ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের চিত্র-

বিশ্রামাগার থাকে বন্ধ, স্টেশন মাস্টারের টেবিলেও বসে থাকে যাত্রীরা

বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩ | ৯:৪৩ অপরাহ্ণ |

বিশ্রামাগার থাকে বন্ধ, স্টেশন মাস্টারের টেবিলেও বসে থাকে যাত্রীরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের মাস্টারের টেবিলের ওপর বসে আছে যাত্রীরা।
Spread the love

হেফাজতে ইসলামের হামলায় জ্বালিয়ে দেওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের গত দেড় বছর আগে সংস্কার কাজ শেষ হয়ে। পুরোদমে চলছে এই রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম। সংস্কার কাজ শেষে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর গত দেড় বছরেও খোলা হয়নি প্রথম শ্রেণীর বিশ্রামাগার। ফলে প্লাটফর্মে বা স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ট্রেন আসার আগে সময় কাটাতে হয় যাত্রীদের। এতে যাত্রীদের পড়তে হয় নানান দুর্ভোগে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে বিভাগীয় শহর চট্রগ্রামের পর সবচেয়ে বেশি যাত্রী হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে। নিরাপদ যাতায়াতের জন্যে ট্রেনকেই বেশি পছন্দ যাত্রীদের। এই স্টেশনে আপ-ডাউনে ১৪টি ট্রেন যাত্রাবিরতি করে। এরমধ্যে ৬টি আন্ত:নগর ট্রেন রয়েছে। এসব আন্ত:নগর ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯৩৯টি আসনসহ টিকেট বরাদ্দ রয়েছে। এর ৫০ শতাংশ কাউন্টারে এবং বাকী ৫০ শতাংশ অনলাইনে কাটতে হয়। তবে এই স্টেশন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করে। এই স্টেশন থেকে গড়ে প্রতিমাসে এক কোটি টাকা আয় করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।  ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্রকে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে প্রথম হামলা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে। এসময় তান্ডব চালিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সম্পূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনকে। আসবাবপত্র রেললাইনে এনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। স্টেশনের কোন কক্ষই বাদ যায়নি হামলা ও অগ্নিসংযোগের হাত থেকে। এই ঘটনার পর সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে বাতিল করা হয়। ৮ মাস বন্ধ থাকার পর ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর সংস্কার কাজ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন যাত্রাবিরতি শুরু করে। তবে সংস্কার কাজ শেষে পুরোদমে রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম চললেও এর প্রথম শ্রেণীর বিশ্রামাগারটি খোলা হয়নি। অথচ সংস্কারের সময় প্রথম শ্রেণীর বিশ্রামাগারে তিনটি শৌচাগার, ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার ও দুটি স্টিলের বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। এর দরজার সামনে রাখা হয় বুকিংয়ের মালামাল। বিশ্রামাগারটি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের প্লাটফর্মে ট্রেন আসার আগে অপেক্ষা করতে হয়। ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টারটি তালাবদ্ধ বিশ্রামাগারের ভেতরে থাকা শিশুদের মায়েরা বুকের দুধ খাওয়াতে হয় প্লাটফর্মেই। পাশাপাশি স্টেশন মাস্টারের কক্ষে বিশেষ সুবিধা পাওয়া অনেক যাত্রীদের বসতে দেওয়া হয়। সেখানে স্বল্প জায়গা হওয়ায় স্টেশন মাস্টারের টেবিলে উঠে বসে থাকতেও দেখা গেছে ট্রেন যাত্রীদের। এনিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে।

webnewsdesign.com

হাবিবুর রহমান নামের ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, আমি ট্রেনে সবসময় যাতায়াত করি। কিন্তু গত দুই বছরেও দেখিনি বিশ্রামাগারটি খোলা থাকতে। আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু নারী যাত্রীদের জন্য সমস্যা হয়।

রাকিবুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী বলেন, ট্রেন অনেক সময় দেড়ি করে আসলে বিশ্রামাগারে বসে সময় কাটানো যেত। বিশ্রামাগারের ভেতরে তিনটি টয়লেট আছে, কিন্তু তা বন্ধ থাকায় স্টেশনের গণশৌচাগারে টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে। যদি তালাই লাগানো থাকে তাহলে সরকারি টাকা খরচ করে কেন এই বিশ্রামাগার বানানো হলো?

ফাহমিদা নামের এক যাত্রী বলেন, ছেলেদের তো কোন কিছু হয় না। কিন্তু আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের বিষয়টি। আমরা তো যেনতেন স্থানে যেতেও পারি না।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম শ্রেণীর বিশ্রামাগারটির টয়লেটে দামি ফিটিংস ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিদিন কিছু মাদকসেবী ছেলে ট্রেনে আখাউড়ায় আসা যাওয়া করে। তারা খুব বিশৃঙ্খলা করে, তাই তাদের নিয়ে আতংকে থাকতে হয়। তাছাড়া এটা যে রক্ষণাবেক্ষণ করবে আমাদের কোন আয়া নেই। অথচ এখানে আয়া পদ আছে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com