প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, শিক্ষিকার স্বামী আটক

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৫:১১ পিএম | 120 বার

প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, শিক্ষিকার স্বামী আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রথম শ্রেনীর এক সাত বছরের ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রাইভেট শিক্ষিকার স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার রাতে এই অভিযোগে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ওই শিশুর পিতা।যার মামলা নং-১৯। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত উজ্বল মিয়া (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উজ্জ্বল উপজেলার চুন্টা ইউপির নরসিংহপুর গ্রামের মৃত জহিরুল হকের ছেলে।

এদিকে এই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার রাতেও বিষয়টি মিমাংসা তাদেরকে থানায় দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে।

পুলিশ, মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত উজ্বল উপজেলায় ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। তিনি তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে নিয়ে উপজেলা সদরের হালুয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। স্বপ্না বেগম বাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। একই এলাকার এক রাজমিস্ত্রী’র প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া সাত বছরের মেয়েও তার কাছে প্রাইভেট পড়তো। কিছুদিন আগে স্বপ্না বেগম বাসায় না থাকার সুযোগে তার স্বামী কৌশলে চকলেট কেনার দশ টাকা ওই রাজমিস্ত্রী’র শিশু মেয়ের হাতে দিয়ে ফুসলিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এর কয়েকদিন পর গত বৃহস্পতিবার পূণরায় শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শনিবার শিশুটি অসুস্থতা বোধ করলে সে তার মাকে ঘটনাটি খুলে বলে।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, লম্পট উজ্বল চকলেট কেনার টাকার লোভ দেখিয়ে আমার শিশু মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেছে। এতোদিন মেয়েটি কিছু না বললেও শনিবার মেয়েটি অসুস্থ বোধ করলে সে তার মায়ের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে। পরে তাৎক্ষণিক মেয়েকে নিয়ে আমি থানায় উপস্থিত হই।

বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করার কথা জানিয়ে স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা মামলা না করতে আমাকে ভীষণ চাপ দেয়। পরে আমি তাদের সাফ জানিয়ে দেই, এই অন্যায়ের আইনগত বিচার না পেলে শিশু কন্যাকে নিয়ে আমি আত্মহত্যা করবো।

এ ব্যাপার অভিযুক্ত উজ্বল মিয়া জানান, ধর্ষণ নয়, আমি মাঝেমধ্যে ওই শিশু মেয়েটিকে দিয়ে আমার হাত-পা টিপাইতাম, বিনিময়ে চকলেট কেনার টাকা দিতাম তাকে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন টিটু জানান, অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত উজ্বল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। শিশুটি পুলিশ হেফাজতে আছে। রোববার জেলা সদর হাসপাতালে শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। পরিক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণ ধারায় মামলায় যুক্ত হবে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com