ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের স্থাপনা রক্ষায় ২৭টি লাইট মেশিনগান চেকপোস্ট

শুক্রবার, ০৯ এপ্রিল ২০২১ | ৮:২৬ অপরাহ্ণ | 143 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের স্থাপনা রক্ষায় ২৭টি লাইট মেশিনগান চেকপোস্ট

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তান্ডবে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ।জেলা পুলিশের অধিনস্থ স্থাপনায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করতে ২৭টি এলএমজি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রইছ উদ্দিন।

webnewsdesign.com

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ-২০২১খ্রিঃ হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন সহিংস ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন থানা, ফাঁড়িসহ অন্যান্য পুলিশ স্থাপনায় ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ
করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৯টি থানায় যথাক্রমে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা, আশুগঞ্জ থানা, সরাইল থানা, নাসিরনগর থানা, নবীনগর থানা,
বাঞ্ছারামপুর থানা, কসবা থানা, আখাউড়া থানা, বিজয়নগর থানা, ৪ টি পুলিশ ফাঁড়ি যথাক্রমে, ১ নং শহর পুলিশ ফাঁড়ি, ২ নং শহর পুলিশ ফাঁড়ি, ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ি, ধরখার পুলিশ ফাঁড়ি, ০২ টি তদন্ত কেন্দ্র যথাক্রমে, চাতলপাড় তদন্ত কেন্দ্র, আউলিয়া বাজার তদন্ত কেন্দ্র, ৬ টি পুলিশ ক্যাম্প
যথাক্রমে সারকারখানা পুলিশ ক্যাম্প, পিডিবি পুলিশ ক্যাম্প, টোল প্লাজা পুলিশ ক্যাম্প, শিবপুর পুলিশ ক্যাম্প, ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্প, চম্পনগর পুলিশ ক্যাম্প, জেলা পুলিশ লাইন্সে ৪টি ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ১টি সহ মোট ২৭ টি এলএমজি চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব নিরাপত্তা পোষ্টে আধুনিক ও ভারী অস্ত্রসহ প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যসের নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রত্যেকটি থানা ফাঁড়ি ও ক্যাম্পে ইতিমধ্যেই জনবল বৃদ্ধিসহ পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রেক্ষপটে কোন দুষ্কৃতিকারী যেন পুলিশ স্থাপনায় হামলা বা সহিংস ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য উর্ধ্বতন অফিসারগণ নিয়মিত মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রইছ উদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে ইসলামের যে তান্ডবলীলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চালানো হয়েছে, এসময় পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায়ও তারা হামলা করেছে। এজন্য আমরা পুরো শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পুলিশের স্থাপনা গুলো বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। যেন পুলিশের স্থাপনা গুলো আক্রান্ত না হতে পারে, পুলিশ আক্রান্ত হলে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারব না। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

পুলিশের স্থাপনায় হামলা বা ধ্বংসাত্মক কোন কার্যকলাপ সংগঠিত হবে, আগাম এমন কোন তথ্য আছে কিনা?  এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রইছ উদ্দিন বলেন, আমরা সাম্প্রতিক যে প্রেক্ষাপট দেখেছি,তাতে আমাদের সতর্ক হওয়ার বিষয় রয়েছে। তারা থানায় আক্রমণ করেছে, ফাঁড়িতে আক্রমণ করেছে, পুলিশ অফিসে হামলা করেছে। সুতরাং এখন ম্যাসেজ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকার সুযোগ নেই। কারণ তারা ইতিমধ্যে কাজটি করেছে। ভবিষ্যতে তারা যেন এই কাজটি না করতে পারে, তাই আমাদের এই ব্যবস্থা নেওয়া।


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com