আপডেট

x

বিয়ের একমাস পরই করোনা যুদ্ধে, নতুন বউ ফেলে ঈদ কাটলো আইসোলেশনে

সোমবার, ২৫ মে ২০২০ | ১১:১৩ অপরাহ্ণ | 135 বার

বিয়ের একমাস পরই করোনা যুদ্ধে, নতুন বউ ফেলে ঈদ কাটলো আইসোলেশনে
ডা. শাকিব হাসান ধ্রুব ও তার স্ত্রী

আজ সোমবার ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতর। মহামারী করোনা ভাইরাসে কারণে এবারের ঈদ অন্যান্য বছরের চেয়ে ব্যতিক্রম। ঈদ পালন করতে হচ্ছে লকডাউনের মধ্যে। তাই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের নামাজও এবার ঈদগাহ মাঠে না হয়ে প্রতি মসজিদে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন কি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোলাকুলি না করতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতো বিধিনিষেধের পরও ঈদ পালন করছে জাতি। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। সবাই যার যার মতো নিজের বাসায় পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দ করছে।


কিন্তু করোনা ভাইরাসের মধ্যে আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে এটুকু আনন্দ থেকে বঞ্চিত চিকিৎসকরা। তারা নিজের সুখ-আনন্দ বিলিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে আইসোলেশনে থাকা করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের প্রধান আইসোলেশন সেন্টার শহরের মেড্ডায় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। এখানে রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকরা কাজ করছেন। প্রতিজন রোস্টার অনুযায়ী একবেলা করে টানা ১০দিন দায়িত্ব পালন করেন। ১০দিন পর তাদেরকে ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়।

ঈদের দিন সকাল থেকে এই আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. শাকিব হাসান ধ্রুব। তার সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

চিকিৎসক শাকিব হাসান ধ্রুব জানান, আমি গত ২১মে থেকে আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্ব পালন করছি। ঈদের দিন সকাল থেকে দায়িত্ব পড়েছে। আমার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টাফরাও রয়েছেন। এখানে ডিউটি শেষে আমার জন্য বরাদ্দ একটি আবাসিক হোটেলে আমি থাকছি।

তিনি আরও বলেন, আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান। আমার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী৷ আমরা ভাইবোন দুইজন। আমি ও আমার বড় বোন দুইজনই চিকিৎসক। আমরা এখন ঢাকায় থাকি সবাই। আমি বিয়ে করেছি গত প্রায় দুই মাস হলো। বিয়ের একমাস পর থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত একমাস যাবত দায়িত্ব পালন করছি। গত একমাস পরিবারের সাথে শুধু মোবাইলেই যোগাযোগ করতে পেরেছি। কারণ ১০দিন দায়িত্ব পালনের পর আমাকে ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে হোটেলে থাকতে হয়, তারপর আবার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।


পরিবার ও নতুন স্ত্রী বাড়িতে রেখে এভাবে ঈদের দিনেও দায়িত্ব পালন করতে খারাপ লাগছে না? এই প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক ধ্রুব বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। এখানে যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তারাও কষ্টে আছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, দেশের জন্য কাজ করার। আমি দায়িত্ব হিসেবে দেখছি। আমার সিনিয়র চিকিৎসক ও ভাইয়েরা খোঁজ খবর নিচ্ছেন, তাই আমি একা অনুভব করছি এমন লাগছেনা।
তিনি বলেন, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আইসোলেশনে বর্তমানে ১৭জন রোগী আছেন। আমার সাথে একজন ব্রাদার আছেন সহযোগিতা হিসেবে। দুইজন আউট সোর্সিংয়ের স্টাফ ও একজন আনসার সদস্য আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে ১০০জনের। এরমধ্যে ৫৭জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, দুইজন মারা গেছেন।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com