আপডেট

x

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইউপি নির্বাচনে ‘নৌকা’র ভরাডুবির কারণ কি?

মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি ২০২২ | ৮:০৬ অপরাহ্ণ | 166 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইউপি নির্বাচনে ‘নৌকা’র ভরাডুবির কারণ কি?

দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ২য় ধাপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন দিয়ে শুরু হয় জেলার ইউপি নির্বাচন। এই পর্যন্ত ৫ম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবারো হাওয়া লাগেনি নৌকার পালে। চার ধাপে জেলার একশ’র মধ্যে নির্বাচন শেষ হয়েছে ৭৯ ইউনিয়নে। শুরু থেকেই ভাটার টানে চলছে নৌকা। তবে জেলার বাঞ্ছারামপুরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। আর কসবা ও আখাউড়া উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে হচ্ছে প্রতীক বিহীন ইউপি নির্বাচন। সর্বশেষ পঞ্চম ধাপে ৫ই জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আশুগঞ্জ উপজেলার ইপি গুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে আশুগঞ্জে নৌকার পরাজয় হয়েছে ৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতেই। আর সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ৪টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হন।


এই জেলার ৭৯ ইউনিয়নের ফলাফলে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পাল্লা ভারী। দলের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই জয় পেয়েছেন অধিকাংশ ইউনিয়নে। দলে কোন্দল, নিজের পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে বিরোধিতা, স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেয়া, তৃণমূলে কারসাজি করে যাকে-তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়া। এমন নানা কারণ জেলায় আওয়ামী লীগের ফল বিপর্যয়ের জন্য চিহ্নিত হয়েছে সাধারণ নেতাকর্মীদের কাছে। আশুগঞ্জে দলের পরাজিত প্রার্থীরা মুখ খুলছেন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে।

webnewsdesign.com

আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন জানান, পুরো আওয়ামী লীগ তার বিরোধিতা করেছে। লালপুর ইউনিয়নে বিজয়ী আওয়ামী লীগ মনোনীত মোরশেদ মাস্টার বলেন, দলের কিছু নেতা তার জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু তলে তলে অনেক কিছু করেছেন তারা আমার বিরুদ্ধে। একই অভিযোগ করে তারুয়া ইউনিয়নে পরাজিত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস হাসান বলেন, নেতাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। নেতাদের কেউই তার জন্য কাজ করেননি। আড়াইসিধায় পরাজিত সেলিম মিয়া বলেন, দলের ৬০ ভাগ লোক আমার বিরোধিতা করেছে। বিশেষ করে উপজেলা চেয়ারম্যান। সবচেয়ে বেশি ম্যাকানিজম তিনি করেছেন আমার বিরুদ্ধে। তারা নৌকার কোনো নির্বাচন করেননি।

আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হাজী সফিউল্লাহ মিয়াও দলের প্রার্থীর বিরোধিতা করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের লোক অনেকে বিদ্রোহীদের নির্বাচন করেছেন। তবে তাদের নাম বলাও সমস্যা। তাদের নাম বলতে গেলে আমার জন্য অসুবিধা। মনোনয়নে ভুল থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

জেলায় ইউনিয়নের ভোটাভুটি শুরু হয় ২য় ধাপ থেকে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ৪৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়। প্রথম নির্বাচন হয় নাসিরনগর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে। এতে ৬ ইউনিয়নে জয় পায় আওয়ামী লীগ। আর ৭টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী। তৃতীয় ধাপে নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর ও সরাইল উপজেলার ৩৩ ইউনিয়নের নির্বাচনে বাঞ্ছারামপুরের ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থী সকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এই উপজেলার বাকি ১০ ইউনিয়নের অন্য ৭টিতেও আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি ৩ ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগই জয় পায়। তবে সরাইলের ১১ ইউনিয়নের দু’টিতে মাত্র আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হন। নবীনগরের ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। ২৬শে ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে বিজয়নগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে ৫টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা জয় পায়। আর আখাউড়ায় দলীয় প্রতীক বিহীন নির্বাচন হয়। আর ৫ম ধাপে ১৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে জয় মিলে আওয়ামী লীগের।

এমন ফলাফলের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বিদ্রোহী প্রার্থী আর তাদের উস্কানিদাতাদেরকে দায়ী করে বলেন, প্রার্থী পছন্দ না হলেই তারা বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন।


তবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি এমন ফলাফলে ভরাডুবি দেখছেন না। তিনি বলেন, নমিনেশন আমরা দেই না। আমরা সাজেশন করি। কেন্দ্র থেকে নমিনেশন দেয়া হয়। কেন্দ্রের নমিনেশনটা হয়তো কোনো কোনো জায়গায় জনগণের মনোপূত হয়নি। তবে এক্ষেত্রে জেলার সভাপতি হিসেবে ডিটোমারা ছাড়া আমার কোনো কাজ ছিল না। এ ব্যাপারে আমাদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাকটিভলি পার্টিসিপেট করেছেন। আমি তার সঙ্গে কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে চাই না।

তিনি আরও বলেন, আমি একটি উপজেলায় একটু ইনভলব হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। সেখানে তৃণমূল হয়নি। সেখান থেকে যে সমস্ত সাজেসন্স এসেছে সব হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা নৌকার বিরুদ্ধে ছিল তাদের পক্ষে। আমি খুঁজে খুঁজে নৌকার পক্ষের কয়েকজনের নাম-ধাম দিয়েছি। কিন্তু কেন্দ্রের সুপারিশে দেখা গেছে নৌকা-বিরোধীরাই মনোনয়ন পেয়েছেন। ফলে যা পরিণতি হওয়ার তাই হয়েছে। একই অবস্থা হয়েছে সরাইলের ক্ষেত্রে। সেখানেও আমাদের সাজেসন্স উপেক্ষিত হয়েছে। তবে একেবারে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে তাতো নয়। নৌকার নমিনেশন সঠিক হলে, সঠিক লোক নমিনেশন পেলে ৮০ পার্সেন্টের ওপরে আমরা জিততে পারতাম।

সূত্র: মানবজমিন

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com