আপডেট

x

জারজ সন্তান সন্দেহে শিশু সাইমনকে গলাকেটে হত্যা করে পিতা বাদল

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১ | ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | 216 বার

জারজ সন্তান সন্দেহে শিশু সাইমনকে গলাকেটে হত্যা করে পিতা বাদল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯বছরের শিশু সাইমনকে পিতা নিজেই জমিতে গলাকেটে হত্যা করে লাশ ফেলে যায়। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়ায় জমিতে থেকে শিশু সাইমনের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা বাদল মিয়া (৩০) রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদতের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়ার আবুল কালামের ছেলে বাদল মিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম।


ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজি মাসুদ ইবনে আনোয়ার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক অবস্থা অনুযায়ী ভিকটিমের পিতা বাদল মিয়াকে পুলিশের সন্দেহ হয়। শনিবার রাতে তাকে আমরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রথমে সে টালবাহানা করলেও পরে বাদল মিয়া হত্যার কথা স্বীকার করেন।

webnewsdesign.com

এই সংক্রান্ত আরও সংবাদব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমিতে মিললো শিশুর গলাকাটা মরদেহ

আদালতে স্বীকারোক্তিতে বাদল মিয়া জানান, ২০০৫সালে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে চলে যায়। ২০১২সালে ৫মাসের ছুটি নিয়ে সে দেশে আসেন। দেশে আসার পর তার মা মামাতো বোন মিলি বেগমকে বিয়ে করান। বিয়ের একসপ্তাহ পর মিলি জানায় বাসায় মৌলভী বজলু মিয়া নামের একজন মেহমান আসবেন। কিন্তু সেই মৌলভী মেহমানটি কে জিজ্ঞাস করলে প্রথমে জানায় আত্মীয়, পরে আবার জানায়। বাদল খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন স্ত্রী মিলির সাথে মৌলভী বজলুর সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের মাঝে মনোমালিন্য হয়। এর কিছুদিন পর বাদলের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে আসলে সে সৌদি আরব চলে যায়। সৌদি আরব যাওয়া দেড় মাস পর বাদল জানতে পারে তার স্ত্রী ৯মাস ১০দিনের অন্তঃসত্ত্বা। এর কিছুদিন পর বাদল জানতে পারে তার স্ত্রীর ঘরে পুত্র সন্তান হয়েছে। এতো দ্রুত কিভাবে তার স্ত্রী সন্তানের মা হলেন, সে কিছুতেই মেলাতে পারছিলেন না। সে বছর দেড়েক পর দেশে আসে। বাদল তার নানীকে জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, বাদল যতদিন দেশে ছিলেন, এই সময় এতদ্রুত সন্তানে মা হওয়া সম্ভব না। পাশাপাশি তার নানী জানায় বাদলের স্ত্রীর জন্ম দেওয়া শিশুটি সাইমন মৌলভী বজলু মিয়ার চেহারার মিল রয়েছে, বাদল মিয়ার চেহারা পায়নি। এরপর থেকেই বাদল ও মিলির সংসারে মনোমালিন্য প্রায় হতো। বাদল প্রবাস থেকে কয়েক বছর পর পর দেশে আসতেন। গত দেড়-দুই বছর আগে বাদল স্থায়ীভাবে দেশে ফেরে আর প্রবাসে যাননি। তাদের ঘরে সাইমন (৯) ছাড়াও আইমান (৬) ও নাইম (৪) বছরের আরও দুই ছেলে রয়েছে। তবে বাদলের দাবি সাইমন তার সন্তান নয়, আইমান ও নাঈম তার সন্তান। আইমান ও নাঈমকে সাইমন প্রায় সময় মারধর করে। এনিয়ে বাদল মিয়ার ভেতরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে সাইমন মারধর করে আইমান ও নাঈমকে। এরপরই বাদল মিয়া সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রীর জারজ সন্তান সাইমন তার নিজের দুই ছেলেকে মারধর করে, তাই সাইমনকে সে মেরে ফেলবে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার সকালে সাইমনকে ঘাস কাটার কথা বলে জমিতে নিয়ে যায় বাদল মিয়া। সেখানে বগা কাচি দিয়ে সাইমনের গলাকেটে হত্যা করে বাদল মিয়া।

পরিদর্শক (তদন্ত) আরও বলেন, পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর থেকেই তদন্তে নামে। সন্দেহভাজন বাদল মিয়াকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে প্রথমে কোন অবস্থাতেই মুখ খুলছিল না। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাদল তার ছেলেকে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। রোববার বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বাদল মিয়া। এই ঘটনায় বাদলের স্ত্রী মিলি বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

রাফি/-


মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com