বক্তব্য গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় করা হয় হামলা, জিহ্বা কাটে ইসলামি বক্তার (ভিডিও)

বুধবার, ০৮ মার্চ ২০২৩ | ১০:০৩ অপরাহ্ণ |

Spread the love

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ইসলামি বক্তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় হামলা করা হয়। সেই হামলায় জিহ্বা কাটে ইসলামি বক্তার। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪জনকে আটক করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার চট্রগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে র‍্যাব-৯ এর সদস্যরা। বুধবার (৮ মার্চ) দুপুরের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দক্ষিণ পৈরতলার র‍্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, জেলার বিজয়নগর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মৃত হেলিম ভূইয়ার ছেলে এজহারনামীয় আসামী জাকির হোসেন জাক্কি (৪৮), একই গ্রামের হাজী আমির আলী ভূঁইয়ার ছেলে মাহবুবুল আল শিমুল (৩৩), উপজেলার চাওড়া দৌলতবাড়ী আব্দুর রহমানের ছেলে সুমন (৩৫) ও কুমিল্লার দেবিদ্বারের মৃত শিরু মিয়ার ছেলে এবং বর্তমান চাওড়া দৌলতবাড়ীর বাসিন্দা মো. আমিরুল ইসলাম রিমন (২০)।

webnewsdesign.com

র‍্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার মুমিনুল হক জানান, মাওলানা মুফতি শরীফুল ইসলাম নুরী (৩৮) জেলার বিজয়নগরের একটি ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক্রা করে। গত ০৫ মার্চ মধ্যরতে ইসলামী বক্তা মাওলানা মুফতি শরীফুল ইসলাম নুরী তার সহযোগী একজন সহ বিজয়নগর এলাকার দৌলতবাড়ী দরবার শরীফের মাহফিল শেষে নিজ বাড়ি সদর উপজেলার চিনাইরে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জেলার আখাউড়া উত্তর ইউপির রামধননগর গ্রামের রেলক্রসিং এর কাছে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত আক্রমন করে। আসামীরা মাওলানা শরীফের মুখে আঘাত করলে জিহ্বা কেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়। তারা সাথে থাকা ব্যক্তিকেও এলোপাথাড়ী মারধর করে গুরুতর জখম করে ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাংচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ঘটনায় দেশ জুড়ে আলোচিত হয়। এই ঘটনায় মাওলানা শরীফের চাচা মো. আব্দুল বাছির ভূইয়া বাদী হয়ে এজাহারনামীয় ০২জনসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

এরই প্রেক্ষিতে র‍্যাব এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা ব্যাপকভাবে জোরদার করে। র‍্যাব গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাচেষ্টার সাথে জড়িত ৪জনকে চট্টগ্রাম জেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থান হতে এজাহারনামীয় একজনসহ ৪ জন আসামীকে আটক করতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান ইসলামী বক্তা মাওলানা শরীফুল ইসলাম নুরীর সেদিনের ওরসের বক্তব্যের কিছু অংশ তাদের কাছে গ্রহণ যোগ্য মনে হয় নাই এবং সেই বক্তব্যে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং মাওলানা শরীফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার সিদ্ধান্ত নেয়। যার ফলশ্রুতিতে, মাওলানা শরীফ ওরস থেকে ফেরার পথে তার উপর অতর্কিত হামলা করে। হামলার ফলে তার জিহ্বা কেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা রক্তাক্ত গুরত্বর জখম হয়। এই ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্তে স্পষ্ট হবে।

এসময় র‍্যাব-৯ সিপিসি-১ এর কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোহাম্মদ নাহিদ হাসান ও মিডিয়া অফিসার জেষ্ঠ্য সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল-আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com