আপডেট

x

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩০মিনিট অক্সিজেন না থাকায় আইসোলেশনে রোগীদের হৈচৈ

শুক্রবার, ১৬ জুলাই ২০২১ | ১১:৪৫ অপরাহ্ণ | 124 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩০মিনিট অক্সিজেন না থাকায় আইসোলেশনে রোগীদের হৈচৈ
২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোচ্চার রয়েছেন, দাবি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। এরই মাঝে জেলার একমাত্র আইসোলেশন ইউনিট ২৫০শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অক্সিজেন সময় মতো সরবরাহ না করায় রোগীরা আতংকে হৈচৈ শুরু করেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত আইসোলেশনে অক্সিজেন সরবরাহ না করা এই ঘটনা ঘটে।


২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিচতলায় আইসোলেশনে থাকা সাইমা খন্দকার নামের এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, চলতি মাসের ১তারিখ থেকে আমি এই হাসপাতালের আইসোলেশনে আছি। আজ বিকেলে আমার অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল কমে গিয়ে ৮৬হয়ে যায়। স্যাচুরেশন কমতে ছিল। এই অবস্থায় আইসোলেশনে দায়িপ্রাপ্ত নার্সকে অক্সিজেন দিতে বললে তিনি বলেন, ‘আমি কি করতে পারি, অক্সিজেন সিলিন্ডার নাই’। আমি বলেছি তাহলে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ইউনিট অন করেন, কিন্তু আমার কথার উত্তর না দিয়ে তিনি চলে গেলেন। তিনি কিছুই করলেন না।

webnewsdesign.com

জাকিয়া ইসলাম আরেফিন নামের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি থাকা রোগী বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় আইসোলেশনে ভর্তি হয়েছি। বিকেলে আইসোলেশনে অক্সিজেন ছিল না। আমরা নার্সকে বলার পরও অক্সিজেন ব্যবস্থা করেননি। পরে আধা ঘণ্টা পর অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়’।

অক্সিজেন প্রায় ৩০মিনিট না থাকায় নিচতলায় আইসোলেশনে থাকা রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। উত্তেজিত হয়ে হৈচৈ শুরু করেন তারা। বিকেল প্রায় ৬টার দিকে আইসোলেশনের নিচতলার ইউনিটে অক্সিজেনের সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শুরুই জেলা শহরের মেড্ডা বক্ষব্যাধী ক্লিনিক ও ২৫০শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডকে ৫শয্যার আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়। পরে মাঝে করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ইউনিটটি সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত মাসে জুন মাসে নতুন তত্ত্বাবধায়ক যোগদান করার পর ২৫০শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পেয়িং বেডকে আইসোলেশনে যুক্ত করেন। এখন আইসোলেশনে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ৭৫টি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ২৫০শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ৫১জন রোগী আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে ২৫০শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের নিচতলায় আইসোলেশনের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমীন মুঠোফোনে বলেন,’আইসোলেশনে যে অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল তা অন্যান্য রোগীরা ব্যবহার করছিলেন। পাশাপাশি সেন্ট্রাল অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়া সিলিন্ডার বদল করা হচ্ছিল। দুইজন রোগী অক্সিজেন চাওয়ায় তাদের তখন দেওয়া যাচ্ছিল না। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাগাতে যতটুকু সময় লাগছিল, শুধু সেই সময় অক্সিজেন দেওয়া যাচ্ছিল না। এনিয়ে হৈচৈ তারা করেছিল’।


এই বিষয়ে ২৫০শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালেত তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘বিকেলে আইসোলেশন ওয়ার্ডে অক্সিজেনের সংকটের বিষয়টি আমি অবগত নয়। প্রায় প্রতিদিনই অক্সিজেন সিলিন্ডার পর্যাপ্ত হাসপাতালে আনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও অক্সিজেন আনা হবে’।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যার ফলাফলের নতুন আরও ৭৮জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় আক্রান্ত সংখ্যা ৫হাজার ৩৭৪জনে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩হাজার ৯৮৬জন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মারা গেছেন ৭৬জন।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com