‘না মিশলে বোঝা মুশকিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ আন্তরিকতায় কেমন’ 

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২০ | ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ | 306 বার

‘না মিশলে বোঝা মুশকিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ আন্তরিকতায় কেমন’ 
নিজের হাতে অঙ্কন করা ব্রাহ্মণবাড়িয়া লেখা আসিফ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানালেন বাংলা গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি তার ফেসবুক টাইম লাইনে একটি স্ট্যাটাস দেন। শুধু তা ই নয়, স্ট্যাটাসে নিজে অঙ্কন করা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাম লেখা ও নিজের ছোট ছেলের তুলা ছবিটি স্ট্যাটাসে দিয়েছেন।

কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-


চাঁদপুর কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া একসময় একই জেলা ছিল। এখন স্বতন্ত্র হলেও আমরা একই বৃন্তে তিনটি ফুল হিসেবে বৃহত্তর কুমিল্লাই মানি।শান্তশিষ্ট চাঁদপুরের সাথে অভিভাবক কুমিল্লা এবং ডানপিটে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া পরস্পর সমার্থক। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একসময় যাওয়া আসা ছিল অন্যান্য জেলার চেয়ে একটু বেশীই। আড্ডা কিংবা খেলায় আমার প্রিয় জায়গা।সেখানে জানদার বন্ধুর সংখ্যাও কম নয়।বেড়ে উঠতে উঠতেই দেখেছি তাদের আন্তরিকতা। কঠিন আষাঢ়ীর মত ( কাঁচা তাল) ভিতরে যেমন নরম শাঁস থাকে ওখানকার মানুষ আসলে তেমনই, না মিশলে বোঝা মুশকিল। সব জায়গায় খারাপ ভাল মানুষ আছে।একজন বুজুর্গ হুজুরের জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলা নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার আগে নিজেদের জেলার পূর্বাপর ইতিহাস ঘেটে দেখা উচিত ছিল, সঙ্গে শুদ্ধ বানানটাও জানতে হতো। করোনার কারনে সেই জানাজা নিয়ে আমিও ক্ষোভ নিয়ে লিখেছি তবে শালীনতা বজায় রেখে।

ঘটনার দিন আমার ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধু চপলকে দেখলাম ফেসবুকে উকিল খুঁজছে জেলা নিয়ে তাচ্ছিল্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার ব্যাপারে। পরে দেখি কেইস লিস্টে মারজুক রাসেলের নামও আছে। আমি তাকে ফোন করে বললাম মারজুক এই কাজ জীবনেও করবেনা, এটা ফেক আইডি থেকে করা হয়েছে। সে সঙ্গে সঙ্গে আমার মাধ্যমে মারজুকের কাছে ক্ষমা চেয়েছে অথচ কোন মামলা তখনও হয়নি। এটা একটা ভব্যতার উদাহরন। বাড়ীর মাথা গরম ছেলেটা যখন বুঝে তার কারনে পরিবারের সুনামহানি হতে পারে এবং নিজেকে গুটিয়ে নেয় তখন আমাদেরও বুঝে নিতে হবে কি করা উচিত অনুচিত।দুষ্টামী মজা রসিকতা করতে করতে ঐতিহ্যের অস্তিত্বে হাত পড়ে গেল যা করা দরকার তারাঐক্যবদ্ধ্যভাবে তা করেই বাংলাদেশকে দেখিয়েছে। আমিও বন্ধুদের জংলী বলে ক্ষেপাই তবে দিনশেষে সম্মানের জায়গাটা বোঝার চেষ্টা করি আত্মসম্মান রক্ষার্থে।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস ঐতিহ্য।বাংলাদেশের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই জেলার ভূমিকা নি:সন্দেহে ঈর্ষনীয়।আজ এই করোনা পরিস্থিতিতে মসজিদসহ উপাসনালয় পরিবহন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিছু অফিস ছাড়া সবকিছুই লকডাউন বিধির বাইরে, মনে হয় দেশে ঈদের আনন্দ চলছে।এমনও না যে সেই জানাজার কারনে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় করোনার মহামারী শুরু হয়েছে, তবে ভুল হয়েছে এই বিষয়ে তারাও অনুতপ্ত।এটা নিয়ে খোঁচাতে খোঁচাতে আমরা তাদের ইগোতে হাত দিয়ে দিয়েছি। তারাও দেখিয়ে দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ান জাতীয়তাবাদ কাকে বলে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুস্পষ্ট ঘোষনা দিয়ে দিয়েছে।এরা মিষ্টভাষী আততায়ী নয়, একটু সোজাসাপ্টা মাথাগরম নাগরিক। আমি কুমিল্লাবাসী হিসেবে ইতর শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, তাদের মত গর্জে উঠতে ব্যর্থ।আসুন এভাবে সবাই নিজ নিজ জেলাকে ভালবেসে নিজেদের শুধরে নেই। প্রত্যেক জেলার মানুষের নিজেদের প্রতি ভালবাসা অনুভব শুরু করলে সেগুলো দেশের স্কোরবোর্ডেই যুক্ত হবে। এতে দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য বাড়বে বৈ কমবে না।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়াবাসীর জন্য শুভকামনা…

ভালবাসা অবিরাম…

 

সম্পাদনায়ঃ আবুল হাসনাত মোঃ রাফি 

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com