আপডেট

x

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দুইবছর যাবত বন্ধ চোখের অপারেশন

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০ | ৯:০৭ অপরাহ্ণ | 357 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দুইবছর যাবত বন্ধ চোখের অপারেশন

শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে গত দুইবছর যাবত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চক্ষু বিভাগে চোখের সকল প্রকার অপারেশন বন্ধ রয়েছে। ফলে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চড়ামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও অপারেশন করাতে বাধ্য হচ্ছেন চক্ষু রোগীরা।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক দি ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে দুঃস্থ মানুষদের কথা ভেবে প্রথম যে দুইটি হাসপাতালে চক্ষু অপারেশনের সরঞ্জাম দিয়েছিল, তার একটি ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এই হাসপাতাল। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত স্বল্প খরচে এখানে চেয়ে চোখের নানান অপারেশন চলমান ছিল। এই হাসপাতালে চক্ষু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ইয়ামলী খাঁন থাকাকালিন সর্বোচ্চ সেবা পেয়েছে রোগীরা। ন্যাশনাল আই কেয়ারের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ছানি অপারেশন, চশমাজনিত সমস্যা, ওপিডি ম্যানেজমেন্ট, লেজার চিকিৎসা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসহ চোখের বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ভালোভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন হাসপাতালের চক্ষুর সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. ইয়ামলী খান। তত্বকালীন সময়ে চক্ষু বিভাগে সপ্তাহে দুইদিন করে প্রতি মাসে প্রায় ২শতাধিক রোগীর অপারেশন করা হতো। এছাড়াও বহিঃবিভাগের বিভিন্ন চোখের চিকিৎসা চলমান ছিল। পদোন্নতিজনিত কারণে ২০১৮ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর তাকে অন্যত্র পদায়ন করা হয়। এরপর থেকেই চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে মো. আল আমিন নামের একজন চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনি সাধারণ রোগী দেখলেও অপারেশন করতেন না। চিকিৎসক আল আমিনেরও পদোন্নতি হলে বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা চালানো হচ্ছে চক্ষু বিভাগে।

webnewsdesign.com

হাসপাতাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শূন্য হয়ে অপারেশন বন্ধ থাকায় উচ্চ মূল্যে বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের ভিজিট ৫০০ থেকে ৮০০টাকা দিতে হয়। সেখানে চোখের ছানি অপারেশন করতে গেলে ৫/৬হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়, অথচ সরকারি এই হাসপাতালে নামে মাত্র মূল্যে ছানির অপারেশন করা হতো।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. শওকত হোসেন জানান, একজন মেডিকেল অফিসার এখন চক্ষুর ছোটখাটো সমস্যার চিকিৎসা দিচ্ছেন যেগুলো ওষুধ দিয়ে সারানো যায়। শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় চক্ষু অপারেশন দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছি।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com