জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ অপরাহ্ণ
প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার পর দেশব্যাপী আলোচনায় দুবাই-ভিত্তিক এই কোম্পানি মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই)। এই চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে দেশের হাজার পরিবার। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমটিএফই’র প্রতারণায় নাম উঠে এসেছে এর বাংলাদেশের সাবেক অ্যাম্বাসেডর, বর্তমানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে দুবাইয়ে অবস্থান করা অন্যতম হোতা মেজর (অব.) মোবাশ্বিরুল ইবাদ ওরফে মিশুর। তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে তার নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
মোবাশ্বেরুল ইবাদ ওরফে মিশু ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভার দুইবারের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত মাহবুবুল হুদার একমাত্র ছেলে। তার একমাত্র বোন মা’কে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। মোবাশ্বেরুল ইবাদ ওরফে মিশু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২০১৮ সালে অবসরে যান। অবসরের পর তিনি জেলার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল থেকে তিনি মনোনয়ন পাননি। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি পদে ছিলেন।
পৌরসভা নির্বাচনের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন খোকন জানান, ২০২০ অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩২জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এরমকধ্যে প্রয়াত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মাহবুবুল হুদার একমাত্রা ছেলে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোবাশ্বিরুল ইবাদও ছিলেন। তারা মনোনয়ন ক্রয় করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেন। শেষ পর্যন্ত মিসেস নায়ার কবির আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন পান। দলীয় কোন কর্মসূচিতে মেজর (অব.) মোবাশ্বিরুল ইবাদকে দেখা যায়নি।
আজ মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দুপুরে জেলা শহরের মেড্ডায় মেজর (অব.) মোবাশ্বিরুল ইবাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। বাড়ির সামনে বড় একটা গেইট লাগানো আছে। এর বাউন্ডারি দেয়ালের ভেতরে পুরাতন টিনের কয়েকটি ঘর।
এসময় কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ চৌধুরীর সাথে। তিনি জানান, আমরা তাকে মিশু ভাই হিসেবেই চিনি। উনি মেধাবী স্টুডেন্ট ছিলে। তিনি সেনাবাহিনী থেকে নিজেই অবসর নিয়েছিলেন। উনার ব্যাপারে সবাই ভাল জানে। উনার বাবা ছিলে স্বনামধন্য পকিন্তু যে কথা গুলো শুনলাম তা খুবই দুঃখজনক।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, মিশু ভাইয়ের আম্মা বোনের সাথে আমেরিকাত্তে বাস করেন। মিশু ভাইও এখন দুবাই থেকেন। কেউই তেমন এই বাড়িতে আসেন না। বছরে ইচ্ছে হলে ২/১ বার আসতেন। বাবার স্মৃতি রক্ষায় পুরাতন টিনের ঘরটি রেখে দিয়েছেন। কিন্তু এই ব্যবসার সাথে যে মোবাশ্বির জড়িয় গ্রামের কেউই জানতেন না। জড়িত কিছু সব কিছু দেখা শোনা করেন আলী হোসেন নামের একজন কেয়ার টেকার দেখেন।
তার বাড়ির কেয়ারটেকার আলী হোসেন বলেন, মিশু ভাই কোরবানির ঈদের পর বাড়িতে এসেছিলেন। এরপর আর আসেননি। আমি ও আরেকটা পরিবার এখানে বসবাস করি। তাদের সাথে তেমন যোগাযোগ হয় না।
দুবাইয়ে অবস্থান করা মেজর অব. মোবাশ্বিরুল ইবাদ বলেন, আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমরা জানতাম না এমটিএফই একটি মাল্টি লেভেল কোম্পানি। আমাদের বলা হয়েছিল শেয়ার মার্কেট ব্যবসা। আমি নিজেই আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি আরও বলেন, গত ৬ আগস্ট থেকে টাকা উত্তোলন বন্ধ করে দেয় তারা। আমার বিপুল অংকের টাকা কেটে নিয়ে গেছে। এখন উল্টো বলছে আমার কাছে টাকা পাবে নাহলে মামলা করবে। আমি দুবাই নিজের ব্যবসা করতে এসেছি, পালিয়ে আসিনি। যারা এর সাথে জড়িত আমিও তাদের শাস্তি দাবি করছি।
এই বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, অনলাইন ভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠানটির এই জেলায় কোনো কার্যালয় আছে কি না তা আমাদের জানা নেই। আর এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারপরও আমরা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।
Posted ১০:২৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০২৩
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya