বিজয়নগরে হারুন হত্যা: জামিন দেয়নি আদালত,৮ আসামীর ঠাঁই হলো কারাগারে

মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১:২৫ পূর্বাহ্ণ |

বিজয়নগরে হারুন হত্যা: জামিন দেয়নি আদালত,৮ আসামীর ঠাঁই হলো কারাগারে
Spread the love

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরের পত্তন ইউনিয়নে হারুন মিয়ার উপর হামলা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ৩০২ ধারা যুক্ত করে। ২০২২ সালের ১৯ ডিসেম্বর আদালতে হত্যা মামলার ধারা ৩০২ যুক্ত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানা ভূইয়া আবেদন করেছিলেন।

এরপরই গত বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (বিজয়নগর) আদালতে ৮ জন আসামী করিম মিয়া (৫০), মোতালিব মিয়া (৪০) লিলু মিয়া (৩২), লিটন (২০), সুমন মিয়া (২০), আব্দুল আহাদ (৪০), হেবজু মিয়া (৪০), আলমগীর মিয়া (৪০) হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (বিজয়নগর) বিচারক শাখাওয়াত হোসেন তাদের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন৷

webnewsdesign.com

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষীমুড়া গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে হারুন মিয়ার পরিবার ও একই এলাকার মৃত সোবহান মিয়ার ছেলে করিম মিয়ার মধ্য পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে করিম মিয়ার লোকজন হারুন মিয়াসহ তার পরিবারের আরও ৪-৫ জনকে পিটিয়ে জখম করেন। এই ঘটনায় বিজয়নগর থানায় হারুন মিয়ার পরিবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর করিম মিয়ার লোকজন হারুন মিয়াকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে৷ পরবর্তীতে স্থানীয় চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে ডেকে তা শালিসের মাধ্যে আপোষ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে কর্ণপাত করেনি করিম মিয়া ও তার দলের লোকেরা। পরে গত বছর ৭ অক্টোবর হারুন মিয়া, তার ছেলে ও ভাতিজাকে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে শেখ হাসিনার সড়কে করিম মিয়ার লোকজন অতর্কিত ভাবে তাদের উপর হামলা করেন৷ এতে হারুন মিয়ার একটি হাত ও একটি পা ভেঙ্গে যায়। এই ঘটনায় হারুন মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম বাদি হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে দলবল নিয়ে আটক, হামলা করে জখম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বিজয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে হারুন মিয়া গুরুত্বর আহত হওয়ায় তাকে এক মাস হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা চলমান রাখা হয়। পরে ১০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারুন মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

হারুন মিয়া মৃত্যুর পর তার স্ত্রী মাজেদা বেগমের দায়ের করা মামলাটিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জুয়েল রানা আদালতে ৩০২ ধারা যুক্ত করার আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ্য করেন, বাদীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হারুন মিয়া পূর্বে মামলার ঘটনায় জখমের কারণে অসুস্থ্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। জখমী মৃত হারুন মিয়া মাঝে মাঝে রক্ত বমি করতেন বলে জানা যায়। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। মৃত হারুন মিয়াকে আসামীপক্ষ চরম ভাবে মারধর করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। হামলার মামলার ঘটনায় এমসিতে ব্লান্ট হেবী এসেছে। মামলার ঘটনায় জখমী অসুস্থ্য অবস্থায় বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিল। মৃত হারুন মিয়া হাসপাতাল হতে বাড়িতে এসে স্বাভাবিকভাবে হাটাচলা করতে পারতেন না মর্মে তদন্তে প্রকাশ পায়। এই অবস্থায় মামলায় পেনাল কোড আইনের ৩০২ ধারা সংযুক্ত করার অনুমতি দানে আবেদন জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে বাদি পক্ষের আইনজীবী ওসমান গণি জানান, মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। আসামীরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।

 

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com