দুর্যোগের ঢাল সরকারের বিশাল স্বেচ্ছাসেবক দল

রবিবার, ২৬ মে ২০২৪ | ১১:০৫ অপরাহ্ণ |

দুর্যোগের ঢাল সরকারের বিশাল স্বেচ্ছাসেবক দল
ফাইল ছবি
Spread the love

প্রতি বছর একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশসহ এই এলাকার দেশগুলোতে উপস্থিত হয়। গত ১০ বছরে বড় বন্যা, ঘুর্ণিঝড় একের পর এক আঘাত হানলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে সে এলাকার মানুষ। এই ঘুরে দাঁড়ানোর পিছনে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা যেমন আছে তেমনই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকদের অবদানও আছে। বাংলাদেশে সরকার গত এক যুগে সেই স্বেচ্ছাসেবকদের তৈরি করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ মোংলার কাছ দিয়ে বাংলাদেশের পটুয়াখালীর খেপুপাড়া উপকূল এবং পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে রিমাল। এরই মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এরইমধ্যে ৮ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

webnewsdesign.com

কী হবে, কতটুকু ক্ষতি হতে চলেছে সে আলোচনার মধ্যেই ভরসার জায়গা বাংলাদেশের প্রায় ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও উপকূলে ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র। সরকারি হিসেব বলছে, বর্তমানে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচিতে (সিপিপি) প্রায় ৮০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। তাঁদের অর্ধেকই নারী। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ফলে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

যেকোন পরিস্থিতিতে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া নিশ্চিত করা, ত্রাণ সহায়তা দিতে সহযোগিতা করার মতো বিষয়গুলো স্বেচ্ছাসেবকরা সুনিপুনভাবে করতে শিখেছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণও আছে।

তেমনই একজন স্বেচ্ছাসেবক তার প্রস্তুতি বিষয় জানতে চাইলে বলেন, ‘গত শুক্রবার থেকে আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এই উপকূলের মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে, তাদের কাছে ঝড়ের তথ্য পৌঁছে দেওয়া, তাদের কী কী প্রস্তুতি রাখা দরকার সেগুলো নিয়ে তথ্য দেওয়ার কাজগুলো আমরা করি।’

এদিকে ঘুর্ণিঝড়ের খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজার চট্টগ্রাম বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনা এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতির কাজ শেষ করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুতির তথ্য শোনার পর সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি হোটেল-মোটেল জোনও যেন প্রয়োজন মোতাবেক দুর্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়ায় সেই অনুরোধ করেন। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে, ফায়ার সার্ভিসকে জরুরি রেসকিউর জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাহাড়ধস এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে মানুষজনকে সরিয়ে আনার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো উপকূল এলাকায় ৬৩৮টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও খাবার এবং খিচুড়ির ব্যবস্থা করতে পৌরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় শনিবার রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বরগুনায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

রাঙামাটিতে ভূমিধসের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের সাথে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাও হয়েছে। ইতিমধ্যে মাইকিং শুরু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। রাঙামাটি শহরে ২৯টিসহ জেলায় মোট ৩২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। শনিবার (২৫ মে) বিকালে অনলাইনে জরুরি বৈঠক করে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনা দেন অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। এ সময় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ১১টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। অধিদফতরের সভার নথি থেকে জানা যায়, সভার শুরুতে মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদফতর ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রিক প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় চাহিদার ব্যাপারে জানতে চান। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের প্রস্তুতির ব্যাপারে মহাপরিচালককে অবগত করেন।

দুর্গত মানুষের পাশে থাকতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করার পাশাপাশি, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সেনাবাহিনী যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসও প্রস্তুত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com