বঙ্গবন্ধুর বৈপ্লবিক কৃষি ভাবনা ও উদ্যোগ

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৯:২৪ অপরাহ্ণ |

বঙ্গবন্ধুর বৈপ্লবিক কৃষি ভাবনা ও উদ্যোগ
Spread the love

আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি, কৃষিবিদ দিবস। সারা দেশে কৃষিবিদরা প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করে থাকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এ প্রেক্ষাপটে ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস উদযাপন করা হয়। এই দিনে দেশের কৃষক, কৃষিবিদ ও কৃষির সার্বিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হয়।

অনাদিকাল থেকে কৃষিই বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রাণ। এ দেশের মানুষ খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কৃষির ওপর নির্ভর করে আসছে। অন্যদিকে, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বিপুল অংশ ছিল কৃষক ও কৃষি শ্রমিক। এই কারণে, দারিদ্র্য হ্রাসে ও কর্মসংস্থান সরবরাহে কৃষির ভূমিকা ছিল বরাবরই অপরিসীম। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে গ্রামীণ প্রান্তিক মানুষের মুক্তি, অগ্রগতি ও দারিদ্র্য বিমোচন অনেকটা কৃষির অগ্রগতির উপর নির্ভরশীল। তিনি কৃষকদেরকে জাতির মেরুদণ্ড বলে মনে করতেন। বিভিন্ন বক্তৃতা-বক্তব্যে তিনি কৃষি এবং কৃষকের অবস্থার উন্নতির জন্য উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলতেন ।

webnewsdesign.com

স্বদেশ উন্নয়নে শিক্ষিত শ্রেণির চেয়ে কৃষকের অবদান বেশি সে কথা বলতে তিনি দ্বিধা করতেন না। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু কৃষিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সদ্য স্বাধীন দেশকে কৃষিতে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে নিয়েছিলেন নানামুখী উদ্যোগ। স্বাধীনতাপূর্ব ও উত্তরকালে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর কৃষি ভাবনা ও উদ্যোগ এখনও বর্তমান কৃষিকে পথ দেখাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নের যে জয়যাত্রা শুরু করেছিলেন বর্তমান সরকার তা অনুসরণ করে সে অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখেছে।

স্বাধীনতার পূর্বে কৃষক ও কৃষির কল্যাণে বঙ্গবন্ধু
স্বাধীনতা পূর্বকালে পূর্ব পাকিস্তানের কৃষকদের নিয়ে শাসকগোষ্ঠীর তেমন নজর ছিল না বললেই চলে। কৃষির প্রতি তখনকার শাসকদের উদাসীনতা বঙ্গবন্ধুকে ভীষণভাবে পীড়িত করত। সেই অনুধাবন থেকেই তিনি কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন। পাকিস্তানের পার্লামেন্টে কৃষক ও কৃষি উন্নয়নের কথা বলতেন অত্যন্ত জোরালোভাবে। ১৯৫৪ সালের পাকিস্তানের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় বঙ্গবন্ধুর সক্রিয়তায় কৃষি উন্নয়ন, পাটের মূল্য, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয় সবিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রসঙ্গত বঙ্গবন্ধু ১৯৫৪-৫৫ সালের তৎকালীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষি মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষে ১৯৭০ সালের ২৮ শে অক্টোবর বেতার ও টেলিভিশনে প্রাক-নির্বাচনী ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এযাবৎ বাংলার সোনালি আঁশ পাটের প্রতি ক্ষমাহীন অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে। একটা স্বল্প সম্পদের দেশে কৃষিপণ্যের অনবরত উৎপাদন হ্রাসের পরিস্থিতি অব্যাহত রাখা যেতে পারে না।

দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধির সব প্রচেষ্টা নিতে হবে। চাষিদের ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্য প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের গোটা কৃষি ব্যবস্থায় বিপ্লবের সূচনা অত্যাবশ্যক। কৃষকের স্বার্থে গোটা ভূমি ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস সাধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ভূমি দখলের সর্বোচ্চ সীমা অবশ্যই নির্ধারণ করে দিতে হবে। নির্ধারিত সীমার বাইরের জমি এবং সরকারি খাসজমি ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। কৃষি ব্যবস্থাকে অবশ্যই আধুনিকীকরণ করতে হবে।

