আপডেট

x

প্রসূতিকে তাড়িয়ে দিলো প্রাইভেট হাসপাতাল, সিজার করলো সরকারি চিকিৎসকরা

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ | ২:২৯ পূর্বাহ্ণ | 141 বার

প্রসূতিকে তাড়িয়ে দিলো প্রাইভেট হাসপাতাল, সিজার করলো সরকারি চিকিৎসকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই গ্রামের বেলাল মিয়া। পেশায় একজন মাইক্রোবাস চালক। তার স্ত্রী হাসিনা আক্তার (৩৫) দুইসন্তানের জননী। এছাড়াও হাসিনা আক্তারের আরও দুইটি সন্তান জন্মের সময় মারা গেছেন। তাদের সবার নরমাল ডেলিভারি হয়েছিল। ৫ম বারের মতো সন্তান জন্ম দিতে গর্ভবতী হন হাসিনা। কিন্তু এই সন্তান জন্মদিতে গিয়ে পড়লেন চরম সমস্যায়।


গর্ভবতী অবস্থায় হাসিনা আক্তার অসুস্থ হওয়ায় গত ১১জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে জেল রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্বামী বেলাল মিয়া নিয়ে আসেন উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে। কিন্তু ওই হাসপাতাল অসুস্থ হাসিনাকে ভর্তি ও চিকিৎসা সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কারণ হিসেবে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রসূতি হাসিনা আক্তারের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ (জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাস কষ্ট) রয়েছে।

পরে কোন উপায় না দেখে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে যায় বেলাল মিয়া। সেখানে ভর্তি করানোর দুইদিন পর সোমবার দুপুরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকার ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েও হাসিনা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন করেন হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসকরা। হাসিনা আক্তার জন্ম দেন একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান।

হাসিনা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনের পুরো সমন্বয় করেন সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফৌজিয়া আখতার। এছাড়াও গাইনী চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার হ্যাপি ও নুরুল আমিন পিয়াল এ সিজারিয়ান অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন।

হাসিনার স্বামী বেলাল মিয়া বলেন, গত ১১জুলাই আশংকাজনক অবস্থায় শহরের পুরাতন জেল রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আমার প্রসূতি স্ত্রীকে নিয়ে যাই। আমার স্ত্রীর জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাস কষ্ট ছিল। কিন্তু সেই হাসপাতালের লোকজন চিকিৎসা না নিয়ে উল্টো তাড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর উপায়ান্তর না দেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর দুইদিন চিকিৎসা দিয়ে সোমবার দুপুরে তাকে সিজার করা হয়।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সমন্বয়ক ডা. ফৌজিয়া আখতার জানান, ওই প্রসূতি একজন ছেলে শিশু জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে মা ও শিশুকে ওই বিভাগের একটি আইসোলেশন কক্ষে রাখা হয়েছে। ওই কক্ষে স্মৃতি রাণী বিশ্বাস নামের একজন সেবিকা তাদের দেখাশুনা করছেন।


হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন বলেন, মা ও শিশুর কাছ থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া চিকিৎসক ও সেবিকাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com