আপডেট

x

ফেসবুকে ‘ছবি ব্যবহার’ নিয়ে চলছে ভুয়া স্ট্যাটাস

শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ১:৩১ পূর্বাহ্ণ | 83 বার

ফেসবুকে ‘ছবি ব্যবহার’ নিয়ে চলছে ভুয়া স্ট্যাটাস

বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক সাইট ঘুরে জানা গেছে, ফেসবুকে যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এই বার্তার কোনো ভিত্তি নেই। ফেসবুক বা মেটা এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি, যেখানে ব্যবহারকারীদের ছবি নিতে অনুমতি দরকার নেই বলে উল্লেখ রয়েছে। ফেসবুকের প্রাতিষ্ঠানিক নাম বদলে ‘মেটা’ হওয়ার পর থেকেই গুজবটি ছড়াতে শুরু করে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে যাচ্ছে ফেসবুক ও মেটা- এমন একটি বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেকের প্রোফাইলে।

webnewsdesign.com

বার্তাটিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তির ছবি নিতে যেন অনুমতির প্রয়োজন না হয়, সেজন্য নতুন একটি নীতিমালা গ্রহণ করেছে ফেসবুক ও মেটা। তবে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আগেই আপত্তি জানিয়ে রাখলে ফেসবুক-মেটা এ কাজ করতে পারবে না।

মেসেঞ্জারে ছড়ানো মূল বার্তাটি ইংরেজি। অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদও বার্তায় যোগ করা হয়েছে। অগোছালো ইংরেজি আর বাংলায় বার্তাটির শুরুটা করা হয়েছে এভাবে:

আগামীকাল ফেসবুক/মেটা নতুন নিয়ম চালু করবে, যার মাধ্যমে তারা আপনার ছবি অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবে। ভুলে যা‌বেন না, আজ শেষ দিন! তাই একটা কাজ করুন। আপনার বিরুদ্ধে মামলায় এ নিয়ম কাজে লাগানো হতে পারে। আপনি যা কিছু পোস্ট করেছেন – এমনকি মুছে ফেলা বার্তাও। এতে কোনো খরচ নেই, শুধু কপি করে পোস্ট করুন, পরে আফসোস করার চেয়ে ভালো হ‌বে।”

তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক সাইট ঘুরে জানা গেছে, এই বার্তার কোনো ভিত্তি নেই। পলিফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্তাটি ভুয়া। ফেসবুক বা মেটা এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি, যেখানে ব্যবহারকারীদের ছবি নিতে অনুমতি দরকার নেই বলে উল্লেখ রয়েছে।


ফেসবুকের প্রাতিষ্ঠানিক নাম বদলে ‘মেটা’ হওয়ার পর থেকেই গুজবটি ছড়াতে শুরু করে।

কথিত ওই সতর্কবার্তার পরের অংশে বলা হয়েছে, কীভাবে প্রোফাইলে একটি আইনি নোটিশ পোস্ট করলে ফেসবুক চাইলেও ব্যবহারকারীদের তথ্য নিতে পারবে না:

ইউসিসি আইনের অধীনে ১-২০৭, ১-৩০৮… আমি আমার অধিকার সংরক্ষণ আরোপ করছি… আমি ফেসবুক/মেটা বা ফেসবুক/মেটা সম্পর্কিত কোনো ব্যক্তিকে আমার ছবি, তথ্য, বার্তা ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছি না, অতীতে এবং ভবিষ্যতে কোনো সময়েই।

এই পোস্টটি কপি করে আপনার নি‌জের পে‌জে পোস্ট করে রাখুন এবং ঘোষণা দিন যে, আমি ফেসবুক/মেটাকে তাদের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা আমার তথ্য অন্য কোথাও শেয়ার করার অনুমতি দিচ্ছি না। ছবি, বর্তমান বা অতীত, বন্ধু-বান্ধব, ফোন নম্বর, ই-‌মেইল অ্যা‌ড্রেস, ব‌্যক্তিগত কোনো তথ‌্য বা পোস্ট- এসবের কিছুই আমার লিখিত অনুমতি ছাড়া ভিন্নরূপে ব্যবহার করা যাবে না।

এ বিষয়ে একমত পোষণ করছি এবং আমার ব্যক্তিগত সমস্ত তথ্য আমার অনুমতি ছাড়া অন্যকে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি। কেউ আমার ছবি, তথ্য বা ফেইসবুকে প্রদত্ত পোস্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগেও অসংখ্যবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। সেগুলোর মতোই সবশেষ এই বার্তারও কোনো ভিত্তি নেই।

ফেসবুকে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের পোস্টগুলো লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করে থাকে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক কোনো নীতিমালা গ্রহণ বা পরিবর্তন করলে তা আটকাতে ব্যক্তিগত কোনো পোস্ট কোনো কাজে আসে না।

অনলাইনে এ ধরনের গুজব প্রথম ছড়ায় ২০১২ সালের নভেম্বরে। সে সময় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মাত্র উন্মুক্ত হয় সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটি। এবারের ভুয়া বার্তাটির ভাষা একটু বদলে গেলেও এটি অনেকটি ২০১২ সালের বার্তার মতোই। তখন লেখা হয়েছিল, কিছু একটা পোস্ট করুন, না হলে আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে ফেসবুক।

বাস্তবে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীরা গোপনীয়তা বা কপিরাইট সংক্রান্ত শর্তে সম্মতি দেন। এ কারণে পরে তারা চাইলেও পূর্বাবস্থায় ফিরতে পারেন না। একইভাবে কেবল একটি নোটিশ পোস্ট করে ফেসবুকের নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তেও কোনো প্রভাব ফেলা যায় না।

তথ্য-সূত্র: ফ্যাক্ট চেকার ও নিউজ বাংলা

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com