আপডেট

x

‘নিহত পিতার মরদেহও কবর দিতে পারিনি, আটকে রাখা হয়েছে হাজতে’

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭:৩৪ অপরাহ্ণ | 303 বার

‘নিহত পিতার মরদেহও কবর দিতে পারিনি, আটকে রাখা হয়েছে হাজতে’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের অরুয়াইল ইউপির রাজাপুর গ্রামে পরছন আলী নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরছন আলীর মরদেহ গত ২৩ আগস্ট রাতে পুলিশ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের পর তার শরীরে ১৬টি আঘাতের চিহ্ন পায়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এতে বাদি হয়েছেন নিহত পরছন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম। তবে পরছন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামের দাবি তার পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর সরাইল থানার পুলিশের ওসি তাকে অন্যায় ভাবে তিনদিন থানায় আটক রেখে মামলার এজহারে সাক্ষর করতে বাধ্য করেছে। এমনকি রফিকুলকে পিতার লাশ দাফন করতে দেয়নি পুলিশ।


পরছন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে ৪৫জনের নাম উল্লেখ্য করে গত ২ সেপ্টেম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এতে উল্লেখ্য করা হয়, প্রায় একবছর পূর্বে স্থানীয় আরাফাত উল্লাহ ও মনির হোসেনের নেতৃত্বে হামলা করে পরছন আলীর ভাই আব্দুল্লাহকে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের ভাতিজা পরছন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হলে জামিনে আসামীরা বের হয়ে এসে অত্যাচার শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট বিকেলে বৃদ্ধ পরছন আলী স্থানীয় চক বাজারে যাওয়ার সময় আরাফাত উল্লাহর লোকজন হামলা করে হত্যা করে। হত্যার পর হামলা করে বাড়িঘর লুটপাট করা হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে পরছন আলীর ছেলে রফিকুল জেলা শহর থেকে এসে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়িতে মরদেহ দেখতে পায়। এসময় রফিকুল পুলিশকে তার বাবার মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞাস করলে কোন প্রকার উত্তর দেয়নি। পরে পরছন আলীর মরদেহের সাথে তার ছেলে রফিকুলকে সরাইল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় নিয়ে এসে রফিকুলকে তিনদিন আটক করে রাখা হয়। রফিকুলকে জোরপূর্বক অজ্ঞাত আসামি করা এজাহারে তার সাক্ষর নেয় পুলিশ। আদালত এই মামলার উল্লেখিত রফিকুলকে তিনদিন থানায় আটক রাখার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি আদালতে দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে এই ঘটনায় থানায় কোন মামলা আছে কিনা তা ৩ কার্যদিবসে জানাতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এবিষয়ে মামলার বাদি পরছন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি শহর থেকে গ্রামে আসি। বাবার মরদেহের সাথে আমাকে, চাচা করিম, আমান উল্লাহ ও বোন জামাই রুস্তম আলীকে নিয়ে গিয়ে থানায় আটকে রাখে পুলিশ। পরদিন ২৪ আগস্ট ময়নাতদন্ত শেষে বাবার মরদেহটি যখন বাড়িতে দাফনের জন্য নিয়ে আসে, জানতে পেরে ওসি সাহেবকে বলেছি আমাকে বাবার মরদেহ দাফনের সুযোগ দিতে। কিন্তু বাবাকে কবর দেওয়ার পর রাতে আমাকে বাড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। এসময় বাড়ি থেকে পুনরায় আমার সাথে ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম ও চাচাতো ভাই সুমনকে থানায় নিয়ে আসে। এর দুইদিন পর ২৬ আগস্ট অজ্ঞাত আসামি করা একটি মামলার এজহারে সাক্ষর রেখে আমাকে, ছোট সিরাজুল ইসলাম ও বোন জামাই রুস্তম আলীকে থানা থেকে ছাড়েন। এর একদিন পর ২৭ আগস্ট আমাকে ডেকে নিয়ে জিম্মা করে থানা থেকে পুলিশ ছাড়েন চাচাতো ভাই সুমন, চাচা আমান উল্লাহ ও করিমকে। আমার বাবা মারা গেছে অথচ উল্টো আমাকে আমার পিতার দাফন পর্যন্ত করতে দিল না পুলিশ।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএমএন নাজমুল আহমেদ বলেন, থানায় নিয়ে আসা তদন্তেরই অংশ। তাদেরকে থানায় নিয়ে এসে আটক করে রাখা হয়নি। হয়তো আদালতে মামলা করতে একটু লিখছে।

তিনি বলেন, বাদিকে আটক করে রাখলে কিভাবে ময়নাতদন্তের স্থানে গেল? মরদেহ কবর দিতে গেল? যাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল, তাদেরকে বাদির জিম্মায় দেওয়া হয়। তবে তিনি ২৭আগস্ট থানা থেকে ছাড়ার কথা স্বীকার করেন।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, পরছন আলীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় ও আদালতে দুইটি মামলা হয়েছে। তদন্তধীন কোন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

-রাফি/-

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com