বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯ | ৯:৩৯ এএম | 145 বার

বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

অবশেষে চারবার ফাইনাল খেলার পর প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো ইংল্যান্ড। আর টানা দুইবার ফাইনালে হারলো নিউজিল্যান্ড। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, সেখানেও ছিল নাটক। বলতে গেলে ফাইনাল বিশ্বকাপের মতোই হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে দু’দলের মধ্যে ম্যাচ টাই হওয়ায় সুপার ওভারে নির্ধারিত হয় শিরোপা। সেখানেও টাই হওয়ায় দু’দলের বেশি বাউন্ডারির মারার কারণে ইংলিশদের জয়ী ঘোষণা করা হয়।

ম্যাচে প্রথম ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় মোট বাউন্ডারি পায় ১৬টি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২টি চারের সঙ্গে ২টি ছয় মারে ইংল্যান্ড। যে কারণে সুপার ওভারের নিয়মানুযায়ী চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। সেই সাথে শেষ হলো বিশ্বকাপের ৪৬ দিনব্যাপী আসর। পর্দা নামলো ইংল্যান্ডে বসা ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১২তম আসরের।

রোববার (১৪ জুলাই) লর্ডসের ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড দলপতি কেন উইলিয়ামসন। বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় টস হতে ১৫ মিনিট দেরি হবে বলে জানানো হয়। টস হয় বাংলাদেশ সময় ৩টা ১৫ মিনিটে, ম্যাচ শুরু হয় ৩টা ৪৫ মিনিটে।

ওপেনিংয়ে নামেন মার্টিন গাপটিল এবং হেনরি নিকোলস। দলীয় ২৯ রানের মাথায় বিদায় নেন গাপটিল। ক্রিস ওকসের বলে এলবির ফাঁদে পড়ার আগে কিউই এই ওপেনার ১৮ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় করেন ১৯ রান। এরপর স্কোরবোর্ডে আরও ৭৪ রান যোগ করেন দলপতি কেন উইলিয়ামসন এবং ওপেনার হেনরি নিকোলস। দলীয় ১০৩ রানের মাথায় বিদায় নেন উইলিয়ামসন। লিয়াম প্লাংকেটের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে কিউই দলপতির ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। তার ৫৩ বলের ইনিংসে ছিল দুটি বাউন্ডারি।

দলীয় ১১৮ রানের মাথায় বিদায় নেন ওপেনার হেনরি নিকোলস। বিদায়ের আগে ফিফটি হাঁকান তিনি। লিয়াম প্লাংকেটের দ্বিতীয় শিকারে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে নিকোলস ৭৭ বলে চারটি বাউন্ডারিতে করেন ৫৫ রান। রস টেইলর বিদায় নেন দলীয় ১৪১ রানের মাথায়। মার্ক উডের করা ৩৪তম ওভারে এলবির ফাঁদে পড়ে বিদায়ের আগে টেইলর ৩১ বলে করেন ১৫ রান। ২৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে ১৯ রান করে ফেরেন অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। কলিন ডি গ্রান্ডহোম (১৬) দলকে বেশিদূর নিতে পারেননি। ৪৯তম ওভারে বিদায় নেওয়ার আগে টম ল্যাথাম করেন ৪৭ রান। তার ৫৬ বলে সাজানো ইনিংসে ছিল দুটি চার, একটি ছয়।

ইংলিশ পেসার লিয়াম প্লাংকেট ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে তুলে নেন তিনটি উইকেট। মার্ক উড ১০ ওভারে ৪৯ রান খরচায় তুলে নেন একটি উইকেট। বেন স্টোকস ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। ৮ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন স্পিনার আদিল রশিদ। ক্রিস ওকস ৯ ওভারে ৩৭ রান খরচায় তুলে নেন তিনটি উইকেট। জোফরা আর্চার ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে একটি উইকেট পান।

২৪২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২৮ রানের মাথায় বিদায় নেন জেসন রয়। ব্যক্তিগত ১৭ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আরেক ওপেনার ইনফর্ম জনি বেয়ারস্টো ৫৫ বলে সাতটি বাউন্ডারিতে ৩৬ রান করে বিদায় নেন। তিন নম্বরে নামা জো রুট (৭) নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। দলপতি ইয়ন মরগানও (৯) খুব বেশিদূর এগুতে পারেননি। দলীয় ৮৬ রানে টপঅর্ডারের চার উইকেট পড়ে ইংলিশদের।

