মাহে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করুণ 

বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১ | ১০:৪৭ অপরাহ্ণ | 134 বার

মাহে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করুণ 

রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে মুসলিম মিল্লাতের দ্বারপ্রান্তে মাহে রমজান। অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিশ্বের সকল মুসলমান পবিত্র মাহে রমজানের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় হতে ব্যাকুল হয়ে উঠবে। রমজান শব্দের অর্থ দহন, প্রজ্জ্বলন, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। মানুষের যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি, অহংকার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে বান্দাহ আল্লাহর একনিষ্ঠ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পবিত্র মাহে রমজানের ভূমিকা ব্যাপক।


যখন শা’বান মাস  উপস্থিত হতো রাসুল (সাঃ) আল্লাহর কাছে এই বলে দোয়া করতেন যে, “হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে রজব ও শা’বান মাসের বরকত দান করুন, এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌছিয়ে দিন”।

webnewsdesign.com

আজিমুশ্বান মাহে রমজানের প্রস্তুতির লক্ষ্যে রাসুল (সাঃ) রজব ও শা’বান মাসে বেশী করে নফল রোজা রাখতেন ও অধিকহারে কোরআন তেলাওয়াত করতেন।

নবী পত্নী হজরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) কে রমজান ব্যতিত অন্য কোন মাসে এতো অধিক হারে রোজা রাখতে দেখিনি যা তিনি শা’বান মাসে  রাখতেন।

রাসুল(সাঃ) রজব ও শা’বান মাসকে রমজান মাসের প্রস্তুতি গ্রহণের সুবর্ণ সময় মনে করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের ও প্রস্তুতি গ্রহণে উদ্ভুদ্ধ করতেন।

মাহে রমজানের আগমনের পূর্বে রাসুল (সাঃ) সাহাবাদের উদ্দেশ্য করে বলতেন, তোমাদের কাছে বরকতের মাস মাহে রমজান আগমন করেছে। মাহে রমজানের আগমনে রাসুল (সাঃ) অতিমাত্রায় আনন্দিত হতেন।


হজরত সালমান ফারসি (রাঃ) হতে বর্নীত তিনি বলেন, রাসুল(সাঃ) শা’বান মাসের শেষ তারিখে সাহাবাদের বলতেন, ‘হে লোক সকল তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে এক মোবারকময় মাস। যে মাসে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা ও মুল্যবান ও শ্রেষ্ট। যে ব্যাক্তি এ মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে একটি নফল এবাদত করবে সে অন্য মাসের একটি ফরজ আদায়ের সওয়াবের অধিকারী হবে।আর যে ব্যাক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করবে সে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায়ের সওয়াবের অধিকারী হবে।
এ মাস ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত। এ মাসে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে সে ও ঐ রোজাদার ব্যাক্তির সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে অথচ রোজাদার ব্যক্তির সওয়াবে কম হবে না’।

উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের তো এমন সামর্থ নেই যা দ্বারা রোজাদার ব্যক্তিকে আমরা ইফতার করাতে পারব’।রাসুল (সাঃ) উত্তরে বললেন, ‘এ সওয়াব ঐ ব্যক্তি ই লাভ করবে যে রোজাদারকে এক চুমুক দুধ অথবা একটি খেজুর অথবা এক চুমুক পানি দ্বারা ইফতার করাবে।
আর যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে তৃপ্তি সহকারে ইফতার করাবে আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউজে কাউসার থেকে পানি পান করাবে যার পর জান্নাতে প্রবেশ পর্যন্ত পুনরায় সে আর পিপাসিত হবে না’।

এই মাস এমন মাস যার প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের, আর শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির।

এ মাসে যে তার অধীনস্থদের কার্যভার কমিয়ে দিবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।: (মিশকাত শরিফ)

অতএব, আসুন, আজিমুশ্বান পবিত্র মাহে রমজানের সীমাহীন কল্যাণও বরকত লাভের প্রত্যাশায় এখন থেকেই দৈহিক ও মানসিক ভাবে এবাদতের প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

লেখক
যুগ্ম সম্পাদক
ইসলামী ঐক্যজোট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।

 

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com