ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু

ডিউক সহ তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা,কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১:৫৯ পিএম | 3168 বার

ডিউক সহ তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা,কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহরের খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায়’ নওশিন আহম্মেদ দিয়া (২৯) নামে এক প্রসুতির মৃত্যুর অভিযােগ এনে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নওশিন আহম্মেদ দিয়া শহরের ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন।

মামলার পর ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জেলা শহরের শেরপুর কবরস্থান থেকে দিয়ার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদের মরদেহের সুতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এসময় সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নারায়ণ চন্দ্র দাস ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিরিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মৃত দিয়ার বাবা শিহাব আহম্মেদ গেদু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মুন্সেফপাড়ার খ্রীস্টিয়ান মেমারিয়াল হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী ডা. ডিউক চৌধুরী ও তার ক্লিনিকের দুই চিকিৎসক অরুনেশ্বর পাল এবং মাে. শাহাদাৎ হােসেন রাসেল।

আসামিরা দিয়ার মৃত্যুর পর তার মুখে অক্সিজেন লাগিয়ে দ্রুত ঢাকার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল বলে অভিযাগ করা হয়েছে। পরবর্তীত ঢাকার হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান দিয়া কয়েক ঘণ্টা আগেই মারা গেছেন।

আদালতর বিচারক অভিযােগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি সদর মডেল থানা নথিভুক্ত করে। পরে আদালতের নির্দেশে শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য দিয়ার মরদেহ কবর থেকে উত্তােলন করা হয়।

এসময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ বলেন, আদালতে নির্দেশ মরদেহ উত্তোলনের জন্য আমরা কবরস্থানে এসেছি। মরদেহটি উত্তোলনের পর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি প্রেরণ করা হয়েছে।মা

মলার এজাহার বলা হয়, শহরের মুন্সফপাড়ার ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেনের স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা নওশিন আহম্মেদ দিয়া প্রসব বেদনা নিয়ে গত ৩০ অক্টােবর খ্রীস্টিয়ান মেমােরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সিজারিয়ানে তার আগাম প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। অস্ত্রােপচারের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু পুরাপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই দিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ায় হাসপাতালের পাশ্ববর্তী এলাকায় তার স্বামীর বাড়িতে নেয়া হয় তাকে। ৪ নভেম্বর ভােরে দিয়ার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা শুরু হলে তাকে আবারও খ্রীস্টিয়ান মেমারিয়াল হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী ডিউক চৌধুরী ও চিকিৎসক অরুনেশ্বর পাল অভি এবং মাে. শাহাদাত হােসেন রাসেল ‘ভুল ইনজকশন এবং ঔষধ’ প্রয়ােগ করার পর দিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

এজহারে আরও বলা হয়, দিয়ার অজ্ঞান হওয়ার বিষয়টি গােপন করে চিকিৎসার নামে সময় ক্ষেপন করতে থাকেন তারা। এ সময় দিয়ার স্বজনরা মেডিসিনের অভিজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকতে বললে ডিউক ও বাকি দুই চিকিৎসক চুপ থাকেন। এক পর্যায়ে দিয়ার মৃত্যু হলেও তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে ওইদিন দুপুর একটার দিকে দ্রুত ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন। এ্যাম্বুলেন্সে করে দিয়াকে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে পৌঁছানাের পর সেখান চিকিৎসকরা কয়েক ঘণ্টা আগেই দিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।
এবিষয়ে স্বপরিবারে দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণে মামলার ব্যাপারে ডা. ডিউক চৌধুরীর কােনা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডল থানা পুলিশর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশ মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তােলন করা হয়।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com