আপডেট

x

নাসিরনগরে গোখরা সাপের উপদ্রব, সরকারি হাসপাতালে নেই অ্যান্টিভেনাম

শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১ | ৭:১০ অপরাহ্ণ | 121 বার

নাসিরনগরে গোখরা সাপের উপদ্রব, সরকারি হাসপাতালে নেই অ্যান্টিভেনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিষাক্ত গোখরা সাপের উপদ্রবে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলা সদরের বাসিন্দারা জানায়, সড়কে হেটে গেলেই সাপের ছোট ছোট বাচ্চা চোখে পড়ে। এতে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলায় গত ৩ বছর যাবত সাপে কাটার প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনাম) নেই। ফলে সাপের ছোবল দিলে ৩৫ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।


উপজেলা সদরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সুদর্শন নামের এক রাখাল যুবক ৯ নভেম্বর সকালে দত্তপাড়ার একটি মাঠে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি সাপের বাচ্চাকে ইটের স্তূপের ওপর রোদ পোহাতে দেখেন। পরে তিনি দুটি সাপের বাচ্চা মেরে ফেলেন। আবারও গরু নিয়ে একই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আরও তিনটি সাপের বাচ্চা দেখতে পান।
এর একদিন পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন ১১ নভেম্বর উপজেলা সদরে দুজন নারী পথচারী দত্তপাড়ার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পাঁচটি সাপের বাচ্চাকে রাস্তার মাঝখানে ফণা তুলে শব্দ করতে দেখেন। তখন ওই দুই নারীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তিনটি সাপ মেরে ফেলেন। এ সময় অপর দুটি সাপের বাচ্চা পালিয়ে যায়।

webnewsdesign.com

মো. ফাহাদ নামের একজন বলেন, ‘হঠাৎ সাপের এই উপদ্রব আমাদের সবাইকে অনেক আতঙ্কিত করেছে। দত্তবাড়িতে আমাদের ১৭-১৮ বছর ধরে চলাফেরা। আগে কখনোই আমাদের নজরে এমন বিষধর সাপ চোখে পড়েনি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাপের ছবি দেখে জানান,’ এটি গোখরা প্রজাতির সাপ। এর নাম মনোকলড কোবরা বা কেউটে সাপ বা গোক্ষুর বা গোখরা সাপ। এই ধরনের সাপ সাধারণত ৫-৮ ফুট লম্বা হয়। জলাভূমিতে এসব সাপ থাকে’। তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের সাপ দংশন করলে কোনো ওঝার কাছে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে যাওয়া উচিত। এই সাপ কামড় দিলে সাধারণত শ্বাসকষ্ট থেকে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে’।

এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. অভিজিৎ রায় জানান, হাসপাতালে সাপে কাটা তেমন রোগী আসে না। মাসে ১/২জন আসে। তিনি আরও বলেন, আমি যোগদানের আগে থেকে গত ৩ বছর যাবত উপজেলায় অ্যান্টিভেনাম নেই। আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি, আশা করছি দ্রুত এগুলো পেয়ে যাব।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হালিমা খাতুন বলেন, সাপের উপদ্রব করা স্থানে লোকজন জাল বিছিয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী জেলা হবিগঞ্জ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখানে থেকে বিকেলে কয়েকজন এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, সাপগুলো দৃশ্যমান নয় এবং এক জায়গায় থাকে না। এখন কিছু করতে গেলে সাপ পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে।


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com