বানান। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভাষা আন্দোলনের মিছিল বের হয়। বিদ্যালয়ের ৮০০র মতো শিক্ষার্থীর এতে অংশ নেয়। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন আবদুল মতিন।

২৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে টনকীর বাড়ি থেকে আবদুল মতিনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। আমার নাম ধরে কোথায় আছি জানতে চায়। পরে আমাকে পেয়ে তারা ধরে নিয়ে যায়। জেলখানায় বসেও তিনি ভাষা আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করেছেন।সেসময় তিনি আড়াই থেকে তিন মাস কারাভোগ করেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com