অবিলম্বে চাষীদের বহুমুখী সমবায়ের মাধ্যমে ভূমি সংহতি সাধনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’ তিনি এই বক্তব্যে আরও বলেন, ‘ভূমি রাজস্বের চাপে নিষ্পিষ্ট কৃষককুলের ঋণভার লাঘবের জন্যে অবিলম্বে আমরা ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা বিলোপ এবং বকেয়া খাজনা মওকুফ করার প্রস্তাব করছি। আমরা বর্তমান ভূমি রাজস্ব প্রথা তুলে দেবার কথা ভাবছি।

প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বাধিক উন্নয়নের জন্যে বৈজ্ঞানিক তৎপরতা চালাতে হবে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমাদের বনজ সম্পদ, ফলের চাষ, গো-সম্পদ, হাঁস-মুরগির চাষ সর্বোপরি মৎস্য চাষের ব্যবস্থা করতে হবে।’ নির্বাচনে বিজয়ের পর, ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে আবারও বলেন, ‘আমার দল ক্ষমতায় যাওয়ার সাথে সাথেই ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করে দেব। আর দশ বছর পর বাংলাদেশের কাউকেই জমির খাজনা দিতে হবে না।

পশ্চিম পাকিস্তানের বেলায়ও এই একই ব্যবস্থা অবলম্বন করা হবে। সরকারের খাসজমিগুলো বণ্টন করা হয়েছে ভুঁড়িওয়ালাদের কাছে। তদন্ত করে এদের কাছ থেকে খাসজমি কেড়ে নিয়ে তা বণ্টন করা হবে বাস্তুহারাদের মধ্যে।’তাই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধও বঙ্গবন্ধুর কৃষি দর্শনকে ধারণ করেছিল এবং কৃষি সংস্কৃতি দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের অজস্র স্লোগানে মাঝে অনুরণিত হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সেই গগণবিদারী স্লোগান- ’বাংলার প্রতি ঘর, ভরে দিতে চাই মোরা অন্নে।’ এই স্লোগান তখন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত করেছিল। স্বাভাবিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশই ছিল কৃষক। তাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জিত সদ্য স্বাধীন দেশ তার কৃষি বৈশিষ্ট্য থেকে কখনও বিচ্যুত হয়নি।

স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর বৈপ্লবিক উদ্যোগ
বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কৃষি অর্থনীতিতে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেন। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে তিনি সর্বপ্রথমে ‘কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে সবুজ বিপ্লবের ডাক দিলেন। ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বঙ্গবন্ধু কৃষকদের জন্য নিলেন যুগান্তকারী সব সিদ্ধান্ত । সুদসহ মওকুফ করে দিলেন বকেয়া সমস্ত খাজনা ।

২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফের ঘোষণাও দেন তিনি। যুগোপযোগী ভূমি সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং জমির মালিকানার সর্বোচ্চ সীমা ১০০ বিঘা নির্ধারণ করে দেন। উদ্বৃত্ত জমি ও খাসজমি তিনি ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে বণ্টনের উদ্যোগ নেন। পাকিস্তানি শাসনামলে দায়ের করা ১০ লাখ সার্টিফিকেট মামলা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেন এবং তাদের সমস্ত বকেয়া ঋণ সুদ সহ মওকুফ করে দেন।
১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের চাষি হলো সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে নিয়োজিত করতে হবে।’ ১৯৭২ সালের মধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে বিনা মূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে কৃষি উৎপাদনের জন্য ১৬ হাজার ১২৫ টন ধানবীজ, ৪৫৪ টন পাটবীজ ও ১ হাজার ৩৭ টন গমবীজ সরবরাহ করা হয়। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর গৃহীত এ সকল উদ্যোগ দ্রুত কৃষিতে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

কৃষি বান্ধব বঙ্গবন্ধু সরকার প্রণীত প্রথম বাজেটে কৃষি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ৫০০ কোটি টাকা উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে কৃষি উন্নয়নের জন্য ১০১ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু প্রণীত প্রথম পঞ্চবার্ষিক (১৯৭৩-৭৮) পরিকল্পনায় কৃষিতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৩১ শতাংশ। উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। আধুনিক কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বীজ ও সার সরবরাহের জন্য বিএডিসিকে পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করা হয়। বিএডিসির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সরকার ভর্তুকিসহ সার ও সেচ মেশিন বিতরণের ব্যবস্থা করেন।

