আপডেট

x

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা কলোনী জঙ্গলে পরিণত,মাদকসেবীদের আখড়া

শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১ | ৮:৪৯ অপরাহ্ণ | 96 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা কলোনী জঙ্গলে পরিণত,মাদকসেবীদের আখড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৈরতলার কলোনীতে বিভিন্ন সরকারি চাকরিজীবি পরিবার গুলোর বসবাস ছিল। এই কলোনীতে বাসা বরাদ্দ পেতে সংশ্লিষ্ট অফিসে চলতো দৌড়ঝাপ৷ মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে সেই কলোনীটি এখন ঝোপঝাড়ের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। হাতে গুনা মাত্র কয়েকটি পরিবারের বসবাস এই কলোনীতে এখন। তারাও চাচ্ছেন এই কলোনী থেকে চলে যেতে। কারণ রাত-দিন এই কলোনীর পরিত্যক্ত ভবণ গুলোতে বসে মাদকের আসর। মাদকসেবী ও চোরের অত্যাচারে এই কলোনী থেকে চলে গেছে অনেক পরিবার।


সরেজজমিনে দক্ষিণ পৈরতলার কলোনীতে গিয়ে দেখা যায়, গণপূর্ত অফিসের অধিনস্থ এই কলোনীর নিরাপত্তা দেয়ালের ভেতরে পুরো এলাকা ভুতুড়ে পরিবেশ। রাতে তো দূরের কথা ভয়ে দিনের বেলাতেই কেউ আসবেনা এই কলোনীতে। গাছপালার ঝোপঝাড়ে এক প্রকার জঙ্গলে পরিণত হয়েছে এই কলোনী। এসব ঝোপঝাড়ের ভেতরেই রয়েছে দুতলা ও একতলা মিলিয়ে ৮টি ভবন। একটি ভবন ছাড়া বাকি ৭টিই এখন পরিত্যক্ত। এই ৭টি ভবনের কোনটিতে দরজা-জানালা নেই। পরিত্যক্ত ভাঙাচুরা এসব ভবনের প্রতিটি কক্ষেই ছরিয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে মাদক সেবনের আলামত৷

webnewsdesign.com

কলোনীর ভেতরে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় পারভেজ নামের এক তরুণের সাথে। তিনি বলেন,আমার বাবা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার সুবাদে গত ৫বছর আগেও এই কলোনীতে আমরা বসবাস করেছি। এখন পাশের একটি ভবনে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছি। এই কলোনী ছেড়ে সবাই চলে যাওয়ার কারণ হচ্ছে, সরকার বেতন থেকে বাসা ভাড়া কেটে রাখে, এই টাকা দিয়ে বাইরে ভাল বাসায় থাকা যায়। এখানে কেন কোন প্রকার সুবিধা ছাড়া এই কলীনীতে বসবাস করবে সরকারি চাকরিজীবির পরিবার? একে একে সবাই চলে যাওয়ায় এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে এই কলোনী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর সরকারী কর্মচারীরা দক্ষিণ পৈরতলার এই কলোনীতে বসবাস করতেন। এখন মাত্র ৫টি পরিবার এই কলোনীর একটি ভবনে বসবাস করেন।  এছাড়াও গণপূর্ত অফিসের অধিনে জেলা শহরের দাতিয়ারার অবকাশ এলাকায় সমনা, বিশাখা ও চিত্রা নামের তিনটি ভবণে প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তারা পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

এই বিষয়ে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও করা সম্ভব হয়নি। তবে এই অফিসের কোয়ার্টারের ররক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন  জানান,’জেলার শহরের অধিকাংশ সরকারি কোয়ার্টার আমাদের অধিনে রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকি। এরমধ্যে পৈরতলা কলোনীটি পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। কারণ এই কলোনীতে যারা বসবাস করতেন তাদের অভিযোগ ছিল, সেখানে চোরের উপদ্রব বেশি ছিল। তারা বিভিন্ন সময় সেনিটারি পাইপ, জানালার গ্রিল খুলে নিয়ে যেত। এছাড়া ভবন গুলোর ছাদে তখন মাদকসেবীদের আড্ডা বসতো। এসব বিষয় জানার পর একাধিক বার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জানিয়েও কোন লাভ হয়। এই কলোনীতে কেউই বসবাস করতে চায় না। ফলে এটি জঙ্গলে পরিণত হয়ে গেছে। সরকারি যদি কোন আবাসন প্রকল্পের উদ্যোগ নেন, তাহলে আমরা পৈরতলা কলোনীর জায়গাটি প্রস্তাব করব’।

-এএইচ রাফি /-


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com