জনগণ অংশ নিলেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট ২০২৩ | ৭:৪৩ অপরাহ্ণ |

জনগণ অংশ নিলেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী
Spread the love

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারে সেটাই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কে ভোটে এলো, কে এলো না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে জনগণ ভালো পরিবেশে ভোট দিয়েছে, আগামীতে ভালোভাবে ভোট দিতে পারবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

webnewsdesign.com

সরকারপ্রধান বলেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক বলতে কাদের অংশগ্রহণ? ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট গেনেড হামলাকারীদের অংশগ্রহণ? তারা তো সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ৩০টি আসন পেয়েছিল। এরপর থেকে তারা কোনো নির্বাচনে আসেনি। তারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। এই দলটি নির্বাচনের আগে দুর্নীতি করে, কিছু টাকা যাবে গুলশানে, কিছু যাবে হাওয়া ভবনে, বাকিটা যাবে লন্ডনে। নির্বাচনে নিজেরা নিজেরা মারামারি করবে, বলবে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না। জিততে না পারলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতো উন্নয়নের পর জনগণকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী চায়। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি, কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। যা কিছু করেছি, সব তো জনগণের কাজে লাগছে। সবই তো জনগণ ভোগ করছে। ১৪ বছরের মধ্যে দেশকে কোথায় নিয়ে এসেছি, সেটাও দেখতে হবে। টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে দেশের দ্রুত একটি পরিবর্তন আনা সহজ হয়েছে।

ব্রিকসের সদস্য পদ প্রসঙ্গে বলেন, এবারই ব্রিকসের সদস্যপদ পেতে হবে এমন কোনো চেষ্টা বাংলাদেশের ছিল না এবং বাংলাদেশ কাউকে সেটা বলেওনি। চাইলে পাব না সেই অবস্থাটা আর নাই। কিন্তু প্রত্যেক কাজটারই একটা নিয়ম থাকে, আমরা সেই নিয়ম মেনেই চলি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ হল, তখন আমন্ত্রণ জানালেন, ব্রিকস সম্মেলন করবে, আমাকে আসতে বললেন এবং সে সময় আমাকে জানালেন যে, তারা কিছু সদস্যপদ বাড়াবেনও এবং সেটাতে আমার মতামত জানতে চাইলেন। আমি বললাম যে, এটা খুবই ভালো হবে। কারণ ব্রিকস যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন থেকে এই পাঁচটা দেশের সরকারের প্রধানের সঙ্গে আমার যোগাযোগ সবসময় ছিল এবং আছে।

বিরোধীদলের সমালোচনার জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি, এই ইস্যুটা আসবে বা আমাদের অপজিশান থেকে খুব হুতাশ, যে আমরা নাকি চেয়েছি, পাইনি। তারা বলতে পারে, কারণ তারা বিএনপির আমলে ওইটাই ছিল। বাংলাদেশের কোনো অবস্থানই ছিল না সারাবিশ্বে। বাংলাদেশ মানেই ছিল দুর্ভিক্ষের দেশ, ঝড়ের দেশ, বন্যার দেশ, হাত পেতে চলার দেশ, ভিক্ষা চাওয়ার দেশ। এখন অন্তত বাংলাদেশ ভিক্ষা চাওয়ার দেশ না, এটা সবাই জানে।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূসকে নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন দেশের বিবৃতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আত্মবিশ্বাস থাকলে ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক বিবৃতি ভিক্ষা করে বেড়াতেন না। সরকার কোনো বিবৃতিতে প্রভাবিত হবে না। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা আইন অনুযায়ী চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিবৃতি দিয়ে তার বিচার স্থগিত করতে বলেছেন তাদের বলছি, বিবৃতি না দিয়ে আইনজীবী পাঠাক। এক্সপার্টরা দেখুক, অনেক কিছু পাবেন। আমাদের দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সবকিছুই আইনমতো চলে। কেউ যদি ট্যাক্স (কর) না দেয় আর যদি শ্রমিকের অর্থ আত্নসাৎ করে, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যদি মামলা করা হয়… আমাদের কি সেখানে হাত আছে যে মামলা বন্ধ করে দেবো?

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, সিন্ডিকেট করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। সিন্ডিকেট ভাঙ্গা যাবে না, এটা হতে পারে না। প্রয়োজনে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেবো।

দেশের বাজারে ডিমের দাম কমলে, তা সেদ্ধ করে ফ্রিজে সংরক্ষণের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যখন দাম কমবে, তখন ডিম সেদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দেবেন। তাহলে বহুদিন ভালো থাকবে।

সর্বজনীন পেনশন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা পেনশন পান। তাই সব মানুষের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে বৃদ্ধ বয়সে উপকারে আসে। ভালো কাজ নিয়ে সব সময় সমালোচনা করা হয়। যারা ভ্যাক্সিন নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছিলেন তারা সবাই টিকা নিয়েছন। যারা সার্বজনীন পেনশন নিয়ে নীতিবাচক প্রচারণা চালাবেন তারাও এই পেনশন স্কিমে যোগ দিবেন।

দেশবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, সর্বজনীন পেনশনের টাকা জমা হয় সরকারি কোষাগারে। কেউ সেই টাকা নয়-ছয় করার সুযোগ পাবে না।

১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ২২ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট ও ব্রিকস চেয়ার সিরিল রামাফোসার আমন্ত্রণে এই সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। চার দিনের সফর শেষে রোববার দেশে ফেরেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Development by: webnewsdesign.com