ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের পাঁচ দাবিতে স্মারকলিপি

সোমবার, ১৮ মে ২০২০ | ৯:০৩ অপরাহ্ণ | 1285 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের পাঁচ দাবিতে স্মারকলিপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষকদের সুদবিহীন ঋণ প্রদানসহ পাঁচটি প্রস্তাবের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। সোমবার দুপুর একটার দিকে জেলা প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফোরাম জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানের কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেন।


সোমবার দুপুরে স্মারকলিপি প্রধানের সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফোরামের সভাপতি আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সোপানুল ইসলাম, সদস্য সচিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিটি মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, সদস্য কামরুল হক, আব্দুল বাছির, আমির হোসেন, মনির হোসেন, ইকবাল হোসেন, শামীম সরকার, আবদুল মোকিত প্রমুখ।

স্মারকলিফি সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কিন্ডারগার্টেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজসহ সহস্রাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে কমবেশি পঞ্চাশ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াও বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জেলার বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিক্ষকসহ জনবলের বেতন, বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খরচ এসব প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হয়। এসব খরচ নির্বাহের জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে আদায়কৃত বেতনের উপর নির্ভর করতে হয়। বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার থেকে আংশিক বা পুরোপুরি কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা পায় না। যেকারণে প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই সরকারি কোনো অনুদানের আওতায় আসে না। প্রতিষ্ঠান পরিচালক বা মালিকের পক্ষেও এই বিশাল অংকের খরচ মেটানোর আর্থিক সংগতি থাকে না। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন গ্রহণ করা না গেলে সংশ্লিষ্ট জনবলের মাসিক বেতন পরিশোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন ধারাবাহিক কার্যক্রম চালিয়ে নেয়াও সম্ভব না। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষকগণের বেতন দিতে না পারলে শিক্ষকরা তাঁদের পরিবার নিয়ে মহাসংকটে পড়বেন। তাই অনলাইন অথবা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অথবা ব্যাক্তিগতভাবে বেতন আদায়ের অনুমতি প্রদান না করলে বেরসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

আর বেরসকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কমবেশি পঞ্চাশ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে ‘প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফোরাম পাচঁটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফোরাম করোনাকাল পার করতে জেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সুদবিহীন ঋনের প্রস্তাব করেন। যা পেলে তাঁরা বেতন, বাড়ি ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক খরচাদি প্রদানের সুযোগ পাবেন। করোনা মহামারি কেটে গেলে মাসিক কিস্তিতে শিক্ষকরা ঋণ পরিাশোধ করবেন। দ্বিতীয়ত, অনলাইনে, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রতিষ্ঠানের মাসিক টিউশন বেতন আদায়ের অনুমতির প্রস্তাব করেন। তৃতীয়ত, অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে দক্ষ প্রশিক্ষকের (মাস্টার ট্রেইনার) মাধ্যমে ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ ধারাবাহিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা, চতুর্থত, করোনা সংকট কেটে গেলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়াদিসহ শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে শিক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য প্রকল্প এবং কারিগরি সহায়তামূলক সকল কার্যক্রমে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করা, বৈশ্বিক আপদকালীন সংকট কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক প্রণোদনার আওতায় আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানান জেলার প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফোরাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ সোপানুল ইসলাম ও সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল বলেন, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করার মাসিক বেতনের আয় দিয়েই চলে। এই আয় থেকেই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। আর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই সরকারি কোনো অনুদান পায় না। তাঁরা বলেন, করোনার সময়ের পর থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো বেতন আদায় করতে পারছে না। এই কারণে করোনা এই দুর্যোগ সময়ে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। শিক্ষকরা খুব মানবেতন জীবন যাপন করছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে অনুরোধ জানান তাঁরা।


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com