আপডেট

x

নাসিরনগরে মাদ্রাসার ঘর হজম করলেন সভাপতি,আত্মসাৎ করেন রক্ষিত টাকা

মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২ | ৯:১৮ অপরাহ্ণ | 84 বার

নাসিরনগরে মাদ্রাসার ঘর হজম করলেন সভাপতি,আত্মসাৎ করেন রক্ষিত টাকা
হরিপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসার সভাপতি বকুল মিয়া।-ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একটি মাদ্রাসার কমিটির সভাপতির অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত শেষে উপজেলার হরিপুর সুন্নিয়া মাদ্রসার এডহক কমিটির সভাপতি বকুল মিয়ার দূর্নীতির বিষয়ে উল্লেখ্য করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজহারুর ইসলাম ভূইয়া। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সুপারিশ করা হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার।


এর আগে, মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি বকুল মিয়া ও অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমানের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন মমতাজ মিয়া নামের মাদ্রাসার এক অভিভাবক। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেন ইউএনও।

webnewsdesign.com

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তার দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, এডহক কমিটির সভাপতি বকুল মিয়া যিনি ম্যানেজিং কমিটি-২০০৯ প্রবিধান মালা অনুযায়ী কাষ্টোডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, সেখানে তিনি মাদ্রাসার নামে থাকা চান্দিবাড়ি জলাশয় নিজের নামে মাত্র লীজ করিয়ে নিয়ে মাছ চাষ করে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাদ্রসা।মাদ্রাসার পূর্ব ভিটে থাকা পুরাতন ঘর কোন প্রকার রেজ্যুলেশন ছাড়া বিক্রি করে দুই লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন সভাপতি বকুল৷ এই বিষয়টি মাদ্রাসার সুপার, সহকারী শিক্ষক, দপ্তরী ও নৈশপ্রহরী তদন্ত কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। ২০২২সালে দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফর্ম ফিলাপের ৩১,৮০০/- টাকা ভারপ্রাপ্ত মাদ্রাসা সুপার ও অফিস সহকারীর কাছ থেকে জোরপূর্বক নিয়ে যান সভাপতি বকুল মিয়া। পরবর্তীতে ২১,৫০০/- টাকা ফেরত দিয়ে বাকী টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। ২০২০সালে ভোটার তালিকা নিয়ে সমস্যা থাকায় প্রশাসন মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত করে। এরই আগে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ৮জন প্রার্থীর জামানতের ৮০০০/-টাকা অফিস সহকারী ও মাদ্রাসা সুপারের কাজে রক্ষিত ছিল, সেই টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যান মাদ্রাসার সভাপতি। এছাড়াও আরও নানান অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কর্মকর্তা। তার এসব অনিয়মের সহযোগী ছিল অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমান। তাই তাদের দুজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজহারুর ইসলাম ভূইয়া বলেন, হরিপুর মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তদন্ত কমিটির সামনে তিনি হাজির হননি। তদন্তে আমরা এর সত্যতা পেয়েছি। গত ৩ আগস্ট বিস্তারিত উল্লেখ করে ইউএনও বরাবর প্রতিবেদন ও সুপারিশ দাখিল করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা এডহক কমিটির সভাপতি বকুল মিয়া বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তদন্ত কমিটি আসার আগের রাতে আমাকে জানানো হয়। সময় চেয়েছিলাম, কিন্তু তা দেয়নি। এরআগে কমিটির অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছি।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোনাব্বর হোসেন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানতে পারেছি। আমার টেবিলে এখনো এসে পৌঁছেনি। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তারা।


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com