ব্লাড ব্যাংকে রক্তের জন্য নিলো সাড়ে ৪ হাজার টাকা, রশিদ দিল ৭৫০ টাকার

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২ | ১০:১৮ অপরাহ্ণ | 85 বার

ব্লাড ব্যাংকে রক্তের জন্য নিলো সাড়ে ৪ হাজার টাকা, রশিদ দিল ৭৫০ টাকার

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রোগীর কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহের অতিরিক্ত মূল্য রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জেলার নাসিরনগর উপজেলার সিংহগ্রামের সুভাষ সরকার নামের এক ভুক্তভোগী।


অভিযোগকারি সুভাষ সরকার জানান, আমার মেয়ে কল্পনা সরকারের মেয়েলি সমস্যার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার ১৭ মে রাতে তাকে জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে এনে ভর্তি করি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানায়, তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। ওইদিন রাতে সরকারি এই হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রক্তের জন্য গেলে, সেখানে রাত সাড়ে ৮টার দিকে থাকা রতন মিয়া নামের এক স্টাফ প্রতি ব্যাগ রক্ত দুই হাজার টাকা করে দিতে হবে বলে দাবি করেন। পরে তিনি প্রতি ব্যাগ রক্ত নূন্যতম দেড় হাজার টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন। পরে রাতে বাধ্য হয়ে দুই ব্যাগ রক্ত তিন হাজার টাকা দিতে কিনে আমার মেয়েকে দেই। এরপর দিন বুধবার সকালে আরও এক ব্যাগ রক্ত একই ব্লাড ব্যাংক থেকে কিনে দেড় হাজার টাকায় কিনে নিয়ে দিতে হয়েছে। আমার তিন ব্যাগ রক্ত কিনতে সাড়ে ৪হাজার টাকা দিতে হয়েছে কিন্তু তিন ব্যাগ রক্ত হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের প্রতিটি রশিদে আড়াইশত টাকা করে উল্লেখ্য করেছেন। এই বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

webnewsdesign.com

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তিনজন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরমধ্যে সকালে ইনচার্জ সাবিনা ইয়াসমিন টাকা ও রশিদের দায়িত্বে রয়েছেন এবং রতন মিয়া রক্ত সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বেলা আড়াইটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন সজিব আহমেদ। সেটা প্রতি ব্যাগ রক্তের সংগ্রহ মূল্য আড়াইশো টাকা নির্ধারণ করা আছে। অভিযোগে জমা দেওয়া তিনটি রশিদে একটিতে ইনচার্জ সাবিনা ইয়াসমিন ও অপর দুটিতে রতন মিয়ার সাক্ষর রয়েছে।

এই বিষয়ে ব্লাড ব্যাংকের ইনচার্জ সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি সরকারি নির্ধারিত মূল্যে শুধু রশিদ দিয়েছি। এখানে ডোনার থেকে টাকার বিনিময়ে রক্ত নেওয়া হয়েছে কিনা জানিনা। ব্লাড ব্যাংকে রক্ত বিক্রয় করার নিয়ম নেই।

ব্লাড কালেকশনের দায়িত্বে থাকা রতন মিয়া বলেন, আমরা অতিরিক্ত টাকা নেইনি। ওই ব্যক্তি রাতের বেলায় রোগী নিয়ে এসেছিল রক্তের জন্যে। তখন আমাদের সংরক্ষণে রক্ত ছিল না। তখন তারা অনুরোধ করায় বাইরে থেকে ব্লাড ডোনার সংগ্রহ করে রক্ত দিয়েছে, তাকে টাকা দিতে হয়েছে।

এই বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com