পবিত্র রমজান টু পবিত্র ঈদ

নিরব অব্যক্ত পরাজিতের দীর্ঘশ্বাস নয়, আনন্দের ঈদ হোক সকলের

রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪ | ১০:৩৭ অপরাহ্ণ |

নিরব অব্যক্ত পরাজিতের দীর্ঘশ্বাস নয়, আনন্দের ঈদ হোক সকলের
Spread the love

শহরে এখন উপছে পড়া ভীর। ঈদের বাজার জমজমাট। বাজারে নারীদের সংখ্যাই বেশী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদ বাজারে যাতায়াত স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য কিছু রাস্তা ওয়ান ওয়ে করা হয়েছে। ফুটপাত থেকে হকার সরানোর কাজে ব্যতিব্যস্ত পুলিশ। তবুও ভীর ঠেলে চলা দায়। চলমান গাড়ির সাথে এমনকি মানুষের সাথে মানুষের ধাক্কায় বাদানুবাদ ঝগড়া নানা কিছু বাজার ঘুরে দেখ অন্তর। এখন ঈদ বাজারে কারো হাতে দেখা যায় বিলাস বহুল বাজার সম্ভার , কারো হাত খালি। কিছু মানুষ কিছু মানুষের দিকে ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। ঈদ বাজারে পরাজিত ক্রেতার দীর্ঘশ্বাস শোকাশ্রæও ঝড়ে।

অন্তর সুযোগ পেলেই সারাদিন ঘুরে বেড়ায় বাজারে। মানবজীবন দেখা তার শখ। ঘুরাঘুরির মাঝেই অন্তর শুনলো , একজন মহিলা তার স্বামীকে বলছিলেন, “বলেছিলাম না ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পছন্দের কাপড় নেই, সারাদিন বাজার ঘুরে এখন আমার মাথা ঘুরছে কিছুই কিনবো না”, সাথে থাকা স্বামী গোবেচারার মতো, উত্তর দিলেন, “ভিসা পাওয়া যায়নি, আমি কি করব”। অর্থাৎ ঐ স্ত্রী ভারতের ত্রিপুড়া অথবা কলকাতা গিয়ে বাজার করার ইচ্ছাই জানাচ্ছিল।

webnewsdesign.com

অন্তর এবার এলো শহরের বড় শপিং সেন্টারে সেখানে, একজন মহিলা তার দুই গৃহপরিচারিকাকে নিয়ে বাজারে এসেছে। তাদের তিনজনের হাতেই বড় বড় পুটলী। জানা গেল সেই মহিলার স্বামী প্রবাসে থাকে, তাই বাজারও তার বেশী এবং ভারী। আসলে প্রবাসে যারা থাকে তাদের কষ্টার্জিত আয়ে সুখ এসেছে বাংলাদেশে।  এ ছাড়া সরকারও বেতন ভাতাদী সম্প্রসারিত করায় অনেকের ঈদ বাজার হচ্ছে জমজমাট। একজন সরকারী বড় কর্তা বাজারে এসেছেন গাড়িতে সর্তকতা হুইসেল বাজিয়ে , এই হুইসেল এর শব্দে ভীরের মাঝে মাথা ধরে গেছে অন্তরের। কে তিনি দেখতে গিয়ে দেখেন কর্তা নেই গাড়িতে কর্তার স্ত্রী এসেছেন গাড়ির পেছনের ডালাখুলে ঈদ বাজারে পূর্ণ করা হয়েছে গাড়ি, গাড়িতে আসা ঐ ক্রেতা প্রায় দেড় ঘন্টা বাজারে গাড়ি রেখে শপিং করলেন, এসব দেখে একজন টিপ্পনি কাটলো সরকারী আয় তো আছেই তার উপর অপ সিস্টেমের টাকা বাজার তাদেরই ভালো।

