ফলোআপ

মধ্যপাড়ায় ডেকে এনে দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণের পর হত্যা করে তরুণীকে

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০ | ৯:৩৭ অপরাহ্ণ | 3015 বার

মধ্যপাড়ায় ডেকে এনে দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণের পর হত্যা করে তরুণীকে

ব্রাহ্মবাড়িয়া পৌরশহরের মধ্যপাড়া এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লুবনা আক্তার (১৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণের পর গলায় দড়ি পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে তাকে। লুবনা পৌরশহরের কাজীপাড়া এলাকার মুসলিম মিয়ার মেয়ে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেন। হত্যকাণ্ডে জড়িত রানা কর (৩০) ও নুপুর বসাক (৩২) নামে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

তাদের দুইজনের বাড়ি মধ্যপাড়া এলাকার বসাকপাড়া মহল্লায়। নিহত লুবনার সঙ্গে নুপুরের পূর্বপরিচয় ছিল।

আরও পড়ুনঃহত্যার পর মরদেহ পাশের বাড়িতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ  

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোজাম্মেল হোসেন রেজা এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি জানার পর সকালে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করি। প্রথমে আমরা ওই তরুণীর পরিচয় পাইনি। পরবর্তীতে ওই তরুণীর পরিবার এসে লাশ সনাক্ত করে। লাশের পাশে একটি ভাঙা টব ছিল। গলায় রশি পেচানো থাকলেও আমরা নিশ্চিত ছিলাম এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আর লাশ দেখে মনে হচ্ছিল দূরে থেকে এনে এখানে ফেলে যাওয়া হয়নি। যারাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তারা আশপাশেরই হবে। সেজন্য প্রথমেই আমরা আশপাশের ঘরগুলোকে আমরা নজরদারিতে রাখি।

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা সন্দেহভাজন হিসেবে রানাকে আটক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা হত্যার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে সে ও তার বন্ধু নুপুর মিলে ধর্ষণের পর লুবনাকে হত্যা করে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে।

রানার বরাতে তিনি জানান, রোববার রাতে নুপুর ফোন করে লুবনাকে রানার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর রাত দেড়টার দিকে প্রথমে নুপুর এবং পরবর্তীতে রানা ধর্ষণ করে লুবনাকে। ধর্ষণের পর গলায় দড়ি পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ছাদ থেকে লুবনাকে নিচে ফেলে দেয়া হয়। কোনো প্রমাণ না রাখার জন্য লুবনার মোবাইলফোনটি ভেঙে বাড়ির পাশে ড্রেনে ফেলে দেয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, রানার গায়ে নখের আচড় বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে বলতে পারবেন লুবনার নখের আচড় কী-না। আমাদের তদন্ত এখনও চলেছে। তবে ধর্ষণের পর লুবনাকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে রানা এবং নুপুর।এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মধ্যপাড়া এলাকার বসাকপাড়া মহল্লার রানার বাড়ির পাশে একটি বাড়ির ওঠান থেকে লুবনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পরপরই নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রানাকে আটক করে পুলিশ। এরপর দুপুরে নুপুরকেও আটক করা হয়।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com