জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

দিন

ঘন্টা

মিনিট

সেকেন্ড

প্রেমিকার তথ্যে উদঘাটন হলো সিএনজি চালক সাইদুর হত্যার রহস্য

সোমবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৭:০৫ পিএম | 87 বার

প্রেমিকার তথ্যে উদঘাটন হলো সিএনজি চালক সাইদুর হত্যার রহস্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সিএনজি অটোরিকসা চালক সাইদুর রহমান (১৯) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। গত ২০১৯সালের ২৯ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে নিখোঁজের পর নতুন বছরের ২জানুয়ারী উপজেলার কাঞ্চনমুড়ি এলাকায় একটি বাথরুমের সেপ্টি ট্যাংকির ভেতর থেকে গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় নিহতের মা হনুফা বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় তদন্ত শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার শীতলপাড়া থেকে একই উপজেলার কাঞ্চনমুড়ি এলাকার দানু মিয়ার ছেলে মো. রানা(২০)কে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথদল।

এই বিষয়ে জানাতে সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা পুলিশ।  এতে পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান বলেন, নিহত সাইদুর রহমান ও আটক মো. রানা প্রতিবেশি। সাইদুর তার সম্পর্কে ভাতিজা হয়। তারা সমবয়সের হওয়ায় একসাথে চলাচল করতো। দুইজন প্রায় সময় জুয়া খেলতে বসলে সাইদুর খেলায় জিতে যেত। কিছুদিন আগে রানা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। গত ২৯ ডিসেম্বর কসবা সীমান্ত কমপ্লেক্সের সামনে সাইদুরের সাথে দেখা হয় রানার। এসময় সাইদুরের মানি ব্যাগে অনেক টাকা ও নতুন মোবাইল সেট দেখতে পায়। সাইদুরের টাকা ও মোবাইলের প্রতি রানার লোভ হয়। এসময় রানা নানান ফন্দি করে সাইদুরকে প্রস্তাব দেয়, “রাতে এক লোক ইয়াবা নিয়ে আসবে, সেই ইয়াবা পৌছে দিলে ৪০০০/- টাকা দিবে। এতে সিএনজি ব্যবহার করা লাগব না, ড্রেজারের মাঠের উপর দিয়ে হেটে গেলেই হবে”।রানার দেয়া ফাঁদে লোভে পরে সাইদুল কথা অনুযায়ী রাত সাড়ে ৭টায় ড্রেজারের মাঠে হাজির হয়। সেখানে এসে সাইদুর তার প্রেমিকার সাথে  মোবাইলে কথা বলতে থাকে। এসময় রানা একটি বাশেঁর খুটি দিয়ে পেছন থেকে সাইদুরের মাথায় আঘাত করলে মাটিতে লূটিয়ে পড়ে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর সাইদুরকে ঝাপটে ধরে ও মাফলার দিয়ে গলায় পেচিয়ে ধরে। পরে সাইদুরের গলায় ক্ষুর দিয়ে পোচ মেরে হত্যা করে।

হত্যার পর মানিব্যাগ মোবাইল রেখে মাঠের পাশে সাইদুরের লাশ একটি বাথরুমের ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। তদন্ত শেষে গত ১২জানুয়ারী কসবা থেকে রানাকে গ্রেফতার করে ডিবি ও পুলিশ ।

এসময় পুলিশ সুপার আরও জানান, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই আটক হয়েছে রানা। হত্যাকাণ্ডের সময় সাইদুর তার মোবাইল ফোনে প্রেমিকার সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছিল। কল লিস্টের সূত্র ধরে আমরা সাইদুরের প্রেমিকার সাথে কথা বলেছি। সে জানিয়েছে, হত্যার সময় মোবাইলটি চালু থাকায় শুনতে পেয়েছি সাইদুর বলছে, ‘চাচা আমাকে মারিস না’। সেই সূত্রে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা তদন্ত করে রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) আবু সাঈদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) আব্দুল করিম ও বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার আলাউদ্দিন চৌধুরী এবং সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ সহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

 

রাফি/-

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com