বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সনাতন ধর্মের মানুষের কল্যাণের জন্য : সন্তোষ শর্মা

শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪ | ১০:০৫ অপরাহ্ণ |

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সনাতন ধর্মের মানুষের কল্যাণের জন্য : সন্তোষ শর্মা
Spread the love

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক “দৈনিক কালবেলা” পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা বলেছেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ করা হয়েছে সনাতন ধর্মের মানুষের কল্যাণের জন্য। সনাতনী হিন্দু মানেই হলো আদি-অনন্ত। সনাতনী মানেই হলো জ্ঞানী ও বিনয়ী, সনাতনী হলো যত মত, তত পথ।

তিনি শনিবার (২৯ শনিবার) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

webnewsdesign.com

এ সময় সন্তোষ শর্মা বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক মত থাকতে পারে।আমরা কেউ রামকৃষ্ণ মিশনের শিষ্য, কেউ ইস্কনের ভক্ত, কেউ সৎসঙ্গের শিষ্য কেউবা স্বামী স্বরুপানন্দের বা রামঠাকুরের শিষ্য। আমাদের মধ্যে অনেক মত থাকবে কিন্তু আমরা সবাই সনাতনী।

তিনি বলেন, পূজা পরিষদ কেবল পূজা উদযাপনের জন্য করা হয়না, পূজা পরিষদ করা হয় সকল মন্দির এবং মন্দিরের সম্পদকে রক্ষা করার জন্য, মা-বোনরা কেউ যাতে ধর্মান্তরিত না হয় সেজন্য পূজা পরিষদ করি। আমাদের কোন হিন্দু ছেলে-মেয়ে যাতে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না থাকে বিনা চিকিৎসায় যেন না মারা যায় সেজন্য পূজা পরিষদ করি। আমরা পদের লোভে পূজা পরিষদ করি না। ১৯৮৪ সাল থেকে নিঃস্বার্থভাবে পূজা পরিষদ করে আজ সেক্রেটারী হয়েছি।

তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, পদের লোভ ত্যাগ করে হিন্দুদের কল্যাণে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। তিনি বলেন, যারা দুঃসময়ে সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছে আমরা তেমন নেতৃত্ব চাই। যাদের দৃঢ় নেতৃত্বে মন্দির রক্ষা পাবে, মা-বোনেরা নিরাপদ থাকবে। প্রায় প্রতিদিনি কোন না কোন দুর্ঘটনার খবর পাই এতে অনেক কষ্ট হয়।

তিনি আরো বলেন, যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কিছু লোক ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম নিয়ে উপহাস করে অথচ সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। কিন্তু কোথাকার ফেসবুক আইডি হেক করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নাসিরনগরের হিন্দুদের বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেয়। আমি চারবার ঘটনাস্থলে এসে দেখেছি কত কষ্ট, কত বেদনা। এই রকম ঘটনা যারা রোধ করতে পারবে তারাই নেতৃত্বে আসবে। তিনি জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে পদের লোভ ত্যাগ করে সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে নতুন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে আহ্বান জানান।

এদিকে দীর্ঘ ৭ বছর পর বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করে উৎসবমূখর পরিবেশ। সকাল থেকে জেলার ৯টি উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা আনন্দ মিছিল নিয়ে শহরের হালদার পাড়াস্থ শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ি নাটমন্দির চত্বরে সম্মেলনস্থলে সমবেত হন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। পরে শিশু নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানশেষে সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক শ্রী বাসুদের ধর।

সম্মেলনি সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুনিল চন্দ্র দেবের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রী রবিন্দ্রনাথ বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী এড: কিশোর কুমার রায় চৌধুরী পিন্টু, কার্যকরী সদস্য ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী ডা: আশীষ কুমার চক্রবর্তী।

এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি সোমেশ রঞ্জন রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মিন্টু ভৌমিক, সুভাষ চন্দ্র পাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ নাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিমল রায়, এডভোকেট প্রণব কুমার দাস উত্তম, প্রদ্যুৎ রঞ্জন নাগ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সঞ্জীব চন্দ্র সাহা বাপ্পী।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com