আপডেট

x

বুধবার যায়নি, বৃহস্পতিবার সকালে গ্রহণ করবেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০ | ৭:১৬ অপরাহ্ণ | 113 বার

বুধবার যায়নি, বৃহস্পতিবার সকালে গ্রহণ করবেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
ছবি-সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বুধবার আগরতলায় রড ও ডাল যাওয়ার কথা থাকলেও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে যাবে এসব পণ্য। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এসব পণ্য নিয়ে আখাউড়াস্থল বন্দরে ৪টি কন্টেইনার পৌঁছেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকতার কথা জানিয়ে একদিন পিছিয়েছে বলে জানা গেছে।


বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এসব পণ্য গ্রহণের জন্য এই আনুষ্ঠানিকতায় আখাউড়া ও আগরতলা স্থলবন্দরের শূন্যরেখায় ভারতের ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব উপস্থিত থাকবেন। মূলত মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই একদিন পেছানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশের আখাউড়া স্থলবন্দরে পণ্যগুলোর কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনলের স্বত্বাধিকারী মো. আক্তার হোসেন বলেন, বুধবার পণ্যগুলো আগরতলায় পাঠানোর জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া ছিল। কিন্তু ভারতীয় হাইকমিশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে আজকে পণ্য গ্রহণ করা হবে না। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পণ্য গুলো গ্রহণ করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভম্যান্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া’ চুক্তির আওতায় এবং ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর উভয় দেশের মধ্যে সাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে নিজ দেশে পণ্য পরিবহন করছে ভারত।

২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া’ চুক্তির আওতায় আর্টিক্যাল টু (অনুচ্ছেদ দুই) অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ি এসব পণ্য বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারত। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ব্যবসায়িদের সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পণ্য পরিবহনে সহজ পথের বিবেচনায় আশুগঞ্জের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করতে চায় ভারত। এর আগে আশুগঞ্জ নৌবন্দর ব্যবহার করে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের যন্ত্রের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য নিয়ে যায় ভারত। এখন থেকে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও নিতে চায়। বিশেষ করে সেভেন সিস্টার হিসেবে পরিচিত ভারতের ত্রিপুরাসহ সাতটি রাজ্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে সে দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীরা। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের চুক্তি হয়।


চুক্তির আলোকে প্রথম পরীক্ষামূলক চালান হিসেবে রড ও ডাল নিচ্ছে ভারত। রডগুলো সরকারি কাজে ব্যবহার হবে, যা ওপারে আগরতলা স্থলবন্দরের গুদামে রাখা হবে। ডাল যাবে আসাম রাজ্যের গৌহাটিতে। আগরতলা স্থলবন্দর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে জিরানীয় এলাকায় ডাল রাখা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস : আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও চুক্তি) আক্তার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে জানা যায়, পরীক্ষামূলক ট্রানজিট পণ্য চালানের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি প্রতি চালান ৩০ টাকা, ট্রান্সশিপমেন্ট ফি প্রতি মেট্রিকটন ২০ টাকা, সিকিউরিটি চার্জ প্রতি মেট্রিকটন ১০০ টাকা, এসকর্ট চার্জ প্রতি মেট্রিকটন ৫০ টাকা, বিবিধ প্রশাসনিক চার্জ প্রতি মেট্রিকটন ১০০ টাকা, কন্টেইনার স্ক্যানিং ফি প্রতি কন্টেইনার ২৫৪ টাকা। এছাড়া ইলেকট্রিক লক অ্যান্ড সিল ফি হিসেবে বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ দিতে হবে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রবেশে সাত দিনের মধ্যে ভারতে পণ্য প্রবেশ করবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে সময় বাড়ানো যাবে। বাংলাদেশে প্রবেশ বন্দর চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়া আসা পর্যন্ত এক বা একাধিক কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com