আপডেট

x

৩৬ বছরে ধরে বিরোধ, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মা’কে কুপিয়ে হত্যা করে ছেলে

সোমবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২২ | ১১:৪৫ অপরাহ্ণ | 115 বার

৩৬ বছরে ধরে বিরোধ, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মা’কে কুপিয়ে হত্যা করে ছেলে
মা'কে কুপিয়ে হত্যাকারী জামির খাঁ।-ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আত্মীয়ের সাথে ৩৬ বছরের জমি নিয়ে বিরোধ জিততে বৃদ্ধা জোহারা খাতুনকে-(৭৮) কুপিয়ে খুন করে তাঁরই ছোট ছেলে জামির খাঁ। পৌর এলাকার শান্তিনগর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ছেলে জামির খাঁ। নিহত জোহরা খাতুন ওই এলাকার প্রয়াত রশিদ খাঁর স্ত্রী। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা জামিরের ঘর থেকে উদ্ধারের পর সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে।


আজ সোমবার (০৩ জানুয়ারি) গ্রেপ্তারকৃত জামির খাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জহিরুল ইসলামের আদালতে সোপর্দ করা হলে জামির হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দী প্রদান করেন।

webnewsdesign.com

গতকাল রোববার দুপুরে এই হত্যাকাণ্ডের পর জামির খাঁর পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশি আত্মীয়রা বৃদ্ধা জোহরা খাতুনকে খুন করেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিপক্ষের তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় রাতে পুলিশ জামির খাঁ’ কে আটক করে।

স্থানীয়রা জানান, প্রয়াত রশিদ খাঁর পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবেশি আত্মীয় বজলু খাঁর পরিবারের জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিলো। সম্প্রতি আদালতের রায় রশিদ খাঁর পক্ষে গেলে রশিদ খাঁর পরিবারের লোকজন জায়গাটি দখলে নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মান করে। গতকাল রোববার দুপুরে ওই জায়গার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তারা রশিদ খাঁর বাড়িতে হামলা করে।
ঘটনার পর তাৎক্ষনিকভাবে বৃদ্ধার ছেলে জাহাঙ্গীর খাঁ অভিযোগ করে বলেন, জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ ফজল খাঁ, ইয়াছিন খাঁসহ আরো কয়েকজন হামলা করে। বাড়িতে ঢুকে তারা এই হত্যাকান্ড চালায়।

জামির পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, জায়গা নিয়ে বিরোধে তারা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে গেছেন। আদালতের রায় পেলেও তারা ভোগদখল করতে পারছিলেন না। গতকাল রোববার প্রতিপক্ষ জায়গার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে বাড়িতে হামলা করলে তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য হুট করে রাগের মাথায় মাকে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় জামিরের বড় ভাই জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহ হলে নিহতের ছেলে জামিরকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেন। সোমবার দুপুরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য জামিরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে পাঠানো হয়।


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com