নিজেদের ভারসম্য হারিয়ে ফেলেছে বিএনপি!

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪ | ১১:২৮ অপরাহ্ণ |

নিজেদের ভারসম্য হারিয়ে ফেলেছে বিএনপি!
Spread the love

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও অংশ না নিয়ে অন্য পথে হেঁটেছে বিএনপি। নির্বাচনের আগে বিএনপিকে একধরনের সামাল দিতে দেখা গেছে বিদেশি কূটনীতিকদের। অথচ বিএনপি নেতৃবৃন্দ একবার বলছেন- বিএনপি বিদেশি শক্তির ওপর ভর করে রাজনীতি করে না। আবার বলছেন- দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করছি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের এই দুটি বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত যে – বিএনপি নিজেদের ভারসম্য হারিয়ে ফেলেছে।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা ও ফাতিহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মঈন খান খান বলেন, ‘বিএনপি’র রাজনীতি কোনো বিদেশি শক্তির অঙ্গুলি হেলনে নয়, যেটা সরকার করতে পারে। আর আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করি, বিদেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতি করি না।’

webnewsdesign.com

আবার গত ১৮ মার্চ ড. আব্দুল মঈন খান দেশের ‘গনতন্ত্র’ পুনুরুদ্ধারে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা বলছেন বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতায় তারা ক্ষমতায় এসেছেন। তাদের কথায়ই প্রতীয়মান হয়, জনগণের ভোটে তারা ক্ষমতায় আসেননি। বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সহযোগিতায় আমরা এ দেশ অল্প সময়ের মধ্যে স্বাধীন করতে পেরেছি। আজ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারেও আমরা বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করছি।’

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২৮ অক্টোবর সমাবেশের নামে বিএনপির সহিংসতা প্রমাণ করেছে যে তারা রাজনীতি থেকে অনেক দূরে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের পতন ও নির্বাচন বানচালের বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার পর দলটির নেতাকর্মীরা বেসামাল ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের কাজের অন্ধ সমালোচনা করা ছাড়া আর কোনো কাজ না থাকায় বিএনপির নেতারা ক্লান্ত ও কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

বিদেশি শক্তির কাছে সহযোগিতা চাওয়া প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘বিএনপির কাছে বন্ধুপ্রতিম দেশের সহযোগিতার অর্থ মানে ক্ষমতায় বসিয়ে দেওয়া। নির্বাচন ছাড়া কেউ ক্ষমতায় বসাতে পারবে না।’

নির্বাচনের পর ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদুত পিটার হাসের সঙ্গে অত্যন্ত নীরবে দেখা করেছেন ড.মঈন খান। সেটিই ছিল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কোন বিএনপি নেতার সঙ্গে পিটার হাসের সাক্ষাৎ। সেখানে কি আলাপ হয়েছে তা না জানালেও পিটার হাস জানিয়েছিলেন – বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে দেখা করে আমি আনন্দিত।

অন্যদিকে ঢাকায় এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয় বিএনপি’র সঙ্গে প্রতিনিধি দলের। বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মাইকেল শিফার, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর এইলিন লাউবেখার ও ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস।

বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পরও হতাশ ছিল বিএনপি। বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে কেউ মুখ খুলেনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের আহবায়ক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, আমরা এসেছি, কথাবার্তা বলেছি। আর কিছু বলার নেই। নির্বাচনের বিষয়ে কোন কথা হয়েছি কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, কথা হয়েছে। কিন্তু আমরা কিছু বলতে চাই না। আপনারা যত প্রশ্ন করবেন, আমার উত্তর হচ্ছে- কিছু বলার নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়ের মতে, বিএনপি আইন-আদালত কোন কিছু মানে না, আর অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ কোন কিছু মানে না। এই মানি না মানি না করতে করতে এখন নিজেদেরই মানছে না বিএনপি। বিএনপি’র রাজনীতি নিয়ে বলা খুব কঠিন না। এটি একটি আত্নহননমনষ্ক দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক তৎপরতা ও দেশের এত মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি যে জনপ্রিয় দল তা প্রমাণে নির্বাচন ছাড়া অন্য তো কোনো পথ খোলা ছিল না। তাহলে বর্জন করে আন্দোলন করলে লাভ কী? ভোটে অংশগ্রহণ না করলে কেউ তো কোনো দলকে ক্ষমতায় বসাতে পারে না। এখন তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে বিএনপি।’

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com