আপডেট

x

বিদায় সংবর্ধনায় জেলা প্রশাসক অঝোর ধারায় কাঁদলেন,কাঁদালেন সংস্কৃতিসেবীদের

মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি ২০২২ | ১০:০৭ অপরাহ্ণ | 112 বার

বিদায় সংবর্ধনায় জেলা প্রশাসক অঝোর ধারায় কাঁদলেন,কাঁদালেন সংস্কৃতিসেবীদের

নিজে অঝোর ধারায় কেঁদে,উপস্থিত শতাধিক শিল্পী-সংস্কৃতিসেবীদের কাঁদালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদায়ী জেলা প্রশাসক সংস্কৃতিবান্ধব হায়াত-উদ-দৌলা খান। মঙ্গলবার রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এমন আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গত তিনবছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ,করোনার দু:সময়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিল্পী-সংস্কৃতিসেবীদের পাশে দাঁড়ানো সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে অসামান্য অবদান রাখায় জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানকে সর্বস্তরের শিল্পী-সংস্কৃতিসেবীদের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়।


এসময় আয়োজনের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট সহ ফুলেল শুভ্চ্ছোয় সিক্ত করা হয়। ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা শিল্পকলা একাডেমী,সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক লাইব্রেরী,সাহিত্য একাডেমী,উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী,ভাষা ও সাহিত্য অনুশীলন কেন্দ্র,রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু নাট্যম,আবরনি আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র,তিতাস সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ,খেলাঘর আসর,তিতাস আবৃত্তি সংগঠন,আনন্দলোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র,লোকসংস্কৃতি পরিষদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া আবৃত্তি একাডেমী,সোনালী সকাল,চেতনায় স্বদেশ গণগ্রন্থাগার। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সঙ্গীত প্রশিক্ষক পীযুষ কান্তি আচার্য।

webnewsdesign.com

এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার,সাহিত্য একাডেমী সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন,দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন সম্পাদক মনজুরুল আলম,নারী সংগঠক নন্দিতা গুহ,রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ সভাপতি অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল,বিশিষ্ট লেখক সোপানুল ইসলাম সোপান,শিশু নাট্যম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো.খান বিটু,উদীচী সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বপন,চেতনায় স্বদেশ গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠাতা কবি আমির হোসেন,আবরনি আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র নির্বাহী পরিচালক হাবিবুর রহমান পারভেজ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া আবৃত্তি একাডেমী সভাপতি মনিরুজ্জামান ভূঞা,কবির কলম সভাপতি মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ।

এসময় সংবর্ধনার জবাবে হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন,আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুধু কাজ করিনি এখানকার মানুষের সাথে বসবাসও করেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আমার আবেগের জায়গা। এখানকার মানুষের ভালোবাসা চিরকাল মনে থাকবে। কোনোদিন এখানকার কথা ভুলবো না। এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেককিছু করবার ইচ্ছে ছিলো সবকিছু হয়তো করতে পারিনি। আপনারা আমার অক্ষমতা ক্ষমা করবেন। আমার সারাজীবনের সুখের স্মৃতির নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সবসময় সপরিবারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের একজন হয়ে থাকতে চাই। তিনি আরো বলেন,এখানকার দেশপ্রেমিক সংস্কৃতিসেবীরা আমাকে যে ভালোবাসা দেখিয়েছে তা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জন। এখানকার সংস্কৃতিসেবীরা শুদ্ধ-শুভ চিন্তার ধারক এবং দূত। এখানকার ঐতিহ্য-সম্মান রক্ষায় তাদেরকেই কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন,যারা ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এমন সংস্কৃতিসেবীরা কোনোদিন সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। আমরা চিরকাল শুদ্ধ-শুভপথে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই সেইজন্য আপনারা আমার জন্য দোয়া-আশীর্বাদ করবেন।

 


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com