সেখান থেকে ১১০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে টানতে থাকেন বেন স্টোকস এবং জস বাটলার। দলীয় ১৯৬ রানের মাথায় বিদায় নেন বাটলার। ৬০ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে ৫৯ রান করেন তিনি। মাঝে লিয়াম প্লাংকেট ১০ বলে করেন ১০ রান। জোফরা আর্চার কোনো রান না করেই ফেরেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। বেন স্টোকস প্রথম দুই বলে রান পাননি। তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান। চতুর্থ বলে ডাবল রান নেওয়ার পথে স্টোকসের ব্যাটে লেগে অতিরিক্ত আরও চার রান আসে। পঞ্চম বলে রানআউট হন আদিল রশিদ। শেষ বলে দরকার হয় ২ রানের। ডাবল রান নেওয়ার পথে রানআউট হন মার্ক উড। ম্যাচ টাই হলে গড়ায় সুপার ওভারে। বেন স্টোকস ৯৮ বলে ৫ চার আর ২ ছক্কায় ৮৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।

নিউজিল্যান্ডের কলিন ডি গ্রান্ডহোম ১০ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন। ১০ ওভারে ৪০ রান খরচায় একটি উইকেট পান ম্যাট হেনরি। স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ৩ ওভারে ১১ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। লুকি ফার্গুসন ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট। জিমি নিশাম ৭ ওভারে ৪৩ রান খরচায় তিনটি উইকেট পান। ট্রেন্ট বোল্ট ১০ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।

নিয়মানুযায়ী মূল ম্যাচে পরে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ডকে সুপার ওভারে দেয়া হয় আগে ৬টি বল খেলতে। স্বাগতিকদের পক্ষে আসেন ম্যাচের দুই সফল ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস এবং জস বাটলার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে তুলে নেন ট্রেন্ট বোল্ট।

সুপার ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইক নেন স্টোকস। বোল্টের করা প্রথম বলে তিনি নেন ৩ রান। দ্বিতীয় বলে বাটলারের ব্যাট থেকে আসে ১ রান। তৃতীয় ডেলিভারিতে স্টোকস ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ৪ মারলে রান গিয়ে পৌঁছায় আটে।

চতুর্থ বলে অফসাইডের লো ফুলটস বলে ১ রান নেন স্টোকস। স্ট্রাইক পেয়ে পঞ্চম বলে ২ রান নেন বাটলার এবং শেষ বলে লো ফুলটস ডেলিভারিতে ৪ মেরে দলীয় সংগ্রহকে ১৫তে নিয়ে যান এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

ফলে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৬ বলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ রানের। যা তাড়া করতে কিউইদের পক্ষে নামেন মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশাম। অন্যদিকে ইংলিশদের পক্ষে বল হাতে তুলে নেন গতি তারকা জোফরা আর্চার। যিনি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১ ওভারে সর্বোচ্চ খরচ করেছেন ১৫ রান। এবার ইংল্যান্ডের হয়ে শিরোপা জিততে তাকে ডিফেন্ড করতে হতো ১৬ রান।

ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইক নেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। অতিরিক্ত চাপে শুরুর বলটি নিশামের ব্যাট থেকে অনেক দূরে করে বসেন আর্চার। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা দুই হাত প্রসারিত করে জানিয়ে দেন এট ই ওয়াইড বল। ফলে ৬ বলে ১৫ রানে নেমে আসে সমীকরণ।

পরের বলটিই ইয়র্কার করেন আর্চার। তবু সে বল থেকে ২ রান নিতে সক্ষম হন নিশাম। ৫ বলে বাকি থাকে ১৩ রান। দ্বিতীয় বলেই বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন নিশাম। ২ বলে ৯ রান করে ফেলায় শেষের ৪ বলে কিউইদের বাকি থাকে ৭ রান।

ছন্দে থাকা নিশাম তৃতীয় বলে নেন আরও ২ রান। সমীকরণ নেমে আসে ৩ বলে ৫ রানে। চাপের মুখে চতুর্থ বলটি করেন স্লোয়ার। যে বলে আবার ২ রান নেন নিশাম। কিন্তু শেষ ২ বল থেকে নিশাম ও গাপটিল মিলে ২ রানের বেশি করতে পারেননি। ফলে সুপার ওভারও টাই হয় এবং শিরোপা উঠে যায় ইংল্যান্ডের ট্রফি কেসে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com