নগদ ভর্তুকি ও সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে কৃষকদের মধ্যে সেচ সরঞ্জাম বিক্রির ব্যবস্থা করেন। ফলে মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি সারের ব্যবহার ৮০ শতাংশ, অগভীর নলকূপের সংখ্যা ৪৮৮ শতাংশ, গভীর নলকূপের সংখ্যা ২২০ শতাংশ এবং পাওয়ার পাম্পের সংখ্যা ৬৫ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। ভালো বীজ সরবরাহের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড গঠন করেন, প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন ‘বীজ অনুমোদন সংস্থা’ তথা আজকের ‘বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি’। এছাড়া বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় অনুমোদন করেন ‘দানাশস্য বীজ প্রকল্প’। এ সময় বিএডিসিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয় ধান, পাট ও গমবীজ ফসলের প্রত্যয়িত বীজ উৎপাদনের জন্য। কৃষি উৎপাদনে প্রণোদনার লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৩ সালে প্রবর্তন করেছিলেন জাতীয় কৃষি পুরস্কার।

বঙ্গবন্ধু মর্মে মর্মে অনুভব করতেন কৃষি গবেষণা ছাড়া কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই মহান স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই কৃষির উৎপাদনশীলতা, গবেষণা ও সম্প্রসারণে গতিশীলতা আনায়নের জন্য কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পুনর্গঠন করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭২ সালে তুলা চাষ সম্প্রসারণের জন্য তুলা উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন। পুনর্গঠন করেন হর্টিকালচার বোর্ড। প্রতিষ্ঠা করা হয় পাট মন্ত্রণালয় এবং পুনর্গঠন করা হয় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট ।সম্প্রসারণ ও পুনর্গঠন করা হয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট। কৃষি গবেষণা সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট পুনর্গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিউয়ার অ্যাগ্রিকালচার (বিনা) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সকল উদ্যোগ সে সময় কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। ফলে ১৯৭৪ সালে কৃষিতে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ শতাংশ এবং ১৯৭৫ সালে শস্য উৎপাদন ৮৭ লাখ টন থেকে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ২৩ লাখ টনে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সে সময় ধানের উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ হয়েছিল।

কৃষিবিদ দিবসের প্রেক্ষাপট
কৃষির সার্বিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর চিন্তাভাবনা ছিল দূরদর্শী। বঙ্গবন্ধু খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, কৃষিশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থী না আসলে এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষি পেশা ও গবেষণায় মেধাবী ছাত্রদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন মঞ্চে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় এক ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের মতো কৃষিবিদদের চাকরিক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদা প্রদান করেন।

বঙ্গবন্ধুর সেদিনের সে সিদ্ধান্ত এ দেশের কৃষি, কৃষক ও কৃষিবিদদের জন্য ছিল ঐতিহাসিক মাইলফলক। তাইতো বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর অবদান, কৃষিবিদ ক্লাস ওয়ান’ স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয় আজও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবুজ চত্বর। তার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার পথ ধরেই আজও কৃষিবিদরা সরকারি চাকরিক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। জাতির জনকের দেওয়া এ সম্মানকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন।

আজকের কৃষি খাতে দেখা যে বহুমুখী সাফল্যের গল্পগাঁথা এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানের সক্ষমতার, তার মূল ভিত্তিই স্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কৃষিবান্ধব বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত মেয়াদে কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষক কল্যাণে নেয়া উল্লেখযোগ্য অবদান কৃষির ইতিহাসে অতুলনীয়।

সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং কৃষি উন্নয়নের পথিকৃৎ বঙ্গবন্ধু নিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে কৃষি ও কৃষকের সাথে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। কৃষক ও কৃষির কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর আজন্ম মমত্ব এই জনপদের কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈপ্লবিক কৃষি ভাবনা সব সময় একটি উদাহরণ হিসেবে অবিস্মরণীয় থাকবে। তাই কৃষিবিদ দিবসে স্মরণ করছি এবং শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাচ্ছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের প্রতি।

বঙ্গবন্ধুর গৃহীত নীতি-কৌশলের আলোকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারও কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। কৃষির উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ সম্পন্ন করার মাধ্যমে করে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কৃষিতে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় সাফল্য দেশের আপামর জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য দূরীকরণ মাধ্যমে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাবে, প্রতিষ্ঠা করবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা -এটাই কৃষিবিদ দিবসে জনপ্রত্যাশা।

লেখক: পরিচালক, আইকিউএসি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com