শহরের ধনাঢ্য যারা তাঁরা যাকাতের শাড়ী লুঙ্গি কিনছেন, বিভিন্ন স্থানে তা বিতরণও হচ্ছে। অত্যন্ত আশা ব্যঞ্জক এই ধারা এখন গতিময় ঈদ বাজারে।
মাঝারি একটি শপিং সেন্টারে গিয়ে অন্তর দেখলো,  বাজারে এসেছে এক মা ও তার ছেলে । ছেলেটি বেকার টিউশনির আয় দিয়ে চলে তার পরিবারের জীবন জীবিকা। মায়ের জন্য শাড়ি কিনলো একটা, মা তাকিয়ে আছে পুত্রের দিকে, শাড়িটা হাতে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন সবার সামনেই , হাউ মাউ করেই বলছেন , বাবারে তুই শাড়ি দিলি, আমি তো তোকে কিছু দিতে পারছি না। একটা সময় ছিল তোর বাবার আয় ছিল যা চেয়েছিস তা ই দিতে পেরেছি , আর এখন তোর লেখাপড়ার খরচ টাই দিতে পারি না, তার উপর টিউশনির টাকা দিয়ে ঈদের জন্য শাড়ি , কি দরকার ছিল বাবা। আমার তো গতবারের শাড়িটাই আছে ভাঁজ ভাঙ্গিনি, ওটা দিয়েই চালিয়ে নিতে পারতাম। শাড়ি লাগবে না বাবা, তুই একটা কিছ’ নিয়ে নে, তোর জন্য এমনিইতেই অনেক দোয়া করি। অন্তরের মন থেকে অজান্তেরই একটি শব্দ বেরিয়ে এলো “আহারে” মায়েরা বুঝি এমনই হয়। প্রকাশ্য বাজারে মায়ের এই কান্না দেখেছে অনেকে। এই মার্কেটেই এক মহিলা তার ছোট শিশুকে নিয়ে বের হয়েছে ভিক্ষে করতে, এই শিশুটি অন্য শিশুদের দিকে তাকিয়ে থাকে , দেখে সমবয়সী শিশুদের গায়ের নানা রকম কাপড়। শিশুটি একটি দোকানের সামনে ছোট পুতুলের গায়ে একটি কাপড়ে গিয়ে হাত দিতেই দোকানদার লাঠি নিয়ে তাড়া করেছে। মা ছেলেকে বের করে দেয়া হয়েছে অভিজাত মার্কেট থেকে। এই হচ্ছে ঈদ বাজারের খন্ড খন্ড নানা চিত্র , এসব চিত্র কারো চোখে পড়ে, কারো পড়ে না।

সিয়াম সাধনার মাস রমজান, সংযমের মাস রমজান, সহমর্মিতা আর সাম্য শিক্ষার মাস রমজান। এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে আসে পবিত্র ঈদ, এই ঈদের আনন্দ আশা করে ধনী গরীব সবাই । সামতর্র্থ আছে বলেই শুধু নিজের আনন্দ বিলাসিতার বাজর নয়, সবার আনন্দের সচেতনতারও গুরুত্ব রয়েছে মাহে রমজানের শিক্ষায়। খুব বিলাসিতাপূর্ন বাজার না করে ঈদ বাজারের একটি অংশ সমাজের অসার্থবানদের জন্য থাকলে তাতে অন্যরকম আনন্দও পাওয়া যাবে।  সেই মোতাবেক ঈদ বাজারের তালিকায় যারা অসামর্থবান তাদের ভাবনা যদি সকলের মনে থাকে তাতে ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে পড়তে পারে সকলের মাঝে। অন্তরের সাথে দেখা হওয়ায় এই সব নিয়েই কথোপকথন হচ্ছিল। শুধু দুঃখের কথা নয়, আনন্দের কথা ও শুনিয়েছে অন্তর , সে জানাল এই ঈদ বাজারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসএসসির একটি ব্যাচ কাপড় কিনেছে তাদের প্রয়াত বন্ধুদের পরিবারর সদস্যদের জন্য। এছাড়া জানাল, উঠতি বয়সী একদল কিশোর যুবা তারা নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে অস্বচ্ছল শিশু সহ মানুষের জন্য কাপড় সেমাই চিনি ইত্যাদি বাজার করেছে। এসব শুনে ভালো লেগেছে। মানুষ হয়ে মানুষের জন্য ভাবনা মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হওয়া এ যে রমজানেরই শিক্ষা। রমজান টু ঈদ আর ক দিন বাকি, এই সময়ে মানুষের জন্য মানুষের সুন্দর মানসিকতায় ঈদ আনন্দ হোক সবার এই প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com